সুস্থ দীর্ঘায়ু লাভ ও বার্ধক্য জয়ে জীবনমুখী শখ
একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি আয়ু বাড়াবে প্রিয় কিছু অভ্যাস।
ব্যস্ত জীবনে শখ বা পছন্দের কাজ কেবল একঘেয়েমি দূর করে না; বরং মানসিক চাপ কমাতে, মানসিক বিকাশ ঘটাতে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু সুনির্দিষ্ট শখ বা অভ্যাস আয়ু বাড়াতে এবং বার্ধক্যকে জয় করতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
জীবনধারা ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক সাময়িকী রিয়েল সিম্পল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে, ক্যালিফোর্নিয়ার ‘টিমনস ওয়েলনেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞ ডা. জেনিফার টিমনস বলেন, “এমন কিছু শখ বেছে নেওয়া উচিত যা একই সঙ্গে শরীর, মস্তিষ্ক এবং সামাজিক যোগাযোগকে উদ্দীপিত করতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেন, “বার্ধক্যের নানান জটিলতা এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা জরুরি।”
তার মতে, ‘টেনিস’ খেলা এবং ‘বাগান করা’ দীর্ঘায়ু লাভের জন্য উপকারী দুটি শখ।
টেনিস একদিকে যেমন শরীরকে সচল রাখে, অন্যদিকে এটি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে।
আবার বাগান করার মাধ্যমে নিয়মিত ওঠাবসা ও নড়াচড়া হওয়ায় পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং রোদে থাকার ফলে শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রফুল্ল রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-র নিবন্ধিত ক্লিনিক্যাল কাউন্সেলর এমিলি লিন্ডার, এর সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, “ছন্দময়, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং স্পর্শকাতর কাজের অভ্যাস ‘কর্টিসল’ বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে।”
‘নাচ’ হতে পারে দীর্ঘায়ু অর্জনের সম্পূর্ণ বা ‘অল-ইন-ওয়ান’ শখ।
এমিলি লিন্ডার ব্যাখ্যা করেন, “নাচ একদিকে যেমন বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য, সমন্বয় ও হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখে; অন্যদিকে নতুন কোরিওগ্রাফি মনে রাখা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া প্রাচীন চীনা মার্শাল আর্ট ‘তাই চি’ নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইমেরিটাস ডা. টার্নার ওসলার মন্তব্য করেন, “ধীর ও মৃদু নড়াচড়ার এই ব্যায়াম বয়স্ক ব্যক্তিদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং পা ও কোরের পেশি অর্থাৎ দেহের মধ্যবর্তী অংশের পেশি শক্তিশালী করে।”
মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা ধরে রাখতে শব্দজট ও পাজল মেলানো, নতুন কোনো ভাষা শেখা, সেলাই বা বুনন এবং মৃৎশিল্প বা সিরামিকসের মতো হাতের কাজ স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ অংশকে দীর্ঘ সময় সতেজ রেখে সুস্থ দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
