সংগ্রহশালায় নজরুলের 'জগৎতারিণী’ ‘পদ্মভূষণ' পদক আসল নয়!

কাজী রেজাউল করিম এবং তার মেয়ে সোনালি কাজীর অভিযোগ আসল পদক নিয়ে গিয়ে তারা (কল্যাণী কাজীর পরিবার) সংগ্রহশালায় দুটি 'রেপ্লিকা বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন'।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2023, 06:19 AM
Updated : 2 Dec 2023, 06:19 AM

জন্মস্থান চুরুলিয়ার সংগ্রহশালায় রাখা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'জগৎতারিণী’ ও ‘পদ্মভূষণ' পদক দুইটি আসল নয় বলে অভিযোগ এসেছে তার পরিবারের পক্ষ থেকে।

সংগ্রহশালা থেকে আসল পদক দুটি নিয়ে সেখানে সেগুলোর রেপ্লিকা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কবির ভাতিজা কাজী রেজাউল করিম এবং তার মেয়ে সোনালি কাজী।

নজরুলের পরিবারের এই দুই সদস্যের দাবি, দুই দশক আগে 'জগৎতারিণী' ও 'পদ্মভূষণ' পদক দুটি কবির প্রয়াত পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী এসে সংগ্রশালা থেকে নিয়ে গেছেন।

তাদের অভিযোগ, আসল পদক নিয়ে তারা (কল্যাণী কাজীর পরিবার) সংগ্রহশালায় দুটি 'রেপ্লিকা বসিয়ে দিয়ে গিয়েছেন'। পদক দুটি কল্যাণী কাজীর পরিবারের কাছেই আছে বলেও জানান তারা।

কবির ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গানের সুর বিকৃত করা নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যে তার পদক নিয়ে এই খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনি।

জাতীয় স্বার্থে নজরুলের 'জগৎতারিণী’ ও ‘পদ্মভূষণ' পদক দুটি চুরুলিয়ার সংগ্রশালায় ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন কবি পরিবারের এই সদস্যরা। 

এদিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কল্যাণী কাজীর ছেলে কাজী অনির্বাণ।

নজরুলের জন্মস্থান ভারতের বর্ধমানের চুরুলিয়ায় তার একটি সংগ্রশালা রয়েছে। সংগ্রহশালায় কবির খাট বিছানা থেকে শুরু করে তার ব্যবহৃত গ্রামোফোন, পোশাক, পান্ডুলিপিসহ নানা কিছু রাখা আছে। সে সবের সঙ্গে আছে ভারত সরকারের দেওয়া 'পদ্মভূষণ' এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া 'জগৎতারিণী’ পদক।

সোনালি কাজীর দাবি, বেশ কিছুদিন আগে নিউ জার্সিতে একটি প্রদর্শনীতে কাজী নজরুলের ওই পদক দুটি তিনি দেখেছেন।

“ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ ব্যবসা করার জন্য এই পদকগুলি চুরুলিয়া থেকে নিয়ে গেছে,” ভাষ্য সোনালির। 

কবির ভাতিজা কাজী রেজাউল করিম বলেন, “আমরা যখন নজরুল একাডেমি তৈরি করি তখন আমি ওই একাডেমির সম্পাদক ছিলাম এবং কবির পুত্রবধূ কল্যাণী কাজীর কাছ থেকে ওই দুটি পদক আমরা নিয়ে এসেছিলাম। মাঝে আমি সম্পাদক পদে ছিলাম না। আবার যখন পরে দায়িত্ব পাই এবং নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় যখন সংগ্রহশালা ও একাডেমির দায়িত্ব নেয় তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাই এই দুটি পদক আসলে রেপ্লিকা।

“২০০০ সালে ওই পদক দুটি এখান থেকে নিয়ে গিয়েছেন কবির পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী।”

'দোলনচাঁপা' নজরুল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক সোনালি কাজী বলেন, “বহু ডলারের বিনিময়ে আমেরিকার নিউ জার্সিতে নজরুলকে নিয়ে এক্সিবিশন হয়েছিল এবং সেখানে ওই দুটি আসল পদক দেখানো হয়েছিল। ওই পদক ওদের (কল্যাণী কাজীর পরিবার) কাছেই আছে।

“যেহেতু চুরুলিয়া নজরুল একাডেমি ও সংগ্রহশালাতে পদক দুটি দেওয়া হয়েছিল তাই অন্য কিছু না, ওই পদকগুলি আমরা ফেরত চাইছি মানুষের স্বার্থে। কারণ নজরুল জাতীয় সম্পত্তি, জাতীয় সম্পদ কারও ব্যক্তিগত নয়।”

ভারতে নজরুল চর্চা কেন্দ্রের সম্পাদক সঞ্জীবন বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলে বলেন, “এই ঘটনা আমরা শুনে অবাক হয়েছি। আমরা এতদিন জানতাম ওই পদকগুলি আসল। আমরা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে কাজী নজরুল ইসলামের নাতি কল্যাণী কাজীর ছেলে কাজী অনির্বাণ বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। আমার মা জানেন। কিন্তু আমার মা মারা যাওয়ার পর এইসব প্রশ্ন কেন উঠছে? এর আগে কেন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি?”

এর আগে নজরুলের বিখ্যাত গান ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ এর সুর বিকৃত করা নিয়ে বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যে এবার কবি পরিবারের সদস্যদের দ্বন্দ্ব-মতভেদ প্রকাশ্যে আসে। 'পিপ্পা' সিনেমায় ব্যবহার করা গানটির স্বত্ব হস্তান্তর চুক্তি নিয়ে বিভক্তি দেখা গেছে ঢাকা ও কলকাতায় থাকা নজরুলের নাতি-নাতনিদের মধ্যে।

নজরুলের দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও কাজী অনিরুদ্ধের দুই ছেলেমেয়ে খিলখিল কাজী ও কাজী অরিন্দম দাবি করেছেন, ‘পিপ্পা’ টিমকে ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার চুক্তির কথা তাদের কাছে ‘গোপন’ রাখা হয়েছে।

আর গানের চুক্তিপত্র দেখে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করার পক্ষে কথা বলেছিলেন কাজী অনিরুদ্ধের মেয়ে অনিন্দিতা কাজী।

নজরুলের পুত্রবধূ প্রয়াত সংগীত শিল্পী কল্যাণী কাজী ২০২১ সালে গানটি অবিকৃত রেখে ‘পিপ্পা’ টিমকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন, সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে কাজী অনির্বাণ। সেই অনুমতি কেবল মৌখিক ছিল না। ‘যাবতীয় নিয়ম মেনে’ করা সেই চুক্তিপত্র অনির্বাণের কাছে বলে দাবি করেছেন তার বোন অনিন্দিতা।

অন্যদিকে, এর আগে গান প্রকাশের পর গানটি বিকৃত করার অভিযোগ এনে গানের ক্রেডিট থেকে তার পরিবারের নাম মুছে ফেলার দাবি তুলেছিলেন কাজী অনির্বাণ।

এদিকে চুরুলিয়ার থাকা নজরুলের ভাতিজা কাজী রেজাউল করিম এবং সোনালি কাজীর ভাষ্য, ‘পিপ্পা’ টিমকে গানটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে কল্যাণী কাজী যে কাজটি করেছিলেন, সেটি ঠিক হয়নি।

‘কারার ওই লৌহকপাট’ গানটি নিয়ে পরিবার থেকে যা যা করা হয়েছে তাতে কবি বিভিন্ন মূল্যবান সম্পত্তি কতটা সুরক্ষা থাকবে সেটি নিয়ে চুরুলিয়ার কবি পরিবার সন্দিহান।

আরও পড়ুন-

Also Read: ‘লৌহকপাট’ বিতর্কে নজরুল পরিবারেই বিভক্তি

Also Read: নজরুলের গান বিতর্কে পিপ্পা নির্মাতাদের ‘ক্ষমা’ প্রার্থনা

Also Read: এ আর রহমান ‘গর্হিত অপরাধ’ করেছেন: খিলখিল কাজী

Also Read: ‘লৌহকপাট’: এবার চুক্তিপত্র নিয়ে প্রশ্ন কবির পৌত্রীর

Also Read: নজরুলকে নিয়ে ‘ইয়ার্কি’?

Also Read: ‘কারার ঐ লৌহকপাট’: এ রহমানের সমালোচনায় হৈমন্তী, অজয় ও অনির্বাণ

Also Read: এ আর রহমানের ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ অপসারণে উকিল নোটিস