সকাল সকাল ত্বকের যত্ন
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হলেও ত্বকের সতেজতা ধরে রাখতে যত্নের প্রয়োজন হয়।
সকালে পরিবেশ নির্মল থাকলেও ত্বকটা যেন একটু নিস্তেজ, শুষ্ক বা ক্লান্ত দেখায়।
ত্বকের ধরন বুঝে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে সহজেই দিনের শুরুতে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, "সকালের যত্নে মুখ পরিষ্কার করা, আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ঘুম, খাবার, পানি ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখে।"
প্রথমেই মুখ পরিষ্কার
রাতে ঘুমানোর সময় ত্বকে ঘাম, তেল ও অন্যান্য ময়লা জমতে পারে। তাই সকালে মুখ পরিষ্কার করা দিনের যত্নের প্রথম ধাপ।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ফেইসওয়াশ ব্যবহার করা যায়।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে পারে এমন কোমল পরিষ্কারক উপযোগী।
শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে এমন পরিষ্কারক বেছে নেওয়া ভালো, যা মুখ ধোয়ার পর ত্বক টানটান বা শুষ্ক করে না।
মুখ পরিষ্কারের সময় খুব গরম পানি কিংবা জোরে ঘষাঘষি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন এই রূপ-বিশারদ।
স্বাভাবিক বা হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুখ মুছে নিতে হবে। আর ত্বক খুব শুষ্ক বা সংবেদনশীল হলে সকালে শুধু পানি দিয়ে মুখ ধোয়া যথেষ্ট কি না, তা ত্বকের অবস্থা অনুযায়ী বিবেচনা করা যায়।
টোনার ব্যবহার কি জরুরি?
মুখ পরিষ্কারের পর অনেকে টোনার ব্যবহার করেন। তবে সকালের যত্নে টোনার অপরিহার্য নয়।
তবে ত্বক শুষ্ক মনে হলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক উপাদানযুক্ত টোনার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
ত্বকে ব্রণ, লালচে ভাব কিংবা জ্বালাপোড়া থাকলে সুগন্ধি বা অতিরিক্ত সক্রিয় উপাদানযুক্ত টোনার ব্যবহার না করাই ভালো।
একাধিক প্রসাধনী একসঙ্গে ব্যবহার করার বদলে ত্বকের প্রয়োজন বুঝে পণ্য নির্বাচন করার পরামর্শ দেন, শারমিন কচি।
ভিটামিন ‘সি’ সেরামে উজ্জ্বলতার যত্ন
সকালের যত্নে ভিটামিন ‘সি’ সেরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং সূর্যের আলো ও পরিবেশের কিছু ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে ত্বকের সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
এ ছাড়া নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের অসম রং ও কালচে দাগ কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে ফল পেতে সময় লাগে এবং সবার ত্বকে একইভাবে কাজ করে না।
প্রথমবার ভিটামিন ‘সি’ সেরাম ব্যবহার করলে কম ঘনত্বের পণ্য দিয়ে শুরু করা ভালো। মুখে লাগানোর আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।
জ্বালাপোড়া, চুলকানি কিংবা লালচেভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আবার সংবেদনশীল ত্বকে সেরাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন দিয়েও ভালো যত্ন নেওয়া যায়।
ময়েশ্চারাইজারে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা
মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি। এটি ত্বকের উপরিভাগে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতাও কমায়।
এমন কি ত্বক তৈলাক্ত হলেও ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং হালকা, তেলবিহীন বা সহজে শোষিত হয় এমন ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
শুষ্ক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার ভালো কাজ করতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিবিহীন পণ্য ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য স্যাঁতসেঁতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
সানস্ক্রিন ছাড়া সকালের যত্ন অসম্পূর্ণ
সকালের ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হল সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে কালচে দাগ, অসম রং, অকাল বলিরেখা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে।
তাই বাইরে যাওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ এবং সুরক্ষাযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। যা ‘ইউভিএ’ ও ‘ইউভিবি’ দুই ধরনের রশ্মি থেকেই সুরক্ষা দিতে পারে।
মুখ, গলা, কানের আশপাশ এবং বাইরে বের হলে শরীরের উন্মুক্ত অংশে পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুনরায় ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন, শালমিন কচি।
এছাড়া ঘামলে কিংবা মুখ ধুয়ে ফেললে আরও আগে লাগাতে হতে পারে। আবার মেঘলা দিনেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে, তাই সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস বজায় রাখা ভালো।
ত্বকের যত্নে পানি ও সকালের খাবার
সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস। কারণ দেহে পানির চাহিদা পূরণ হলে স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রম বজায় থাকে। দিনের বিভিন্ন সময়ে তৃষ্ণা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা উচিত।
সকালের খাবারেও পুষ্টির দিকে নজর দিয়ে ডিম, দুধ, দই, ডাল, ফল, শাকসবজি ও বাদাম খেতে হবে। ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বকের জন্য ভালো।
ঘুম, পরিচ্ছন্নতা ও কিছু বাড়তি অভ্যাস
ত্বকের যত্ন শুধু প্রসাধনীতে সীমাবদ্ধ নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, পরিষ্কার বালিশের কভার, মুখে বারবার হাত না দেওয়া এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপ ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে।
সকালে ত্বক ফোলা মনে হলে পরিষ্কার, ঠান্ডা পানিতে ভেজানো নরম কাপড় কয়েক মিনিট আলতোভাবে মুখে রাখা যেতে পারে। বরফ সরাসরি ত্বকে ব্যবহার ঠিক নয়।
এছাড়া ত্বকে ব্রণ থাকলে খোঁচানো কিংবা চাপ দিয়ে বের করার চেষ্টাও এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ ও দাগ বাড়তে পারে।
