৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ত্বকের যত্নে ‘অ্যান্টি-এইজিং’ ধারণা পেরিয়ে দীর্ঘায়ুর সূচনা

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে ত্বকের যত্নে এখন আসল লক্ষ্য হোক ‘লনজেভিটি’ বা দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 02:14 PM

Updated : 30 Sep 2026, 02:14 PM

সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় বহু বছর ধরে একটি শব্দ প্যাকেটের গায়ে, বিজ্ঞাপনে বা রূপচর্চার আলোচনায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে, যা হল ‘অ্যান্টি-এইজিং’ বা বয়স ধরে রাখার ফর্মুলা।

তবে আধুনিক রূপচর্চার ধারায় এই পুরানো ধারণার পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে দীর্ঘ সময়ে ত্বকের স্বাভাবিক সুস্থতা।

স্বাস্থ্য ও জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল সিম্পল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক সিটির ওকিউলোফেসিয়াল প্লাস্টিক সার্জন ডা. রবার্ট শোয়ার্টজ এই বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে বলেন, “সচেতন ক্রেতারা এখন বলিরেখা মুছে চিরযৌবন পাওয়ার অবাস্তব লড়াই ছেড়ে ত্বকের যত্নে একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করছেন। সৌন্দর্যচর্চার এই নতুন ধারাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘স্কিন লনজেভিটি’ বা ত্বকের দীর্ঘায়ু।”

এই নতুন ধারার আসল উদ্দেশ্য কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা ও সুস্থতা বজায় রাখা।

ডা. শোয়ার্টজ এই ধারণার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “অ্যান্টি-এইজিং’ শব্দটির মধ্যে এক ধরনের পরাজয়ের ইঙ্গিত লুকিয়ে ছিল, যা অবচেতনেই বার্তা দিত যে প্রবীণ হওয়া মানেই খারাপ এবং তরুণ থাকাটাই ভালো। তবে আধুনিক ‘লনজেভিটি’ ধারণাটি মানুষের ভেতর থেকে বাইরে সার্বিক সুস্থতা, জীবনযাত্রা এবং শরীরের সামগ্রিক যত্নের কথা বলে।”

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হ্যাভেন শহরের, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিভাগের সহযোগী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক ডা. মোনা গোহারা, এর একটি রূপক দিয়ে বলেন, “লনজেভিটি’ বা দির্ঘায়ু হল একটি ভালোবাসার ঘরকে রক্ষণাবেক্ষণ করার মতো; যেখানে আপনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মূল কাঠামোকে শক্তিশালী করছেন, ক্ষতি থেকে রক্ষা করছেন এবং কিছু প্রয়োজনীয় উন্নতি করছেন, যাতে এটি দীর্ঘদিন টেকসই, মজবুত ও সুন্দর থাকে।”

মার্কিন চর্মরোগ-বিশেষজ্ঞ ডা. আরিয়েল ওস্তাদ-এর মতে, “অ্যান্টি-এইজিং কেবল চোখের সামনের বলিরেখা বা ঝুলে যাওয়া ত্বক সাময়িকভাবে ঠিক করার দিকে নজর দেয়। অন্যদিকে ‘লনজেভিটি’ বা দীর্ঘায়ুর গুরুত্ব দেয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ত্বকের আয়ু বাড়ানোতে।”

এই বিশেষজ্ঞের মতে, “এসব পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের রোগীরা এখন দ্রুত কোনও চাক্ষুষ পরিবর্তন খোঁজার চেয়ে দশকের পর দশক কীভাবে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখা যায়, সেই পরামর্শ নিচ্ছেন।”

চিকিৎসকেরা ত্বকের দীর্ঘায়ু বা লনজেভিটি ধরে রাখতে ৪টি সহজ দৈনিক অভ্যাসের ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রথমত, কোলাজেন প্রোটিন রক্ষা করতে এবং ‘আল্ট্রাভায়োলেট’ বা ‘ইউভি’ অর্থাৎ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে বাঁচতে প্রতিদিন নিয়ম করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উপাদান, যেমন- রেটিনয়েড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবহার করতে হবে যা ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

তৃতীয়ত, খুব মৃদু ও আর্দ্রতা রাক্ষাকারী উপাদান দিয়ে ত্বকের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’কে সর্বদা সচল রাখতে হবে।

পুরানো খবর:

উজ্জ্বল করতে গিয়ে ত্বকের সুরক্ষাকবচ ধ্বংস করছেন না তো?
পুরুষের ত্বকের যত্ন: ৩ ধাপের সহজ ও ঝটপট ‘মিনিমালিস্ট’ রুটিন
সুস্থ নখের জন্য বদলাতে হয় কিছু অভ্যাস