মেইকআপ না তুলেই ঘুম? ত্বকের পাশাপাশি চোখেরও ক্ষতি হতে পারে
চোখের মেইকআপ তুলতে সাধারণ কিছু বিষয়ে ওপর নজর দিতে হয়।
বিছানায় যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করার কথা মনে থাকলেও ক্লান্তির কাছে অনেক সময় হার মানতে হয়। চোখের কাজল, মাসকারা বা মুখের মেইকআপ, সব নিয়েই চোখে ঘুম নেমে আসে কখনও কখনও।
আর এর ফল হিসেবে সকালে উঠে মুখে ব্রণ বা ত্বকে আসে মলিনভাব।
তবে মেইকআপ না তুলে ঘুমানোর ঝুঁকি শুধু ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চোখের পাতার নিচে জমে যেতে পারে প্রসাধনীর ক্ষুদ্র কণা।
“সেখান থেকে চোখে অস্বস্তি, প্রদাহ, এমনকি সংক্রমণের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে”, বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপচর্চাকর শারমিন কচি।
চোখের পাতার নিচে জমতে পারে প্রসাধনীর কণা
চোখের মেইকআপে ব্যবহৃত মাসকারা, আইলাইনার, কাজল বা ঝিলমিলে আইশ্যাডো প্রসাধনীর কিছু অংশ সময়ের সঙ্গে শুকিয়ে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হতে পারে।
ঘুমের মধ্যে চোখের পাতা নড়াচড়া করলে এসব কণা চোখের ভেতরে বা পাতার নিচে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে চোখে খচখচে অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা লালচেভাব দেখা দিতে পারে।
মেইকআপ না তুলে ঘুমালে প্রসাধনীর ক্ষুদ্র কণা চোখের পাতার নিচে আটকে যেতে পারে। এতে চোখে জ্বালাপোড়া তৈরি হওয়ার পাশাপাশি চোখের বাইরের স্বচ্ছ আবরণেও আঁচড় লাগতে পারে।
এমন ক্ষত থেকে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। অর্থাৎ সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ লাল হওয়া বা অস্বস্তি অনুভব করাকে সব সময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া কোনও ভাবেই ঠিক নয়।
শুধু ব্রণ নয়, চোখেও হতে পারে সমস্যা
মেইকআপ না তুলে ঘুমানোর কথা উঠলে সাধারণত প্রথমেই ত্বকের ক্ষতির বিষয়টি মনে করা হয়। কারণ মুখে জমে থাকা ধুলো, ঘাম, তেল, সানস্ক্রিন ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে।
ফলে ব্রণ, ছোট ছোট দানা বা ত্বকে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ত্বকে এসব উপাদান জমতে থাকলে ত্বক স্বাভাবিকভাবে নিজেকে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগও কম পায়।
তবে এক্ষেত্রে চোখের ক্ষতির বিষয়টি তুলনামূলক কম ভাবা হয়। বিশেষ করে চোখের পাতার কাছাকাছি ব্যবহার করা প্রসাধনী ঘুমের সময় সহজেই চোখের ভেতরে চলে যেতে পারে।
“মাসকারা বা চোখের পাতায় লাগানো ঝিলমিলে গ্লিটার প্রসাধনীর কণা সেখানে আটকে থাকলে অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে”, মন্ত্যব করেন এই রূপ-বিশারদ।
চোখ লাল হলে অবহেলা নয়
চোখে প্রসাধনীর কণা ঢুকলে প্রথমে হালকা অস্বস্তি বা খচখচে ভাব হতে পারে। কখনও চোখ লাল হয়ে যায়, পানি পড়ে বা আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়।
চোখের ওপরের স্বচ্ছ আবরণে আঁচড় লাগলে ব্যথা ও সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে চোখ ঘষাঘষি করা উচিত নয়। এতে চোখের পৃষ্ঠে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব, অতিরিক্ত লালচেভাব বা আলোতে অস্বস্তি হলে দ্রুত চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আবার নিজের সিদ্ধান্তে চোখে কোনও ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার করাও উচিত না।
মেইকআপ তোলার সঠিক অভ্যাস
দিন শেষে বাড়ি ফিরে পোশাক পরিবর্তনের সময়ই মুখ পরিষ্কারের কাজটি সেরে নেওয়া যেতে পারে। এতে ঘুমানোর ঠিক আগে ক্লান্তির কারণে মেইকআপ না তোলার প্রবণতা কমবে।
চোখের জন্য উপযোগী প্রসাধনী পরিষ্কারক বা মেইকআপ রিমুভার ব্যবহার করে আলতোভাবে কাজল, মাসকারা ও আইলাইনার তুলে ফেলতে হবে।
“চোখের পাতায় জোরে ঘষা বা টান দেওয়া ঠিক নয়”, বলেন শারমিন কচি।
চোখের মেইকআপ পরিষ্কারের পর ধুলোবালি, তেল, সানস্ক্রিন ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ দূর করতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু পরিষ্কারক ব্যবহার করা যায়।
আর ভারী বা দীর্ঘস্থায়ী মেইকআপ ব্যবহার করলে প্রয়োজনে প্রথমে তেলভিত্তিক পরিষ্কারক দিয়ে প্রসাধনী আলগা করে পরে মুখ মুছে নেওয়া উচিত। তবে কোনও পরিষ্কারক চোখের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
শুধু ভেজা কাপড় দিয়ে মুছলেই কি যথেষ্ট?
অনেকেই ক্লান্ত অবস্থায় মুখ মোছার কাপড় বা ভেজা টিস্যু দিয়ে কয়েকবার মুখ মুছেই ঘুমিয়ে পড়েন। এতে ওপরের কিছু প্রসাধনী উঠে গেলেও চোখের পাতার গোড়া, নাকের পাশ বা ত্বকের ভাঁজে অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে।
বিশেষ করে মাসকারা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রসাধনী সহজে পুরোপুরি পরিষ্কার হয় না। তাই শুধু একবার মুছে নেওয়াকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার বিকল্প ভাবা ঠিক নয়।
পরিষ্কার করার সময় ব্যবহৃত তুলা, মাইক্রোফাইবার কাপড় বা টিস্যুও পরিষ্কার হওয়া দরকার।
চোখের এক পাশ পরিষ্কারের পর একই ময়লাযুক্ত অংশ দিয়ে বারবার ঘষলে প্রসাধনী আবার চোখের আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
“তাই ধীরে, সতর্কভাবে এবং প্রয়োজনমতো পরিষ্কার উপকরণ ব্যবহার করতে হবে”, পরামর্শ দেন শারমিন কচি।
