চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে চুলের ৫টি পরিবর্তন ও যত্নের উপায়
বিশেষ করে নারীদের চল্লিশ পার হতেই হরমোনের তারতম্যে চুল পড়া ও শুষ্কতা বেড়ে যেতে পারে।
চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর নারীদের শরীরে নানান ধরনের হরমোনজনিত এবং জৈবিক পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পেরিমেনোপজ’ নামে পরিচিত, এই সময়ে শরীরে হরমোনের তীব্র তারতম্য ঘটে। ফলে ‘হট ফ্ল্যাশ’ বা মেজাজ পরিবর্তনের মতো পরিচিত লক্ষণের পাশাপাশি নারীদের চুলে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক পোর্টাল সেল্ফ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বয়স চল্লিশ পার হওয়ার পর চুল পেকে যাওয়ার পাশাপাশি ঘনত্ব, গঠন এবং উজ্জ্বলতায় বড় ধরনের রূপান্তর আসে, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও হরমোনজনিত কারণে ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিএলএ হেলথ-এর চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যারোলিন গোহ বলেন, “পেরিমেনোপজের সময় শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। ফলে ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং টেস্টোস্টেরনের আধিক্য দেখা দেয়।
এই পরিবর্তনের কারণে চুলের ফলিকল বা গোড়ার বৃদ্ধি চক্র ছোট হয়ে যায় এবং চুল বেশি মাত্রায় ঝরতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া’ বা নারীসুলভ চুল পড়া বলা হয়।”
ম্যানহাটন ডার্মাটোলজির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ডেন্ডি এঙ্গেলম্যান, ব্যাখ্যা করেন, “হরমোনের এই প্রভাবে চুলের ফলিকলগুলো সংকুচিত হয়ে ছোট হয়ে যায়। ফলে নতুন গজানো চুলগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি পাতলা ও সূক্ষ্ম হয়। একই সঙ্গে মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ায়, চুল অতিরিক্ত শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। আর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়।”
চুলের এই অকাল বার্ধক্য ও গঠনের পরিবর্তন রোধে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গনের ‘স্কাল্প’ বা মাথার ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টিন লো সিকো এবং ডা. জেসিকা শেফার্ড, কয়েকটি যত্নের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত, চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়লে শ্যাম্পু করার সংখ্যা কমিয়ে দিতে হবে এবং সব সময় সালফেট-মুক্ত মৃদু ও আর্দ্রতা রক্ষাকারী বা হাইড্রেইটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, চুলের ভঙ্গুরতা রোধ করতে কেরাটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড (যেমন- গ্লাইসিন ও আরজিনিন) এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন সমৃদ্ধ ‘ডিপ কন্ডিশনার’ বা ‘হেয়ার মাস্ক’ ব্যবহার করা জরুরি, যা চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি হরমোন ছাড়াও থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা আয়রন, ভিটামিন ডি এবং জিঙ্কের ঘাটতির কারণেও চুল পড়তে পারে।
তাই চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট ও অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং বর্জন করার পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ‘মিনোক্সিডিল’ ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে।
