Published : 20 Jan 2026, 01:56 PM
উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন নির্ধারণ করা অনেকেরই আগ্রহের বিষয়। তবে এটি নির্ধারণে সাধারণত ব্যবহৃত হয় দেহ–ভর সূচক বা ‘বডি ম্যাস ইনডেক্স (বিএমআই)’।
তবে বিএমআই কি সত্যিই স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ছবি দেয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘না’।
এটি ওজনের একটি ধারণা দিলেও শরীরের চর্বি ও পেশির পার্থক্য বা চর্বির বণ্টন বিবেচনা করে না। ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন এ বিষয়ে জানান, বিএমআই শরীরের পুরো ছবি তুলে ধরতে পারে না। বিশেষ করে পেশিবহুল ব্যক্তি বা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এটি ভুল ধারণা দিতে পারে।
২০২৫ সালে ‘দ্য ল্যানসেট ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি’তে প্রকাশিত একটি কমিশন রিপোর্টে বিএমআইয়ের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বিএমআইয়ের ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নির্ধারণ করলে ভুল হতে পারে। এর পরিবর্তে কোমরের পরিধি, কোমর ও নিম্নাঙ্গের অনুপাত বা শরীরে চর্বির শতাংশ মাপার মতো পরিমাপকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এছাড়া খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, বংশগতি ও জীবনযাপনের অন্যান্য দিকও বিবেচনায় নিতে হবে।
বিএমআই হিসাব করার পদ্ধতি
বিএমআই হিসাব করতে ওজনকে কিলোগ্রামে নিয়ে উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করতে হয়।
সূত্র: বিএমআই= ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা (মিটার)²।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুসারে:
তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, এ হিসাব পেশি ও চর্বির পার্থক্য করে না। ফলে একজন পেশিবহুল ব্যক্তির বিএমআই বেশি দেখাতে পারে, অথচ তার চর্বি কম।
আবার কারও বিএমআই আদর্শ হলেও পেটে অতিরিক্ত চর্বি থাকতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়ায়।
বিএমআই’য়ের পরিপূরক পরিমাপকগুলো
স্বাস্থ্যের সঠিক ছবি পেতে বিএমআই’য়ের পাশাপাশি নিম্নলিখিত পরিমাপ করা উচিত:
কোমরের পরিধি — নাভির ওপরে মেপে পেটের চর্বির পরিমাণ জানা যায়, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে।
এছাড়া রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাও জরুরি।
তবু উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজনের একটি ধারণা
যদিও আদর্শ ওজন নির্ধারণে বংশগতি, জীবনযাপন ও শারীরিক গঠনের ভূমিকা বড়, তবু বিএমআই (১৮.৫–২৪.৯) অনুসারে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়:
এ হিসাব কেবল প্রাথমিক। সঠিক মূল্যায়নের জন্য অন্যান্য পরিমাপের সমন্বয় প্রয়োজন।
চিকিৎসকের পরামর্শ যখন নেবেন
এই তথ্যগুলো সাধারণ জ্ঞানের জন্য। ওজন ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
তিনি আপনার জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, বংশগতি ইত্যাদি বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।
আরও পড়ুন
ওজন কমানোর লক্ষ্য ভ্রষ্ট করতে পারে ‘ডায়েট’ খাবার