Published : 19 Jul 2026, 11:00 AM
বয়স বাড়া, মানসিক চাপ, অপুষ্টি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহারে ধীরে ধীরে চুল হতে পারে পাতলা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুল রাতারাতি ঘন করার তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নেই। তবে কিছু অভ্যাস চুলের গোড়া মজবুত, ভাঙা কমাতে এবং সময়ের সঙ্গে চুলকে আরও ঘন দেখাতে সহায়ক।
সুষম খাদ্য গুরুত্ব দেওয়া
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি, চুলের সুস্থতার জন্য প্রথমেই পুষ্টির ওপর গুরত্ব দেন।
তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত প্রোটিন, লোহা বা আয়রন, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকলে চুল পড়া, ভেঙে যাওয়া কিংবা পাতলা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
নানান পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও, জানান তিনি।
তার কথায়, “চিকিৎসক প্রয়োজনে আয়রনের মাত্রা, ভিটামিন ডি, থাইরয়েডের কার্যকারিতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় পরীক্ষা করে দেখেন, যাতে চুল পাতলা হওয়ার ভেতরের কারণ শনাক্ত করা যায়।”
নিয়মিত মাথার ত্বকে মালিশ
স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে হালকা মালিশ শুধু আরামই দেয় না, এটি চুলের জন্যও উপকারী হতে পারে। মাথার ত্বকে মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে। এতে চুলের গোড়া পুষ্টি পায় এবং নতুন চুলের বৃদ্ধিতে উপকার হতে পারে।
তিনি পরামর্শ দেন, “শ্যাম্পু করার সময় অথবা গোসলের আগে আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে গোলাকারভাবে মাথার ত্বকে মালিশ করা যেতে পারে। চাইলে এ জন্য বিশেষ মালিশের সামগ্রীও ব্যবহার করা যায়।”
সূর্যের তীব্র আলো থেকে চুল রক্ষা
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকেরই নয়, চুলেরও ক্ষতি করতে পারে।
অতিবেগুনি রশ্মির কারণে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়। এতে চুল ভেঙে যেতে পারে, রং ফিকে হয়ে যায় এবং চুল পাতলা দেখায়।
এই রূপ-বিশারদের পরামর্শ, “দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে টুপি, ওড়না বা চুল ঢেকে রাখার ব্যবস্থা ব্যবহার করা উচিত। এতে চুল ও মাথার ত্বক সরাসরি রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।”
মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শুধু মনের ওপর নয়, চুলের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপ থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই মানসিক চাপের কারণ চিহ্নিত করে, কমানোর চেষ্টা করলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসতে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার কমান
চুল সোজা করা, কোঁকড়ানো বা শুকানোর জন্য অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপ চুলের ভেতরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। এতে চুলের গঠন দুর্বল হয়ে যায়, সহজে ভেঙে যায় এবং সময়ের সঙ্গে পাতলা দেখাতে শুরু করে।
মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা
চুলের যত্ন বলতে শুধু চুলের ডগার যত্ন বোঝায় না। মাথার ত্বকের সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে নতুন চুলের বৃদ্ধি হতে সমস্যা হয়। তাই এমনভাবে পরিচর্যা করা উচিত, যাতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা, অতিরিক্ত শক্তিশালী পরিষ্কারক উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, বারবার ‘ড্রাই শ্যাম্পু’ ব্যবহার বা খুব গরম বাতাস দিয়ে চুল শুকানো মাথার ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে।
চুল আঁচড়ানোর সময় সতর্কতা
চুল আঁচড়ানো সাধারণ অভ্যাস হলেও, ভুলভাবে আঁচড়ালে চুল ভেঙে যেতে পারে। বড় ফাঁকযুক্ত চিরুনি বা নরম ব্রাশ ব্যবহার করলে চুলের ওপর চাপ কম পড়ে।
খুব জোরে বা টান দিয়ে আঁচড়ানো উচিত নয়।
ভেজা অবস্থায় চুল বেশি দুর্বল থাকে। তাই সম্ভব হলে চুল কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার পর আঁচড়ানো ভালো। এতে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
পুষ্টিকর পরিচর্যার ব্যবহার
শারমিন কচির মতে, “নিয়মিত পুষ্টিকর পরিচর্যা চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে আর চুল ঘন দেখায়। শিয়া বাটার, আর্গান তেলে বা প্রাকৃতিক কেরাটিনের মতো উপাদান চুল ঘন করতে ভালো কাজ করে।”
এছাড়া সপ্তাহে একবার প্রাকৃতিক পুষ্টিদায়ক পরিচর্যা ব্যবহার করলে চুলের মাঝের অংশ ও ডগা বা নিচের অংশ আর্দ্র থাকে এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও কমে।
আরও পড়ুন