২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ত্বকের নিচে লুকিয়ে থাকা শত্রু ‘কমেডো’

নাকের পাশে জেদি ব্ল্যাকহেডস বা কপালে ছোট ছোট হোয়াইটহেডস নিয়ে চিন্তিত? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘কমেডো’।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 06:51 PM

Updated : 26 Oct 2026, 06:50 PM

ত্বকের নানান সমস্যার মধ্যে ব্রণ বা একনি সাধারণ বিষয়। তবে ব্রণের শুরুটা কিন্তু সরাসরি লালচে বা ফোলাভাব নিয়ে হয় না; বরং এর প্রাথমিক ধাপ হল ‘কমেডো’।

সহজ কথায়, ত্বকের লোমকূপ যখন অতিরিক্ত তেল, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং মরা কোষের কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তখনই কমেডোর সৃষ্টি হয়। এটি মূলত ‘ব্ল্যাকহেডস’ ও ‘হোয়াইটহেডস’ হিসেবে প্রকাশ পেয়ে পুরো ত্বকের মসৃণতা নষ্ট করে দেয়।

স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক মার্কিন গবেষক লরা শোবার বলেন, “কমেডো একটি মৃদু ও প্রদাহহীন ব্রণ হলেও, সময়মতো এর যত্ন না নিলে পরে মারাত্মক ব্রণে রূপ নিতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ‘ফেইশল রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জন’ ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. উইলিয়াম ট্রুসভেল জানান, ‘কমেডোন’ বা ‘কমেডো’ সাধারণত মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ এবং হাতের উপরিভাগে বেশি দেখা যায়।

ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের পার্থক্য কী?

এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, লোমকূপের মুখের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কমেডো দুই ভাগে প্রকাশ পায়।

হোয়াইটহেডস: যখন লোমকূপের মুখটি ত্বকের নিচে পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তখন ভেতরে জমে থাকা তেল ও মরা কোষ সাদা বা ত্বকের রংয়ের মতো ছোট ছোট ফুসকুড়ি হিসেবে ভেসে ওঠে। হাত দিলে এগুলো খসখসে বা উঁচু মনে হয়।

ব্ল্যাকহেডস: যখন লোমকূপের মুখটি খোলা থাকে, তখন ভেতরের জমে থাকা অতিরিক্ত তেল বা সিবাম বাতাসের সংস্পর্শে আসে। বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে এই তেলের রাসায়নিক বিক্রিয়া বা ‘অক্সিডেইশন’ ঘটার কারণে জমে থাকা ময়লাটি কালো রং ধারণ করে।

কমেডো হওয়ার প্রধান কারণ ও ঝুঁকি

ত্বকে ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস হওয়ার পেছনে সাধারণত ৩টি প্রধান কারণ কাজ করে।

হরমোনের প্রভাব: বয়ঃসন্ধিকালের সময় শরীরে অ্যান্ড্রোজেন নামক পুরুষ হরমোন বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকের তেল গ্রন্থিগুলো আকারে বড় হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত তেল বা সিবাম তৈরি করে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়।

পারিবারিক ইতিহাস: বংশগত বা জিনগত কারণে যদি মা-বাবা বা পরিবারের কারও ব্রণের সমস্যা থাকে, তবে কমেডো হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

ধূমপান: বিভিন্ন চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন তাদের ত্বকে ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের উপদ্রব বেশি হয়।

সমাধান

কমেডো দূর করার জন্য বাজারে বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ পাওয়া যায়। ডা. উইলিয়াম ট্রুসভেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই উপাদানগুলো ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

হোয়াইটহেডসের জন্য: বেনজোয়িল পারক্সাইড যুক্ত ফেইসওয়াশ বা লোশন ব্যবহার করা উচিত। এটি লোমকূপের ভেতরে থাকা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এছাড়া ভিটামিন ‘এ’ থেকে তৈরি রেটিনয়েডস, যেমন- ট্রিশিনইন ক্রিম ব্যবহার করলে মরা কোষ দ্রুত ঝরে যায় এবং হোয়াইটহেডস কমে।

ব্ল্যাকহেডসের জন্য: স্যালিসিলিক অ্যাসিড যুক্ত ক্রিম বা ক্লিনজার ব্যবহার করা কার্যকর। এটি লোমকূপের গভীরে জমে থাকা আঠালো তেল গলিয়ে বের করে দিতে সাহায্য করে।

যদি ঘরোয়া বা সাধারণ যত্নে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে কমেডো দূর না হয়, তবে একজন নিবন্ধিত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

চিকিৎসকেরা অনেক সময় সুঁই বা বিশেষ সার্জিক্যাল ব্লেডের সাহায্যে ক্লিনিক্যালি ব্ল্যাকহেডস বের করে থাকেন।

যা করা যাবে এবং যা করা যাবে না

‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন’ কমেডো নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সতর্কবার্তা দিয়েছে।

খুঁচিয়ে তোলা বা টিপে বের করা যাবে না: ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস নখ দিয়ে খোঁটা বা চাপ দিয়ে গলানো উচিত নয়। এতে ত্বকে স্থায়ী ব্যাক্টেরিয়া জনিত সংক্রমণ বা কালো দাগ পড়ে যেতে পারে।

প্রসাধনী নির্বাচনে সতর্কতা: রূপচর্চায় সবসময় পানি-সমৃদ্ধ উপাদানযুক্ত এবং প্যাকেটের গায়ে ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা ত্বক পরিচর্যার প্রসাধনী বা মেইকআপ পণ্য ব্যবহার করতে হবে। এগুলো লোমকূপ বন্ধ করে না।

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

টাইট ক্যাপ বা হেডব্যান্ড বর্জন: কপালে খুব টাইট টুপি বা হেডব্যান্ড পরলে ঘাম ও তেল জমে ত্বকে কমেডো সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও প্রতিদিন অন্তত দুবার মৃদু ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া এবং চুল সবসময় মুখ থেকে দূরে রাখার মাধ্যমে কমেডো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

পুরনো খবর:

ব্রণ হওয়ার বিভিন্ন কারণ ও প্রতিকার
চিনে নিন হরমোনজনিত ব্রণের লক্ষণ
ব্রণ হওয়ার অজানা কারণ
যেসব খাবারে ত্বকে হঠাৎ ব্রণ বাড়ে