Published : 25 Jun 2026, 05:25 PM
ঝকঝকে, দাগহীন আর উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার আশায় অনেকেই এখন মেতে উঠেছেন নানামুখী রূপচর্চায়।
ফেইসওয়াশ, স্ক্রাব, টোনার, সিরাম, এএইচএ/বিএইচএ পিলিং সলিউশন আর ময়েশ্চারাইজার— একটার পর একটা পণ্য মাখা হচ্ছে ঠিকই। তবে হয়ত মানা হচ্ছে না।
তবে রূপচর্চার দুনিয়ায় প্রচলিত কথাটি হল, ‘অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই ক্ষতিকর।’
রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত এবং ভুল প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে হিতে বিপরীত হতে পারে, যার পোশাকি নাম 'স্কিন স্ট্রিপিং'।
স্কিন স্ট্রিপিং কী?
সহজ কথায়, অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা কড়া রাসায়নিক, যেমন- স্যালিসিলিক বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিড, ব্যবহারের ফলে যখন ত্বকের নিজস্ব প্রাকৃতিক তেল সেবাম এবং চামড়ার ওপরের সুরক্ষাতরল বা স্তরটি পুরোপুরি ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায়, তখন তাকে ‘স্কিন স্ট্রিপিং’ বলা হয়।
লন্ডনের ত্বক ও লেজার বিশেষজ্ঞদের ফোরাম 'লন্ডন প্রিমিয়ার লেজার'-এর একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে, “অনেকেই ভাবেন ত্বক তৈলাক্ত হওয়া মানেই ক্ষতিকর। তবে ত্বকের নিজস্ব যে প্রাকৃতিক তেল, তা নিচের কোমল কোষগুলোকে বাইরের ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়া থেকে পাহারা দেয়।
কড়া ফেইসওয়াশ বা স্ক্রাব দিয়ে এই তেল পুরোপুরি ধুয়ে নিলে ত্বক অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
আক্রান্ত হওয়ার ৪টি প্রধান লক্ষণ
ত্বক স্কিন স্ট্রিপিং-এর শিকার হয়েছে কি না, তা ডার্মাটোলজিস্ট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অস্ট্রেলিয়ার কসমেটিক ও স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড ‘ডা. টাস কসমেটিক অ্যান্ড স্কিন ক্লিনিকস’-এর চিকিৎসকদের দেওয়া ৪টি লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে।
ত্বক টানটান ও খসখসে হওয়া: মুখ ধোয়ার পর যদি মনে হয়, চামড়া ফেটে যাচ্ছে এবং ময়েশ্চারাইজার দেওয়ার পরও কিছুক্ষণ পর আবার শুষ্ক লাগছে, তবে বুঝবেন ত্বকের রক্ষাকবচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অস্বাভাবিক মোমের মতো উজ্জ্বলতা: এটি একটি বড় ধোঁকা। অনেকে ভাবেন ত্বক চকচক করছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা-বিষয়ক পোর্টাল হেলথলাইন ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে মতে, এটি সুস্থ ত্বকের ‘গ্লো’ বা উজ্জ্বলতা নয়; বরং চামড়ার সুরক্ষাতরল মুছে যাওয়ায় ত্বক পাতলা হয়ে প্লাস্টিক বা মোমের মতো মসৃণ দেখায়।
হুট করে ব্রণের উপদ্রব বেড়ে যাওয়া: ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়লে নিজেকে বাঁচাতে সে অতিরিক্ত তেল তৈরি করে, যা লোমকূপ বন্ধ করে মুখে ছোট ছোট র্যাশ বা ব্রণের জন্ম দেয়।
সাধারণ পণ্যতেও জ্বালাপোড়া: নিয়মিত ব্যবহারের ফেইসওয়াশ বা ময়েশ্চারাইজার মাখার পর, হঠাৎ যদি ত্বক চুলকায় বা লালচে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে ত্বক চরম ‘সেনসিটিভ’ সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে।
স্কিন স্ট্রিপিং এড়ানোর ও প্রতিকারের সহজ উপায়
মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোলাইমানি স্ট্যানফোর্ড নিউরোবায়োলজিস্ট ডা. অ্যান্ড্রু হুবারম্যানের পডকাস্ট 'হুবারম্যান ল্যাব' -এর একটি বিশেষ পর্বে বলেন, “অতিরিক্ত মুখ ধোয়া এবং কড়া ফেইসওয়াশ ব্যবহার বন্ধ করাই এর প্রধান চিকিৎসা।”
ত্বককে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।
কড়া এক্সফোলিয়েশন বন্ধ করা: অন্তত দুতিন সপ্তাহের জন্য সব ধরনের স্ক্রাব, পিলিং সলিউশন বা সেরাম ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। ত্বককে নিজে থেকে সেরে ওঠার সময় দেওয়া এক্ষেত্রে কার্যকর।
মাইল্ড বা মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার: এমন ফেইসওয়াশ বেছে নিতে হবে, যা সালফেট-মুক্ত এবং মুখ ধোয়ার পর ফেনা কম হয়। প্রয়োজনে সাধারণ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন: ত্বকের ক্ষয়ে যাওয়া স্তর মেরামত করতে সেরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উপকারী। আর দিনের বেলা ঘরের বাইরে বা ভেতরে যেখানেই থাকা হোক না কেন, সানস্ক্রিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কারণ ‘স্ট্রিপড’ বা পাতলা চামড়া সূর্যের আলোয় দ্রুত পুড়ে যায়।
'লেস ইজ মোর' সূত্র: কোরিয়ান বা বৈশ্বিক ট্রেন্ড দেখে ৭-৮ ধাপের রূপচর্চা না করে শুধু ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং এবং সানস্ক্রিন— এই তিন ধাপের সাধারণ রুটিনে ফিরে আসতে হবে।
আরও পড়ুন
ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ ও তরুণ রাখার উপায়