২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

চুলের যত্নে নারিকেল তেল বনাম কাঠবাদামের তেল

সাধারণত নারিকেল তেল চুলের যত্নে ব্যবহার করা হয়। তবে জানেন কি কাঠবাদামের তেলও মাথার ত্বকের জন্য উপকারী?

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 05:57 PM

Updated : 25 Oct 2026, 05:57 PM

চুলের রুক্ষতা দূর করতে, অকালপক্বতা কমাতে বা সিল্কি ও উজ্জ্বলভাব ফিরিয়ে আনতে রূপচর্চার প্রধান অনুষঙ্গ হল তেল। আর যখনই চুলের যত্নে তেলের কথা আসে, তখন নারিকেল তেলের কথাই আগে মাথায় আসে।

তবে কাঠবাদামের তেলও যে উপকারী, সেটা হয়ত অনেকেরই অজানা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেল্থ’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রাতারাতি সেলুন-স্টাইল চুল না মিললেও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে নারিকেল ও কাঠবাদাম, দুই তেলই চুল এবং ‘স্ক্যাল্প’ বা মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশ কার্যকর।

তবে চুলের প্রকৃতি ও মাথার ত্বকের সমস্যাভেদে যে কোনো একটি তেল বেছে নেওয়া উচিত।

নিউ ইয়র্কের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং দ্বৈত বোর্ড-প্রত্যয়িত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রেন্ডন ক্যাম্প প্রতিবেদনে বলেন, “কোনও তেলই খুশকি বা সোরিয়াসিসের মতো জটিল চর্মরোগের সরাসরি ওষুধ নয়, তবে চুলের বাহ্যিক স্বাস্থ্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।”

কখন বেছে নেবেন নারিকেল তেল?

নারিকেল তেলের একটি অনন্য রাসায়নিক গঠন রয়েছে, যা চুলের একদম গভীরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এটি চুলের প্রোটিন ক্ষয় রোধ করে ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, কোঁকড়ানো বা যাদের চুল সহজেই ভেঙে বা চটে যায়, তাদের জন্য নারিকেল তেল মহৌষধ।

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অবস্থিত, ‘ভেনকাট সেন্টার ফর স্কিন’-এর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারিকেল তেল মাথার ত্বকের অণুজীব বা ‘স্ক্যাল্প মাইক্রোবায়োম’-এর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

এটি মাথার ত্বকের উপকারী ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি ঘটায়, যা প্রাকৃতিকভাবে খুশকি কমায়। এছাড়া এতে থাকা ‘মনোলাউরিন’ নামক উপাদান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।

নিয়মিত ব্যবহারে চুল নরম, মসৃণ ও সহজে জটমুক্ত হয়।

কখন বেছে নেবেন আমন্ড অয়েল বা কাঠবাদামের তেল?

কাঠবাদামের তেল প্রাকৃতিকভাবেই ভিটামিন ই এবং লিনোলিক অ্যাসিডের মতো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। চুলের পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতি রোধ করতে এটি বেশ কার্যকর।

‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ন্যানোমেডিসিন’-এ প্রকাশিত ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের করা ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে, কাঠবাদামের তেলে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘ই’, একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, বায়ু দূষণ এবং ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের হাত থেকে চুলের কোষগুলোকে সুরক্ষিত রাখে।

এছাড়া এর লিনোলিক অ্যাসিড স্ক্যাল্প বা মাথার চামড়ার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা স্তরকে মজবুত করে, বাহ্যিক ধুলোবালি ও অ্যালার্জেন থেকে রক্ষা করে।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, কাঠবাদামের তেল দিয়ে মাথার ত্বক আলতোভাবে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহের মাধ্যমে চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর হতে পারে।

চুলের রুটিনে তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রেন্ডন ক্যাম্পের পরামর্শ অনুযায়ী, চুলের প্রকৃতি বুঝে তেল ব্যবহার করা উচিত।

নারিকেল তেল ব্যবহারের নিয়ম: শ্যাম্পু করার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে নারিকেল তেল মাথার ত্বকে ও চুলে ভালোভাবে মালিশ করে, পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তবে মনে রাখা জরুরি, নারিকেল তেল ‘কমেডোজেনিক’ অর্থাৎ এটি ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। তাই যাদের ত্বক বা স্ক্যাল্পে ব্রণের প্রবণতা রয়েছে, তারা দীর্ঘক্ষণ মাথায় নারিকেল তেল রাখবেন না এবং তেল মাখা চুল যেন মুখের ত্বকে স্পর্শ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কাঠবাদামের তেল ব্যবহারের নিয়ম: শ্যাম্পু করার আগে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত এই তেল মেখে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি বেশ হালকা হওয়ায় স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে ব্রণের ঝুঁকি কমায়।

সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের বার্মিংহামের অ্যালাবামা’তে অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা’র ত্বকবিজ্ঞান বিভাগের চিকিৎসকদের পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার ত্বকে যদি ‘সেবোরিক ডার্মাটাইটিস’, একজিমা বা মারাত্মক কোনও সংক্রমণ থাকে, তবে তেল ব্যবহারের ফলে সেই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

তাই মাথায় অনবরত চুলকানি, লালচেভাব বা চামড়া ওঠার মতো সমস্যা থাকলে তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পুরনো খবর:

পরিচিত তেলের গুণাগুণ
ত্বকের যত্নে বিভিন্ন তেল
পুরুষের চুলের যত্নে পাঁচটি তেল