Published : 07 Jun 2026, 05:15 PM
একসময় ঘন, লম্বা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে চুলের পরিমাণ। আবার চুল যেন একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর বাড়তেও চায় না।
যতই যত্ন নেওয়া হোক, নিয়মিত ছাঁটা বা বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করা হোক, চুল একই দৈর্ঘ্যে আটকে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে অনেক সময় ‘স্থায়ী ছোট দৈর্ঘ্যের চুলের সমস্যা’ হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ চুল বাড়ছে ঠিকই, তবে দুর্বলতা ও ভাঙনের কারণে সেই বৃদ্ধি আর চোখে পড়ে না।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি বলেন, “অধিকাংশ মানুষ মনে করেন চুল বুঝি বাড়ছে না। তবে অনেক ক্ষেত্রে চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয় না, বরং চুল এতটাই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে যে, বাড়ার আগেই আগা ফেটে যায় বা ভেঙে যায়। ফলে চুলের দৈর্ঘ্য একই রকম দেখায়।”
চুল একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর আর বড় না হওয়া কারণ
কচি বলেন, “এই সমস্যার পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করে, অপুষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ। শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় উপাদান পায় না। বিশেষ করে পর্যাপ্ত প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে।”
চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের অভাব দেখা দিলে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন নতুন চুল গজালেও, শক্তিশালী হয় না। ফলে চুলের আগা দ্রুত ফেটে যায়, আর ভেঙে পড়তে থাকে।”
এছাড়া দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে দেহে প্রদাহের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই প্রদাহ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চুল পড়া না হলেও থাকতে পারে সমস্যা
অনেকেই মনে করেন, চুল পড়া মানেই চুলের সমস্যা। তবে অনেক সময় গোড়া থেকে নতুন চুল তৈরি হলেও, সেই চুল ক্রমশ পাতলা, দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। ফলে লম্বা হয় না।
চুল বাড়ার গতি স্বাভাবিক থাকলেও, ভাঙনের হার বেশি হওয়ায় চুল একই দৈর্ঘ্যে আটকে আছে বলে মনে হয়।
দৈনন্দিন অভ্যাসও দায়ী
চুলের ক্ষতির পেছনে শুধু শরীরের ভেতরে নয়, বাইরের কারণও সমানভাবে দায়ী। নিয়মিত অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার, চুল সোজা বা কোঁকড়ানো করার যন্ত্রের ব্যবহার, ঘন ঘন রং করা কিংবা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুলের ধরন পরিবর্তন করার প্রবণতা চুলকে দুর্বল করে দেয়।
তাপের কারণে চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে চুলের আর্দ্রতা কমে যায় এবং সহজেই ভেঙে যায়। একইভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক শক্তি অনেকটাই নষ্ট হতে পারে।
“আবার শক্ত করে চুল বাঁধা, ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো বা নিম্নমানের চিরুনি ব্যবহারের মতো অভ্যাসও চুলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়”, বলেন শারমিন কচি।
আরও পড়ুন
চুলের প্রান্তভাগ সুন্দর রাখার উপায়
যে কারণে চুলের নিচের অংশ রুক্ষ হয়
মানসিক চাপের প্রভাব
মানসিক চাপ শুধু মনেই নয়, চুলেও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও চাপ, শরীরে কর্টিসল নামের হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
উচ্চমাত্রার কর্টিসল শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে, ফলে চুলের বৃদ্ধি চক্র ব্যাহত হয়। যে কারণে চুল আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে, আর স্বাভাবিক দৈর্ঘ্যে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে যায়।
খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস জরুরি। পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান না পেলে চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হতে পারে।
তাই সমাধান হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, মাংস, ডাল, দুধ, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজি রাখার পরামর্শ দেন, এই রূপ-বিশারদ।
কারণ এসব খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান, চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পানও জরুরি। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে চুলের শুষ্কভাব ও প্রাণহীনতা সহজেই চোখে পড়ে।
মাথার ত্বকের যত্ন জরুরি
চুলের স্বাস্থ্য অনেকাংশেই নির্ভর করে মাথার ত্বকের অবস্থার ওপর। মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো থাকলে চুলের গোড়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি সহজে পায়।
তাই মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প, নিয়মিত মালিশ বা পরিচর্যার পরামর্শ দেন, শারমিন কচি। এতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে, আর চুলের বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে মাথার ত্বক অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা বা অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক ব্যবহার একেবারেই করা যাবে না।
আরও পড়ুন