২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নোমোফোবিয়া’তে ভুগছেন না তো?

মোবাইল ফোন ছাড়া ঘুমাতেও যেতে পারেন না- হতে পারে এটা মনোব্যধির লক্ষণ।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 06:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

ফোনটা হাতের কাছে না থাকলেই মনে হয় যেন পুরো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন? চার্জ শেষ হওয়ার আগে বারবার চার্জার খুঁজছেন? নেটওয়ার্ক না পেলে অস্থির হয়ে উঠছেন? রাতে ঘুমের আগে ফোন বন্ধ করতে গেলে বুক ধড়ফড় করছে?

এসব অনুভূতি হলে জেনে রাখুন, আপনি একা নন। এটাই আধুনিক জীবনের নতুন ভয়— ‘নোমোফোবিয়া’ বা ‘নো মোবাইল ফোন ফোবিয়া’।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “নোমোফোবিয়া’ হল- মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন কাছে না থাকা, চার্জ শেষ হওয়া, নেটওয়ার্ক না থাকা বা ফোন ব্যবহার করতে না পারার কারণে চরম উদ্বেগ ও ভীতি। এটি একটি আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যা প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে জন্ম নেয়।”

‘নোমোফোবিয়া’র লক্ষণগুলো খুব স্পষ্ট। ফোন কাছে না থাকলে তীব্র অস্বস্তি বা অস্থিরতা শুরু হয়। অনেকে সারাক্ষণ ফোন হাতে রাখেন, এমনকি ঘুমের মাঝেও বারবার দেখেন কোনো বার্তা এসেছে কি-না।

ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেলে ‘প্যানিক অ্যাটাক’য়ের মতো অবস্থা হয়। নেটওয়ার্ক না পেলে বা ডেটা শেষ হয়ে গেলে মনে হয় যেন পুরো দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন।

খাবার খাওয়ার সময়ও ফোন হাতছাড়া করা যায় না। বাথরুমেও ফোন সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। ফোন বন্ধ করার কথা ভাবলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়।

“এই লক্ষণগুলো যদি থাকে, তাহলে আপনি নোমোফোবিয়া’তে আক্রান্ত” বলেন ডা. দিনা।

যে কারণে হয় নোমোফোবিয়া

এর পেছনে প্রধান কারণ অতিরিক্ত আসক্তি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গেইমস, মেসেজিং— এসবের প্রতি তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়। ফোনটা যেন আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় কাজ করে। অনেকে মনে করেন— ফোন না থাকলে পরিবার, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে যাবে।

ডা. দিনা বলেন, “এই ভয় থেকে ফোন সারাক্ষণ চালু রাখা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকে ঘুমের মাঝেও ফোন বন্ধ করেন না। ফোন বন্ধ করার কথা ভাবলেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়।”

এর প্রভাব কী

‘নোমোফোবিয়া’ শুধু মানসিক অস্থিরতা নয়— শারীরিক ক্ষতিও করে। ঘুমের ব্যাঘাত হয়, মনোযোগ কমে যায়, উদ্বেগ বাড়ে। অনেকে রাতে ফোন হাতে নিয়ে ঘুমান, যা ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে।

দিনের বেলায় কাজে মন বসে না। সামাজিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাস্তব জগতের চেয়ে ভার্চুয়াল জগতকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন এভাবে কাটালে উচ্চ রক্তচাপ, হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা— এসব দেখা দিতে পারে।

মুক্তির উপায়

ডা. দিনা বলেন, “ভালো খবর হল— ‘নোমোফোবিয়া’ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ফোন ব্যবহারের সময় কমানো।”

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেইশন বন্ধ করতে হবে।

প্রতিদিনের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যেতে পারে— যে সময়ের বাইরে ফোন ব্যবহার করবেন না।

সময় দেখার জন্য হাতঘড়ি ব্যবহার শুরু করা যায়। বই পড়া, ব্যায়াম, বাইরে ঘোরাঘুরি— এসব শখ তৈরি করা উপকারী।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো একটা ভালো উপায়।

“ডিজিটাল ডিটক্স’ করা যেতে পারে— যেমন সপ্তাহের একদিন বা কয়েক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করা। প্রয়োজণীয় কথা বলা ছাড়া ফোন ধরা যাবে না।

সমস্যা প্রকট হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন, এই মনোচিকিৎসক।

আরও পড়ুন

টয়লেটে ফোন ব্যবহার থেকে অর্শরোগের ঝুঁকি

মনোযোগ হারানোর কারণ কি ফোন! না কি আপনি নিজেই?

অল্প বয়সিদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়াতে ক্ষতি