১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ত্বক পরিচর্যার নতুন পদ্ধতি শুরুর আগে সতর্কতা

জনপ্রিয় হওয়া পন্থায় ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 07:13 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন রূপচর্চার ধারা টাইমলাইনে ভেসে ওঠে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপচর্চার বিজ্ঞান এবং ত্বক-বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেও পরিবর্তন আসছে।

অনেকেই উজ্জ্বলতা বাড়ানোর চক্করে একসঙ্গে হরেক রকমের সেরাম ও ক্রিম মুখে মাখেন, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

২০২৬ সালের আধুনিক ডার্মাটোলজি এখন জোর দিচ্ছে ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ বা ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষালয়কে শক্তিশালী করা এবং প্রসাধনীর ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে আনার ওপর।

আমেরিকার অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক’-এর স্বাস্থ্য প্রকাশনায় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চটকদার বিজ্ঞাপনী সেরামের চেয়ে, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া ত্বকের ফ্যাট বা লিপিডের যত্ন নেওয়াই আসল ‘অ্যান্টি-এইজিং’ প্রতিষেধক।

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ত্বকবিশেষজ্ঞ ও রূপবিশারদ অ্যাশলিন ইয়াঙ্কি, ২০২৬ সালে ত্বক পরিচর্যার ৪টি যুগোপযোগী ধারা এবং সুরক্ষার নিয়মগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

‘স্কিন ব্যারিয়ার’ বা সিরামাইডসের সুরক্ষাকবচ

অ্যাশলিন ইয়াঙ্কি ব্যাখ্যা করেন, “ত্বক পরিচর্যা কেবল উজ্জ্বলতা বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি মূলত ত্বকের উপরিভাগের প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ সুস্থ রাখার বিজ্ঞান, যা শরীরকে বাইরের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে বাঁচায়।

সিরামাইডসের ম্যাজিক: মানুষের ত্বকের এপিডার্মিস বা বাইরের আবরণের প্রায় ৫০ শতাংশই তৈরি হয় এক বিশেষ চর্বি দিয়ে, যার নাম ‘সিরামাইডস’। বয়স বাড়ার কারণে এবং সূর্যের কড়া রোদে ত্বকের কোলাজেন ভেঙে যখন এই সুরক্ষালয় দুর্বল হয়, তখন সিরামাইডস সমৃদ্ধ ক্রিম কোষে নতুন করে দেয়াল তৈরি করে পানি বা আর্দ্রতা বাষ্প হওয়া রোধ করে।

ভিটামিন বি-থ্রি ও নিয়াসিনামাইডসের বহুমুখী গুণ

সংবেদনশীল বা সেন্সিটিভ ত্বকের জন্য নিয়াসিনামাইডস বা ভিটামিন বি-থ্রি, ভেষজ প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের প্রধান প্রোটিন ‘কেরাটিন’ তৈরিতে সাহায্য করে, ত্বককে প্রাকৃতিকভাবেই টানটান ও উজ্জ্বল করে তোলে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, নিয়াসিনামাইডস ব্রণের উপদ্রব কমায়, বড় লোমকূপ বা পোরসের আকার ছোট করে এবং একজিমা বা ব্রণের কারণে হওয়া ত্বকের অভ্যন্তরীণ তীব্র প্রদাহ ও লালচেভাব শান্ত করে।

‘স্কিনিফিকেশন’ ও মিনিমাল স্কিন কেয়ার

২০২৬ সালের আলোচিত পদ্ধতি হল, ‘স্কিনিলিজম’ বা ‘মিনিমাল স্কিন কেয়ার’। মানে প্রসাধনীর পরিমাপ যথাসম্ভব কমিয়ে আনা।

অ্যাশলিন ইয়াঙ্কির মতে, “ত্বকে যত বেশি কেমিক্যাল মাখা হবে, তত বেশি রক্ষাকবচ ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়বে।”

টু-ইন-ওয়ান প্রসাধনী: এই সমস্যার আধুনিক সমাধান হল ‘স্কিনিফিকেইশন’, অর্থাৎ এমন মেইকআপ প্রাইমার বা প্রসাধনী বেছে নেওয়া যাতে আগে থেকেই ময়েশ্চারাইজার, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা সানস্ক্রিন থাকে। ফলে একটি মাত্র প্রসাধনী ব্যবহার করেই মেইকআপ এবং ত্বকের সুরক্ষা, দুটো কাজই একসঙ্গে সম্পন্ন হয়।

প্রোবায়োটিক ও পোস্টবায়োটিক ত্বক পরিচর্যা

ত্বকের উপরিভাগের অণুজীব বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরক্ষালয়কে সচল রাখতে প্রোবায়োটিক এবং পোস্টবায়োটিক প্রসাধনীর ব্যবহার এখন প্রচলিত।

এনজাইম, পেপটাইড এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই উপাদানগুলো ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখে। এটি বিশেষ করে ব্রণ, সোরিয়াসিস ও রোজাসিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ নিয়ন্ত্রণে চমৎকার কাজ করে।

সতর্কতা

অ্যাশলিন ইয়াঙ্কি রূপচর্চাপ্রেমীদের একটি বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ইন্টারনেট বা চ্যাটজিপিটি-র মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের দেওয়া ঘরোয়া রেসিপি বা জটিল কেমিক্যালের রুটিন অন্ধের মতো অনুসরণ করা সম্পূর্ণ অনুচিত।

যেহেতু প্রত্যেকের ত্বকের ধরন ও সহ্য ক্ষমতা আলাদা, তাই কোনো অভিজ্ঞ ত্বক-বিশেষজ্ঞের সরাসরি মূল্যায়ন ছাড়া নতুন কোনো কড়া অ্যাসিড-সমৃদ্ধ প্রসাধনী (যেমন গ্লাইকোলিক বা রেটিনল) মুখে মাখা বিপজ্জনক হতে পারে।

প্যাচ টেস্টের নিয়ম: নতুন কোনো ক্রিম ব্যবহারের আগে কানের লতির নিচে বা কনুইয়ের চামড়ায় অল্প পরিমাণ মেখে ২৪ ঘণ্টা পিরিয়ডিকাল ‘প্যাচ টেস্ট’ করা বাধ্যতামূলক।

যদি কোনো র‌্যাশ বা লালচেভাব না দেখা দেয়, তবেই সেটা পুরো মুখে ব্যবহার করা নিরাপদ।

আরও পড়ুন

কোরিয়ান রূপচর্চার গোপন রহস্য

চামড়া ঝুলে যাওয়া প্রতিরোধের উপায়

মেইকআপের নতুন ধারা ‘হাইব্রিড বিউটি’ ও ‘পুলসাইড স্কিন’