Published : 08 Sep 2026, 06:01 PM
গোসল ও ত্বক পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে সাবান বা ‘বার সোপ’ এবং তরল ‘বডি ওয়াশ’— দুটি প্রসাধনী ব্যবহারের প্রচলনই রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, তরল বডি ওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বক বেশি নরম থাকে বা শক্ত সাবান ব্যবহারে ত্বক দ্রুত ফর্সা বা অতিরিক্ত পরিষ্কার হয়, যা মূলত এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ভুল ধারণা।
আধুনিক চর্মরোগ বিজ্ঞান ও কসমেটিক কেমিস্ট্রির গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বাহ্যিক রূপ বা ‘ফরম্যাট’ যা-ই হোক না কেন, ত্বক ভালো রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে প্রসাধনীর উপাদান বা উপজাতের ওপর, কোনো সুনির্দিষ্ট অবয়বের ওপর নয়।
ত্বক পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক পোর্টাল ‘হেলথ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, মিশিগান মেডিসিনের চর্মরোগ বিজ্ঞানের ক্লিনিক্যাল সহকারী অধ্যাপক ড. ব্লেয়ার জেনকিন্স বলেন, “সাবান এবং বডি ওয়াশের মধ্যে কাজের পদ্ধতিতে কোনো আকাশ-পাতাল তফাত নেই।”
বার সাবান বনাম তরল বডি ওয়াশ: আসল পার্থক্য কোথায়?
ড. ব্লেয়ার বলেন, “কোন উপাদানটি আপনার পছন্দের গঠনের বা ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে কেমিক্যাল গঠনের দিক থেকে দুটি ভিন্ন ঝুঁকি থাকে।”
বার সাবানের সারফ্যাক্ট্যান্ট ঝুঁকি: বাণিজ্যিক বার সাবানগুলোতে অনেক সময় তীব্র ও কড়া ‘সারফ্যাক্ট্যান্ট’ বা ফেনা উৎপাদনকারী রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ‘ইরিট্যান্ট কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা চামড়ার ভেতরের রক্ষাকবচ পুড়িয়ে তীব্র প্রদাহ ও চুলকানির সৃষ্টি করতে পারে।
বডি ওয়াশের প্রিজারভেটিভ ঝুঁকি: তরল বডি ওয়াশগুলোতে ব্যাকটেরিয়া বা ছাতা পড়া রোধ করতে বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষক ও কৃত্রিম সুঘ্রাণ ব্যবহার করা হয়। এই উপাদানগুলো সংবেদনশীল ত্বকের সংস্পর্শে এসে ‘অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’ বা শরীরের কোষে অতি-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে লালচে র্যাশের জন্ম দিতে পারে।
যখন বডি ওয়াশ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক
যদিও সাধারণ মানুষের জন্য সাবান বা বডি ওয়াশের যেকোনো একটি বেছে নেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক বিষয়। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট চর্মরোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ খাটে না।
ড. জেনকিন্স সতর্ক করে বলেন, “যাদের পিঠে বা শরীরে তীব্র ব্রণের উপদ্রব রয়েছে বা লোমকূপের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা ‘ফলিকুলাইটিস’ রয়েছে, তাদের জন্য তরল বডি ওয়াশ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
কারণ এই রোগগুলোর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বা মেডিকেইটেড ওয়াশগুলো কসমেটিক ফর্মুলেশনের কারণে কেবল তরল বা লিকুইড ক্লেনজার হিসেবেই বাজারে তৈরি করা সম্ভব হয়।”
প্রসাধনী কেনার নিয়ম
লেবেল দেখা ও সুঘ্রাণ বর্জন: বাজার থেকে সাবান বা বডি ওয়াশ যা-ই কেনা হোক, বোতলের গায়ে ‘সুঘ্রাণ-মুক্ত’ এবং ‘সংবেদনশীল ত্বকের উপযোগী’ লেখা আছে কি-না, দেখে নিতে হবে।
প্যাচ টেস্টের নিয়ম: নতুন কোনো বডি ওয়াশ ব্যবহারের আগে কনুইয়ের চামড়ায় অল্প পরিমাণ মেখে ২৪ ঘণ্টা ‘প্যাচ টেস্ট’ করা উচিত। এই সময়ের মধ্যেই বোঝা যাবে, এতে অ্যালার্জির কোনও ঝুঁকি আছে কি-না।
আরও পড়ুন