Published : 23 Jun 2026, 06:17 PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থা কতটা ‘খারাপ’, তা বোঝাতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় চার মাস হয়ে গেলেও তিনি কোনো ‘কূল-কিনারা’ পাচ্ছেন না।
উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় কথা বলছিলেন তিনি।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাঈদ আল নোমান এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। অচল অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ৬৫ হাজার ৫০০ প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে ৫০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব পদ কি ২০২৬ সালে হয়েছে? নাকি এত শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন?”
২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির মামলার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “মামলাটা খুব সিম্পল, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে হেডমাস্টার বানানো হবে। ২৮৭ জন আত্তীকরণকৃত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বললেন, ‘আমাদেরকেও একই অভিজ্ঞতায় নিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক’।
“২৮৭ জনকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে আপনি ৩২ হাজার ৫০০ স্কুলকে খালি রাখলেন। ২৮৭ জনকে যদি আপনি মনে করতেন মানহীন, পিটিআই আছে, সেখানে ট্রেনিং-এ পাঠিয়ে দেন। আপনি আপডেট করতে পারতেন না? চ্যালেঞ্জ করলেন, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া আর হল না।”
বিভিন্ন কলেজে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, “যে কোন স্কুল কলেজ থেকে এসে বলে অনার্স দেন। সংসদ সদস্যরা এসে বলে অনার্স দেন। সাবজেক্ট কী? সাইকোলজি, ফিলোসফি, হিস্ট্রি, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচারস। এই চার পাঁচটা বিষয়ের বাইরে কোনো বিষয় তারা খুলবে না।
“আমার এখন ৫৬টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তারপরও আমাকে এই বিষয়গুলো কলেজে কলেজে কেন খুলতে হবে?”
সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যরা শুধু আমাদের কাছে আসেন এই ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে, জেলা লেভেলে ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে এবং অনার্স কলেজ দিতে হবে এবং কলেজগুলোকে সরকারি বানাতে হবে। কিন্তু একজনও এসে বলেন না, আমার এলাকায় প্রাথমিক স্কুলগুলো সুন্দর নেই। প্রাথমিক স্কুলগুলো সরকারি করেন, এটা বলছেন না।”
বাংলাদেশে বর্তমানে স্কুল-কলেজ তৈরি করা ‘অনেকের কাছেই ব্যবসা’ বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার মাসে নূন্যতম চার লাখ টাকা দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি স্কুলে চার লাখ টাকা করে বছরে ৪৮ লাখ দিচ্ছে সরকার। তারপরও একটি ছাত্র পরীক্ষা দেবে না এবং একশ শতাংশ ফেল করবে এটা কি হতে পারে? সরকারের টাকার জবাবদিহিতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েরা পড়ছে না, তো সরকার কেন জরিমানা দেবে?”
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ, ৯ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্ন প্রণয়ন এবং পরীক্ষার্থীদের খাতা দেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের আন্তরিক হওয়ার কথাও বলেন।