১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বয়সভিত্তিক রূপচর্চায় যেসব উপাদান উপকারী

জেনে নিন কোন বয়সে কোন ক্রিম ও প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকের যত্নে ভালো ফল দেবে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 05:04 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভেতরের কোষগুলোর মতোই ত্বকের গঠনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

বয়স বাড়ার কারণে ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন হ্রাস পাওয়া, কোষের পুনর্নবীকরণ ধীর হওয়া এবং আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

ফলে ২০ বছর বয়সে যে প্রসাধনী ত্বকে চমৎকার কাজ করত, ৪০ বা ৫০ বছর বয়সে পৌঁছে সেটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

অনেকেই ভাবেন, বয়স বাড়লে কেবল ‘অ্যান্টি-এইজিং ক্রিম’ মাখলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান, যা মূলত ভুল ধারণা। প্রতি দশকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ত্বকের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী রূপচর্চার প্রসাধনী বদলানোর প্রয়োজনীয়তা বুঝে নিতে হয়।

স্বাস্থ্য পোর্টাল ‘হেলথ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসাধনীর সংখ্যা না বাড়িয়ে বরং সঠিক বয়সে সঠিক সক্রিয় উপাদানটি ব্যবহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

বয় যখন ২০: এসপিএফ ৫০ বা বেশি ও অ্যাডাপালিন জেল

কানাডার বোর্ড-প্রত্যয়িত ত্বক-বিশেষজ্ঞ ডা. ড্যানি গুও বলেন, “২০-এর দশকের তরুণ-তরুণীরা ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটান, ফলে তাদের ত্বকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর দহন বেশি হয়।”

এই বয়সে ত্বকের রক্ষাকবচ বাঁচানোর প্রধান বর্ম হল ‘এসপিএফ ৫০+ ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন’ ব্যবহার করা।

এছাড়া হরমোনজনিত ব্রণের উপদ্রব কমাতে, নিউ ইয়র্কের ‘ডার্মমেডিকেল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. অ্যানেট চার্নিক, রাতে ০.১% ‘অ্যাডাপালিন জেল’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

এটা কোষের স্বাভাবিক চলন সচল রাখে। তবে তীব্র একজিমা বা রোজাসিয়া থাকলে অ্যাডাপালিন বর্জন করা নিরাপদ।

বয়স যখন ৩০: রেটিনয়েডস বা রেটিনলের ধারাবাহিকতা

মার্কিন ত্বক-বিশেষজ্ঞ ডা. এলিজাবেথ হাউশমান্ড ব্যাখ্যা করেন, “ত্রিশে পা রাখা মাত্রই শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরি এবং কোষের পুনরুৎপাদন ধীর হতে শুরু করে। ফলে মুখে সূক্ষ্ম বলিরেখা উঁকি দেয়। তাই এই বয়সে প্রধান চিকিৎসাগত প্রতিষেধক হল ‘রেটিনয়েড’ বা ‘রেটিনল’ ব্যবহার করা।”

এটি বার্ধক্যের গতি ধীর করে দেয়। তবে গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য রেটিনল মাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বয়স যখন ৪০: ভিটামিন সি সেরাম, এক্সোসোমস ও এলইডি মাস্ক

এই বয়সটা হল ‘কোলাজেন ব্যাংকিং’ বা ত্বকের অভ্যন্তরীণ প্রোটিন ধরে রাখার চূড়ান্ত সময়।

‘এলিট ডার্মাটোলজি ফিজিশিয়ানস’-এর নিবন্ধিত মাকিন ত্বক-বিশেষজ্ঞ ডা. এলি এইচ. ডি মল বলেন, “এই বয়সে কোষ মেরামতের জন্য নতুন বায়ো-টেকনোলজি উপাদান ‘এক্সোসোমস’ ব্যবহারের করা যেতে পারে। যা কোষের পুনর্জন্ম ঘটায়।”

পাশাপাশি আরেক মাকিন চর্মরোগ-বিশেষজ্ঞ ও ‘হাইশমান্ডএমডি ডার্মাটোলজি’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. হাউশমান্ড পরামর্শ দেন, “সকালে সানস্ক্রিনের নিচে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সুরক্ষার জন্য ভিটামিন-সি সেরাম মাখা উচিত। আর ঘরে বাড়তি যত্ন হিসেবে এলইডি ফেইস মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে।”

বয়স যখন ৫০: সিরামাইডস সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার

নারীদের ক্ষেত্রে এই বয়সটা মূলত মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তির সময়কাল, যেখানে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পতন ঘটে। ফলে ত্বক হঠাৎ অতিরিক্ত পাতলা, খসখসে, সংবেদনশীল ও শুষ্ক হয়ে পড়ে।

ডা. হাউশমান্ড এই বয়সে কড়া অ্যাসিড বা সেরাম বর্জন করে কেবল ত্বকের প্রাকৃতিক চর্বি ‘সিরামাইডস’ যুক্ত ময়েশ্চারাইজার মাখার ওপর জোর দিয়েছেন, যা ত্বকের রক্ষাকবচের আর্দ্রতা বাষ্প হতে দেয় না।

বয়স ৬০ ও তার ওপরে: গ্লিসারিন ও স্কোয়ালেন

ষাটের পর থেকে ত্বকের পানি ধরে রাখার স্বাভাবিক পদ্ধতি পুরোপুরি ভেঙে যায়।

ডা. হাউশমান্ড, এই বয়সে শক্তিশালী ও নিরাপদ হিউমেক্ট্যান্ট ‘গ্লিসারিন’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটা চামড়ার বাইরের স্তরে জলীয় কণা টেনে এনে বলিরেখার গভীরতা কমায়।

এছাড়া গভীর আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও কোষের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ শান্ত করতে ডা. ডি মল ‘স্কোয়ালেন’ তেল এবং ডা. চার্নিক ‘গ্রোথ ফ্যাক্টর ও পেপটাইড’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

সব বয়সের সোনালি নিয়ম: এই চিকিৎসকদের মতে, বার্থ সার্টিফিকেট বা বয়সের সংখ্যা দেখে প্রসাধনী ঘন ঘন পরিবর্তন করা এক ক্ষতিকর আসক্তি। ত্বক যদি কোনও রুটিনে সুস্থ থাকে, তবে তা জটিল না করে প্রমিত ক্লেনজার ও ময়েশ্চারাইজার দিয়ে সাধারণ রাখাই নিরাপদ।

পাশাপাশি কৃত্রিম কেমিক্যালের বাহ্যিক ধকল থেকে কোষগুলোকে সতেজ রাখার পাশাপাশি বিপাকীয় ক্ষমতা ঠিক রাখতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন

সাবান বনাম বডি ওয়াশ: ত্বকের জন্য কোনটা ভালো?

ত্বকের যত্নে রেটিনয়েড ব্যবহারের নিয়ম

মেইকআপের কারণে ত্বকের ক্ষতি এড়াতে