গালে ক্রিম না পাউডার ব্লাশ?
গালে গোলাপি আভা আনতে শুধু রং বাছাই নয়, ব্লাশের ধরনও বিবেচনায় নিতে হয়।
ত্বকের প্রকৃতি, সাজের ধরন ও কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা বুঝেই বাছাই করতে হবে ক্রিম অথবা পাউডার ব্লাশ।
মেইকআপে ব্লাশের কাজ শুধু গালে গোলাপি বা পিচ রং যোগ করা নয়, বরং চেহারায় সতেজতা আনা। তবে একই রংয়ের ব্লাশ ব্যবহার করার পরে কারও ক্ষেত্রে গালে আসে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা, আবার কারও সাজে ফুটে ওঠে মসৃণ, ম্যাট আবহ।
এর পেছনে ব্লাশের ধরন, ত্বকের অবস্থা এবং প্রয়োগের কৌশল— সবকিছুরই প্রভাব আছে।
“ক্রিম ব্লাশ ত্বকের সঙ্গে মিশে গিয়ে কোমল, আর্দ্র আভা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে পাউডার ব্লাশ গালের রংকে স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলতে এবং সাজের স্থায়িত্ব বাড়াতেও সহায়ক”, বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
ক্রিম ব্লাশে স্বাভাবিক আভা
ক্রিম ব্লাশের গঠন নরম ও মসৃণ। আঙুল, স্পঞ্জ বা উপযুক্ত তুলি দিয়ে এটি গালে লাগানো যায়।
ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে গেলে মনে হয়, গালের স্বাভাবিক লালচে আভার সঙ্গেই রংটি এক রয়েছে অর্থাৎ অনেকটাই প্রাকৃতিক রং মনে হয়।
“তাই খুব বেশি মেইকআপ না করেও সতেজ ও উজ্জ্বল চেহারা পছন্দ করলে, ক্রিম ব্লাশ ভালো বিকল্প হতে পারে”, পরামর্শ দেন শারমিন কচি।
শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশ বিশেষভাবে আরামদায়ক মনে হতে পারে, মনে করেন এই রূপ-বিশারদ। কারণ এর কিছু ধরনে ত্বককে মসৃণ ও আর্দ্র দেখানোর মতো উপাদান থাকে।
তবে সব ক্রিম ব্লাশ একই রকম নয়। কোনওটি আর্দ্র আভা দেয়, আবার কোনওটি তুলনামূলক ম্যাট দেখায়। তাই শুধু নাম দেখে নয়, পণ্যের গঠন ও শেষের আভা কেমন, সেটা বুঝে নেওয়া ভালো।
ক্রিম ব্লাশ লাগানোর সময় অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা উচিত। গালের যে অংশে স্বাভাবিকভাবে লালচে আভা ফুটে ওঠে, সেখানে ব্লাশ লাগিয়ে আঙুলের ডগা বা স্পঞ্জ দিয়ে আলতোভাবে ছড়িয়ে দেওয়াই সঠিক পদ্ধতি।
“একবারে প্রথমেই বেশি ব্লাশ লাগালে, সমানভাবে মেশানো কঠিন হতে পারে। প্রয়োজনে অল্প অল্প করে রং বাড়ালে নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হয়”, বলেন কচি।
তবে তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে ক্রিম ব্লাশ বাছাইয়ে সতর্ক থাকা দরকার। কিছু পণ্যের গঠন ত্বকে ভারী লাগতে পারে।
এক্ষেত্রে ত্বকের উপযোগী, সহজে মিশে যায় এমন এবং রোমকূপ বন্ধ করার ঝুঁকি কম এমন পণ্য বেছে নেওয়া ভালো।
পাউডার ব্লাশে পরিপাটি সাজ
পাউডার ব্লাশ সাধারণত গুঁড়ার মতো নরম গঠনের হয়। তুলি দিয়ে অল্প অল্প করে গালে লাগিয়ে ব্লাশ ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এটি গালে তুলনামূলক স্পষ্ট রং ও মসৃণ এবং অনেকটাই ম্যাট আভা তৈরি করতে পারে।
সাজে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি ভাবের জন্য পাউডার ব্লাশ উপযোগী হতে পারে।
কচি বলেন, “তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশ বেশ সুবিধাজনক। বিশেষ করে মুখে তেলতেলেভাব দেখা দিলে এই ব্লাশ সাজকে তুলনামূলক ম্যাট দেখাতে সাহায্য করতে পারে। তবে পাউডার ব্লাশ নিজে থেকেই সব সময় দীর্ঘস্থায়ী হবে, এমন নয়। ত্বকের তৈলাক্ততা, আবহাওয়া, ব্যবহৃত প্রসাধনীর ধরন এবং প্রয়োগের পদ্ধতির ওপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে।”
পাউডার ব্লাশ লাগানোর আগে মুখের বেইজ মেইকআপ বা ভিত্তি তৈরির প্রসাধনী ঠিকভাবে বসতে দেওয়ার সময় নিতে হবে।
এরপর তুলিতে অল্প ব্লাশ নিয়ে বাড়তি গুঁড়া ঝেড়ে বা ‘ডাস্ট আউট’ করে গালের ওপর হালকা হাতে লাগাতে হবে।
প্রথমেই গাঢ় করে না লাগিয়ে, ধীরে ধীরে ব্লাশ বাড়ালে স্বাভাবিক দেখায়। এক জায়গায় বেশি ব্লাশের রং জমে গেলে পরিষ্কার তুলির সাহায্যে চারপাশে ছড়িয়ে নেওয়া যায়।
শুষ্ক ত্বকে পাউডার ব্লাশ কখনও কখনও ত্বকের খসখসে অংশ বা সূক্ষ্ম রেখাকে বেশি স্পষ্ট করে তুলতে পারে। তাই এ ধরনের ত্বকে আগে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বক প্রস্তুত করা জরুরি।
“ত্বক খুব শুষ্ক হলে ক্রিম ব্লাশ তুলনামূলক আরামদায়ক বিকল্প হতে পারে”, বলেন শারমিন কচি।
ত্বকের ধরন বুঝে বাছাই
শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশের কোমল আভা ভালো লাগতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশের ম্যাট ভাব যথাযথ। তবে এটা মেইকআপের কঠোর কোনও নিয়ম নয়।
তৈলাক্ত ত্বকেও উপযুক্ত ক্রিম ব্লাশ ব্যবহার করা যায়, আবার শুষ্ক হলেও ভালোভাবে প্রস্তুত করা ত্বকে পাউডার ব্লাশ সুন্দর দেখাতে পারে।
মিশ্র প্রকৃতির ত্বকে মুখের বিভিন্ন অংশে আলাদা সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন, কপাল ও নাক তৈলাক্ত হলেও গাল শুষ্ক থাকতে পারে।
এক্ষেত্রে কচির পরামর্শ হল, “ত্বকের অবস্থা বুঝে ব্লাশ নির্বাচন করা যায়। গাল শুষ্ক হলে ক্রিম ব্লাশ এবং তৈলাক্ত অংশে সাজের প্রয়োজন অনুযায়ী পাউডার প্রসাধনী ও ব্লাশ ব্যবহার করা যেতে পারে।”
সংবেদনশীল ত্বকে নতুন ব্লাশ ব্যবহারের আগে উপাদানের তালিকা দেখা জরুরি। সুগন্ধি বা নির্দিষ্ট কোনও উপাদানে অস্বস্তি হলে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে।
এছাড়া নতুন পণ্য প্রথমে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচেভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
দিনের সাজে এক রং, অনুষ্ঠানে আরেক
ব্লাশের রং ও ধরন সাজের আবহ বদলে দিতে পারে। দিনের সাধারণ সাজে হালকা গোলাপি, পিচ বা নরম প্রবাল রংয়ের ক্রিম ব্লাশ গালে সতেজতা আনতে পারে। হালকা হাতে লাগালে মুখে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের অনুভূতিও হয় না।
কর্মক্ষেত্র বা বাইরে যাওয়ার সাধারণ সাজেও এমন আভা মানিয়ে যায়।
অন্যদিকে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান, বিয়ের দাওয়াত বা উৎসবের সাজে একটু স্পষ্ট রং আনতে পাউডার ব্লাশ ব্যবহার করা যায়। গোলাপি, বেরি কিংবা উষ্ণ পিচ রং- পোশাক ও ঠোঁটের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেওয়া যেতে পারে।
“তবে গাঢ় রং মানেই বেশি সুন্দর সাজ নয়। ত্বকের রং, পোশাকের ধরন এবং চোখ ও ঠোঁটের মেইকআপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই আসল”, বলেন কচি।
ব্লাশের রং বাছাইয়ের সময় ত্বকের স্বাভাবিক আভাও বিবেচনা করা যায়। হালকা গোলাপি আভা শীতল ধরনের সাজে মানাতে পারে, আর পিচ বা উষ্ণ প্রবাল রং উষ্ণ আবহ তৈরি করতে পারে।
“তবে ত্বকের বর্ণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট একটি রংই ব্যবহার করতে হবে, এমন নয়। নিজের পছন্দ ও পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষা করে দেখা সবচেয়ে ভালো উপায়”, মন্তব্য করেন এই রূপ-বিশারদ।
