রোদের কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে
সূর্যের আলো ও অতিবেগুনি রশ্মি ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িযে দেয়।
অনেকেই খেয়াল করে থাকবেন যে, কড়া রোদে বা সমুদ্র সৈকতে কিছুটা সময় কাটানোর পর ব্রণ বা ব্রণের লালচে দাগগুলো হঠাৎ করে কিছুটা কমে গেছে বলে মনে হয়।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে সূর্যালোক বুঝি প্রাকৃতিকভাবেই মুখের ব্রণ সারিয়ে তুলছে। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আরামদায়ক অনুভূতিটি আসলে একটি বড় ফাঁদ। রোদের সংস্পর্শে এলে সাময়িকভাবে ব্রণ ভালো দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতি করে এবং ব্রণের উপদ্রব বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডটকম-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের চর্মরোগ শল্যচিকিৎসক এবং ‘আমেরিকান বোর্ড অব ডার্মাটোলজি’র ডা. সুসান বার্ড বলেন, “রোদে যাওয়ার পর ত্বক কিছুটা তামাটে বা ‘ট্যানড’ হয়ে যায়। ফলে ত্বকের নিচের ব্রণের লালচেভাব বা কালো দাগগুলো চামড়ার রংয়ের সঙ্গে মিশে সাময়িকভাবে কম দৃশ্যমান হয়।”
এছাড়া রোদ ত্বকের উপরিভাগের অতিরিক্ত তেল বা সেবাম সাময়িকভাবে শুকিয়ে ফেলে। তবে এই প্রভাবটি খুবই স্বল্পস্থায়ী।
রোদের ক্ষতিকর প্রভাব ও ব্রণের পুনরুত্থান
চর্মরোগ বিজ্ঞানীদের মতে, রোদে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পর দেহ নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আরও বেশি মাত্রায় তেল বা সেবাম উৎপাদন শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় রোদের কারণে হওয়া অতিরিক্ত ঘাম।
এই অতিরিক্ত তেল ও ঘাম যখন ত্বকের মরা কোষের সঙ্গে মিশে যায়, তখন লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রোদ থেকে ফেরার কয়েকদিনের মধ্যেই ত্বকে আগের চেয়ে দ্বিগুণ মাত্রায় ব্রণ দেখা দেয়।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক জার্নাল অব কসমেটিক ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত, স্পেনের বার্সেলোনা’তে অবস্থিত ‘ক্লিনিকা ডার্মাটোলজিকা মাল্টিডিসিপ্লিনার ডার্মিক’-এর করা গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ব্রণের সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করার পাশাপাশি ত্বকে ‘হাইপারপিগমেন্টেইশন’ বা স্থায়ী কালো দাগের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত রোদ পোহানো বা সূর্যের আলোতে থাকার ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়া, অকাল বার্ধক্য বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া, চামড়া খসখসে হয়ে পড়া এবং ত্বকের ক্যানসারের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ব্রণপ্রবণ ত্বককে রোদ থেকে বাঁচানোর উপায়
যাদের ত্বকে ব্রণের প্রবণতা বেশি, তাদের রোদে যাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
তেলমুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার: রোদ থেকে ত্বককে বাঁচাতে প্রতিদিন নিয়ম করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন কেনার সময় অবশ্যই বোতলের গায়ে ‘অয়েল-ফ্রি’ এবং ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা পণ্য বেছে নিতে হবে, যা লোমকূপ বন্ধ করে না।
ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্কতা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যারা ব্রণের কোনও বিশেষ ওষুধ বা ক্রিম ব্যবহার করছেন, তাদের রোদ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত। কারণ ব্রণের বেশিরভাগ ওষুধ ত্বককে আলোর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে, যা দ্রুত ‘সানবার্ন’ ঘটায়।
রোদে বের হলে চওড়া টুপি এবং রোদচশমা ব্যবহার করা আবশ্যক।
ত্বক সুরক্ষায় চিকিৎসকদের লাইফস্টাইল গাইডলাইন
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন (এএডি)’ ব্রণ নিয়ন্ত্রণে এবং ত্বক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিচের নিয়মগুলো মেনে চলার সুপারিশ করেছে।
নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার: দিনে অন্তত দুইবার এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার পর মৃদু ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। তবে ভুলেও ত্বক জোরে ঘষা বা স্ক্রাব করা যাবে না।
হাত না দেওয়া: ব্রণে কখনও হাত দেওয়া, খোঁটা বা নখ দিয়ে গলানো যাবে না। এতে ত্বকে স্থায়ী সংক্রমণ ও দাগ পড়ে যায়।
চুলের পরিচ্ছন্নতা: চুলের অতিরিক্ত তেল মুখের ত্বকে লেগে ব্রণ তৈরি করতে পারে, তাই নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হবে।
ঘুমানোর আগে মেইকআপ পরিষ্কার: রাতে ঘুমানোর আগে মুখ থেকে মেইকআপ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত, নতুবা ঘাম ও মেইকআপ মিশে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাবে।
ডা. বার্ড মনে করিয়ে দেন, “প্রত্যেকের ত্বকের ধরন আলাদা। তাই ইন্টারনেটের কোনও সাময়িক টিপস বা রোদের ওপর ভরসা না করে, ব্রণের সঠিক চিকিৎসার জন্য একজন নিবন্ধিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বক পরিচর্যার সঠিক পণ্য বেছে নেওয়াই হল বুদ্ধিমানের কাজ।”
