১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মাথার ত্বকের একটি সমস্যা সমাধানে কমতে পারে চুল পড়া

নানান কারণে চুল ঝরে যায়। তবে ‘স্ক্যাল্প’ বা মাথা ত্বকের একটি সমস্যার কারণে চুল বেশি পড়তে পারে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 05:07 PM

Updated : 12 Oct 2026, 05:07 PM

বয়স বৃদ্ধি, জিনগত সমস্যা, আবহাওয়ার পরিবর্তন বা পুষ্টিহীনতা- অনেক কিছুই চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে মাথার ত্বকের অতি পরিচিত ও অবহেলিত একটি সমস্যার কারণে চুল পড়ার মাত্রা বাড়ে, আর সেটা হল খুশকি।

চিকিৎসা-বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘সেবোরিক ডার্মাটাইটিস’ বলা হয়, যা বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষকে প্রাকৃতিকভাবেই আক্রান্ত করে।

এই তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেল্থ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দারা স্পিয়ারম্যান বলেন, “খুশকির কারণে হওয়া এই চুল পড়া কোনও স্থায়ী ক্ষতি নয়, বরং সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাথার ত্বকের যত্ন ও চিকিৎসা নিলে এই সমস্যা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।”

যেভাবে খুশকি থেকে চুল পড়ার সমস্যা তৈরি হয়

ডা. দারা স্পিয়ারম্যান জানান, মাথার ত্বকে অতিরিক্ত খুশকি জমলে ত্বকের স্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি চক্রকে ব্যাহত করে। আর সেখানে তীব্র ‘ইনফ্লামেইশন’ বা প্রদাহের সৃষ্টি করে।

এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে চুলের ফলিকল বা গোড়ার চারপাশের পরিবেশ চরমভাবে অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে, যা চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয় এবং চুলকে স্বাভাবিক সময়ের আগেই ঝরে পড়ার দিকে ঠেলে দেয়।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, “খুশকির কারণে মাথায় তীব্র চুলকানি হয়। আর চুলকানোর ফলে মাথার ত্বকে এক ধরনের আঘাত লাগতেই থাকে। এর ফলে চুলের গোড়ার দিকের অংশ ভেড়ে যায় আর নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি’তে অবস্থিত ‘উইজার স্কিন এমডি’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. জেসিকা ওয়াইজার, এর সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, “মাথার ত্বক হল চুলের ফলিকলের জন্য একটি উর্বর জমি। সেখানে যদি লালচে ভাব, খোসা ওঠা এবং জ্বালাপোড়া থাকে, তবে চুলের গোড়া প্রাকৃতিকভাবেই পুষ্টি ও স্থায়িত্ব হারিয়ে ফেলে।”

চিকিৎসাগত প্রতিকার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়’তে অবস্থিত ‘ডাই ডার্মাটোলজি সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. লেডি ডাই-এর মতে, “খুশকিজনিত প্রদাহ মাথার ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই সমস্যা দূর করতে এবং ক্ষতিকর ছত্রাক বা মাল্যাসেসিয়া ইস্টের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে চর্মরোগ চিকিৎসকেরা সাধারণত ৪টি উপাদান ব্যবহারা করার পরামর্শ দেয়।

কিটোকোনাজল: এটি শক্তিশালী ‘অ্যান্টি-ফাঙ্গাল’ বা ফাঙ্গাস-রোধী উপাদান, যা খুশকির মূল ছত্রাককে ধ্বংস করে।

জিঙ্ক পাইরিথিওন ও সেলেনিয়াম সালফাইড: এই উপাদানগুলো মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল বা সিবাম উৎপাদন কমায় এবং ‘ফ্লেক্স’ বা খোসা ওঠা বন্ধ করে।

স্যালিসিলিক অ্যাসিড: এটি মাথার ত্বকের মরা চামড়া ও জমে থাকা খুশকির স্তরকে প্রাকৃতিকভাবে ‘এক্সফোলিয়েট’ বা উঠিয়ে দিয়ে রিষ্কার করে।

ডা. স্পিয়ারম্যান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, “এসব উপাদান যুক্ত অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুগুলো মাথায় লাগিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেললে কোনও উপকার পাওয়া যায় না; বরং শ্যাম্পু ফেনা করার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট মাথার ত্বকে মালিশ করে রেখে দিতে হবে যাতে উপাদানগুলো ফলিকল বা চুলের গোড়ার গভীরে প্রবেশ করতে পারে।”

অন্যান্য মাথার ত্বকের রোগ ও চুল পড়া

ডা. জেসিকা ওয়াইজার বলেন, “মাথার ত্বকের সমস্যাগুলোকে চিকিৎসকেরা প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেন, ‘নন-স্কারিং’ (যা নিরাময়যোগ্য) এবং ‘স্কারিং’ (যা স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে)।”

খুশকি, হরমোনের তারতম্য, অটোইমিউন রোগ এবং ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’ হল ‘নন-স্কারিং’ বা সাময়িক সমস্যা।

তবে মাথার ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে চুলের গোড়ার মুখগুলো বন্ধ হয়ে ‘ফাইবারাস স্কার টিস্যু’ বা দাগ তৈরি হয়ে যায়, তবে সেই চুল পড়া আর কখনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

এর উদাহরণ হল, ‘লাইকেন প্ল্যানোপাইলারিস’, ‘ফ্রন্টাল ফাইব্রোসিং অ্যালোপেসিয়া’ এবং ‘ডিসকয়েড লুপাস এরিথেমাটোসাস’।

তাই চুল পড়ার সমস্যা ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল পড়া রোধে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিপস

মাথার ত্বকের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডা. জেসিকা ওয়াইজার এবং ডা. লেডি ডাই কয়েকটি দৈনিক অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দেন।

নিয়মিত চুল ধোয়া: সপ্তাহে অন্তত ৩ বার উচ্চ-মানের উপাদান সমৃদ্ধ শ্যাম্পু দিয়ে মাথা পরিষ্কার করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত তেল বা তৈলাক্ত ময়লা জমে জীবাণু সংক্রমণের সুযোগ না পায়।

নরম এক্সফোলিয়েশন ও আর্দ্রতা: মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ‘স্কাল্প মাস্ক’ বা ‘সিরাম’ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখবে।

চুলকানি পরিহার করা: মাথার ত্বকে নখ দিয়ে জোরে চুলকানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি’ বা প্রদাহরোধী লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

পুরানো খবর:

খুশকি দূর করার ঘরোয়া তিন উপায়
শীতে খুশকি প্রতিরোধে ঘরোয়া পন্থা
তেল দিলে কি খুশকি বাড়ে?
খুশকির শ্যাম্পু কি ব্রণের জন্য উপকারী?