২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যে ভিটামিনে চুল শক্ত ও ঘন হতে পারে

চুল পড়ার নানান কারণের মধ্যে একটি হল ভিটামিনের অভাব।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 12:10 PM

Updated : 29 Sep 2026, 12:10 PM

‘মৃদু বাতাসে আস্তে আস্তে তাহার খোলা চুল উড়াইতেছে

এবং তাহার চোখ দিয়া এমন ঝরঝর করিয়া কেন জল বহিয়া যাইতেছে…’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মধ্যবর্তিনী’-তে চারুর খোলা চুলের মতো চুল পাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও বাতাসে উড়বে এমন চুল পেতে দরকার বাড়তি যত্নের মনোযোগ।

চুল পড়া বা পাতলা হয়ে যাওয়ার পেছনে বংশগত কারণের পাশাপাশি মানসিক চাপ, দূষণ, বয়স বাড়া, মাথার ত্বকের ভারসাম্যহীনতা এবং পুষ্টির ঘাটতিও কারণ হতে পারে।

রূপবিশেষজ্ঞ ও বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান শারমিন কচির মতে, “দস্তা পাশাপাশি ‘এ’, ‘সি’, ‘ডি’ এবং ‘ই’ ধরনের ভিটামিন মাথার ত্বক ও চুলের গোড়ার স্বাস্থ্যে প্রয়োজন।

দরকারি পুষ্টি চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে পৌঁছাতে পারলে ধীরে ধীরে শক্ত, ঘন ও স্থিতিস্থাপক চুল গড়ে ওঠার জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

চুল পড়ার পেছনে যে কারণ থাকতে পারে

চুল পড়ার কারণ একটি নয়। বংশগত কারণ ছাড়াও মানসিক চাপ, দূষণ, মাথার ত্বকের ভারসাম্যহীনতা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া নানান পরিবর্তন চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে কোনও অসুস্থতার কয়েক মাস পরও চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।

নারীদের অতিরিক্ত চুল পড়ার ক্ষেত্রে পুষ্টির ঘাটতিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হলে তার প্রভাব চুলে দেখা দিতে পারে।

“এমনকি রক্তে কোনও পুষ্টি উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার কাছাকাছি থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে”, বলেন এই রূপ-বিশারদ।

যে ধরনের পুষ্টি চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

চুলের বৃদ্ধির সঙ্গে বায়োটিন, ‘এ’, ‘সি’, ‘ডি’ এবং ‘ই’ ভিটামিনসহ দস্তা, লোহা এবং বিভিন্ন খনিজের সম্পর্ক রয়েছে।

বায়োটিন চুলের গঠন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। চুলের প্রধান গঠনগত উপাদান কেরাটিন তৈরিতেও এটি প্রয়োজনীয়।

শারমিন কচি বলেন, “মাথার ত্বক ও চুলের গোড়াকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা হলে, চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য শরীরের ভেতরে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। তবে কোনও একটি ভিটামিন খেলেই রাতারাতি নতুন চুল গজাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।”

চুলের জন্য ভিটামিন কি সত্যিই কাজ করে?

বায়োটিন এবং ভিটামিন ‘সি’, ‘ই’ ও ‘বি১’ ধরনের ভিটামিন চুলের বৃদ্ধির পর্যায়কে কিছুটা দীর্ঘ করতে এবং ঝরে পড়ার পর্যায়ে থাকা চুলের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

কেরাটিন তৈরিতেও ভূমিকা রাখে বায়োটিন।

তবে সব ধরনের চুলের পুষ্টি প্রয়োজন এক রকম নয়। তাই শুধু একটি উপাদানের ওপর নির্ভর না করে এমন পুষ্টি-সমন্বয় বেছে নেওয়া উচিত, যাতে চুলের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় থাকে।

মাথার ত্বকের যত্নও জরুরি

নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করলে ত্বকের কোষ পর্যায় থেকে মাথার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

উদ্ভিদজাত উপাদান ও অ্যামিনো অ্যাসিডসমৃদ্ধ উপাদান কিছু সাধারণ পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

কচি বলেন, “এ’, ‘ই’ ও ‘ডি’ ধরনের ভিটামিন চুলের গোড়ার স্বাস্থ্যে ভালো কাজ করে। বায়োটিন, লোহা ও দস্তাও চুলের বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রকে সহায়তা করতে পারে।”

শুধু ভিটামিনে ভরসা নয়

চুলের বৃদ্ধি খুব ধীর একটি প্রক্রিয়া। তাই কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ভিটামিন খেয়েই বড় পরিবর্তন আশা করা ঠিক নয়। শক্ত ও ঘন চুল পেতে সময় লাগে। নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি ধৈর্যও প্রয়োজন। কারণ চুলের নিজস্ব একটি চক্র রয়েছে। এতে বৃদ্ধির পর্যায়, বিশ্রামের পর্যায় এবং ঝরে পড়ার পর্যায় থাকে।

চুল ধীরে বাড়ে বলেই কোনও পুষ্টি বা যত্নের প্রভাব দেখতে সময় লাগতে পারে।

অতিরিক্ত বায়োটিন নয়

চুল পড়ছে বলে নিজের ইচ্ছায় বেশি মাত্রায় বায়োটিন বা অন্য কোনও ভিটামিন গ্রহণ করা ঠিক নয়। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভালো উপাদানও শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

“তাই শুধু জনপ্রিয় কোনও উপাদানের নাম দেখে তা গ্রহণ না করে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টির মাত্রা বিবেচনা করা উচিত”, পরামর্শ দেন শারমিন কচি।

পুরানো খবর:

চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে চুলের ৫টি পরিবর্তন ও যত্নের উপায়
মাথার ত্বকের যে অংশ থেকে চুল পাতলা হয়
চুলের যত্নে নব্য ধারা ‘হেয়ার সাইক্লিং’
প্রাকৃতিকভাবে চুল ঘন দেখানোর উপায়