যেসব খাবারে ত্বকে হঠাৎ ব্রণ বাড়ে
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে খাদ্যাভ্যাস থেকে।
ত্বকে ব্রণ হওয়ার পেছনে বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, পরিবেশ, জীবনযাপনসহ নানান বিষয় কাজ করে।
তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও ব্রণ তৈরি ও বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, কিছু খাবার হরমোনের ভারসাম্য বদলে দেয়, আবার কিছু খাবার রন্ধ্রে তেল জমে ব্রণের প্রবণতা বাড়ায়।
ওটস দুধ
দুধের বিকল্প হিসেবে ওটসের দুধ এখন জনপ্রিয়। তবে এটি সবার ত্বকের জন্য উপযোগী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ভিত্তিক শিশু ও প্রসাধনী ত্বকবিদ্যার পরিচালক করন লাল ‘ইটদিস ন্যাটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ওটস দুধে কার্বোহাইড্রেইটের মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্রণ সৃষ্টি করে।”
“কার্বোহাইড্রেইটসের পরিমাণ বেশি হলে রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটে এবং ত্বকে তেল নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে মুখের রন্ধ্রে তেল জমে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ে, যা শেষে ব্রণে রূপ নেয়”- ব্যাখ্যা করেন তিনি।
অনেকেই ধারণা করেন উদ্ভিজ্জ উৎসের দুধ সবসময় নিরাপদ। তবে ব্যক্তিগত দেহপ্রকৃতি অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
উচ্চ গ্লাইসেমিক: রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ব্রণ আনে
সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, সাদা ভাত বা বিভিন্ন চিনিযুক্ত খাবার দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়।
এসব খাবারকে উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার বলা হয়।
মার্কিন ত্বক বিশেষজ্ঞ এমিলি উড একই প্রতিবেদনে বলেন, “রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়লে ত্বকে প্রদাহ বাড়ে, তেল উৎপাদনও বেড়ে যায়।”
আর সাধারণ চিনিই ত্বকে প্রদাহ বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
চিনির অতিরিক্ত উপস্থিতি ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া ও ইস্টের বৃদ্ধি বাড়ায়। ফলে মুখে নিয়মিত লালচে ব্রণ, ব্যথাযুক্ত ফোঁড়া, এমনকি বড় প্রদাহজনিত দাগও দেখা দিতে পারে।
তাই দৈনন্দিন জীবনে পরিশোধিত চিনি বাদ দিয়ে ফলমূলের মতো স্বাভাবিক উৎসের দিকে ঝুঁকলে ত্বক অনেকটাই ভালো থাকা যায়।
ভিটামিন বি-সিক্স বা বি-টুয়েল্ভ – সমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট: ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট করে
অনেকেই দেহ শক্তিশালী রাখতে বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন বি-সিক্স বা বি-টুয়েল্ভ–যুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন।
তবে ভিটামিন বি গ্রুপ ত্বকের জীবাণুসমূহের আচরণ পরিবর্তন করতে পারে। এই জীবাণু সক্রিয় হয়ে ত্বকে ব্রণ সৃষ্টি করে।
আবার সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পর কারও কারও মুখে গভীর লাল ব্রণ বা প্রদাহ বাড়তে দেখা যায়।
তাই প্রয়োজন ছাড়া উচ্চ মাত্রায় এসব সাপ্লিমেন্ট না নেওয়াই ভালো।
আয়োডিনের অতিরিক্ত গ্রহণ: ত্বকে তেল নিঃসরণ বাড়ায়
আয়োডিন স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এমিলি উড বলেন, “সামুদ্রিক শৈবাল ধর্মী সাপ্লিমেন্টে আয়োডিনের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। অনেক স্মুদিতেও এই শৈবাল মেশানো হয়, যা ব্রণ বাড়াতে পারে।”
আয়োডিন ত্বকে প্রদাহ বাড়ায় এবং তেল নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত এসব সাপ্লিমেন্ট নেন, তাদের মাঝে বড় লাল ব্রণ বা প্রদাহ–যুক্ত পিণ্ড দেখা যায়।
তাই শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণ করা উচিত নয়।
স্কিম দুধ: কম চর্বিযুক্ত হলেও ব্রণের ঝুঁকি বেশি
স্কিম দুধকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়, কারণ এতে চর্বির পরিমাণ কম। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, স্কিম দুধ কিশোর–কিশোরী থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝেও ব্রণ বাড়াতে পারে।
কেন এমন হয় তা নিয়ে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে।
দুধে উপস্থিত কিছু হরমোন শরীরে হরমোনগত অস্থিরতা তৈরি করে, যা ত্বকে তেল উৎপাদন বাড়ায়। কিছু বিশেষ প্রোটিন ত্বকের রন্ধ্রে কোষ জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, ফলে ব্রণ হয়।
স্কিম দুধ ইনসুলিনের মাত্রাও বাড়ায়, যা ব্রণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। আবার দুধে স্বাভাবিকভাবেই কিছু আয়োডিন থাকে—এটিও ব্রণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আবার স্কিম দুধে তুলনামূলক চিনি বেশি থাকে, যা ব্রণের অন্যতম কারণ। তাই বিকল্প হিসেবে বাদাম দুধ বা প্রাণিহ দুধ নেওয়া যেতে পারে।
সয়া–ভিত্তিক প্রোটিন: অতিরিক্ত গ্রহণে সমস্যা বাড়ে
শরীরে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে শক্তি বাড়াতে অনেকেই সয়া প্রোটিন গ্রহণ করেন— বিশেষত নিরামিষভোজীরা।
তবে অতিরিক্ত সয়া গ্রহণও ব্রণ বাড়াতে পারে। এটি দেহের কিছু হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে, ফলে ত্বকে তেল উৎপাদন এবং প্রদাহ বেড়ে যায়।
যদিও সীমিত পরিমাণে সয়া সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে অতিরিক্ত গ্রহণে ত্বকে স্থায়ী ব্রণের দাগ সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন
