Published : 03 Sep 2024, 12:47 PM
যে সিনেমা বানানোর জন্য জায়গাজমি-বাড়িঘর বন্ধক রেখেছিলেন হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত, সেই ‘ইমার্জেন্সি’র মুক্তি আটকে গেছে।
এনডিটিভি লিখেছে, ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে নির্মিত 'ইমার্জেন্সি’ মুক্তির কথা ছিল আগামী ৬ সেপ্টেম্বর; এ সপ্তাহের শুরুতে সেন্সর ছাড়পত্রও মিলে যাবে বলে আশায় ছিলেন কঙ্গনা।
কিন্তু ‘তথ্য বিকৃতির’ অভিযোগে দেশটির সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন-সিবিএফসি থেকে ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তিতে সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। তাই ৬ সেপ্টেম্বর হলে আসছে না সিনেমাটি।এ সিনেমা কবে মুক্তি পেতে পারে সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানায়নি ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো।
‘ইমার্জেন্সি’ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই ভারতের শিখদের।সেন্সর বোর্ডে সিনেমাটি আটকে দেওয়ার পেছনে শিখদের দায়ী করেছেন কঙ্গনা।
শিখদের সংগঠন ‘শিরোমণি গুরুদুয়ারা প্রবন্ধক কমিটি’র পক্ষ থেকে কয়েকদিন আগে সিনেমাটি নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। এছাড়া ভারতের শিখদের রাজনৈতিক দল ‘শিরোমণি অকালি দল’ সিনেমাটিকে ছাড়পত্র না দিতে সেন্সর বোর্ডে আইনি নোটিস পাঠায়। দলটির অভিযোগ, সিনেমাটি ভুল তথ্যে ভরা এবং ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তি পেলে সাম্প্রদায়িক হানাহানি হতে পারে।
এ দলের সভাপতি পরমজিৎ সিং স্বর্ণ সেন্সর বোর্ডের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলেন, “এই সিনেমায় তুলে ধরা ভুল তথ্য পাঞ্জাবের সামাজিক জীবন সম্পর্কেও দর্শকের কাছে নেতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে দেবে। তাই অবিলম্বে সিনেমাটির মুক্তি আটকানো হোক।”
এদিকে সিনেমাটি আটকে দিতে কঙ্গনার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশে হাই কোর্টে একটি রিট মামলা করা হয়েছে জবলপুরের একটি শিখ সংগঠনের পক্ষ থেকে।
সেন্সর বোর্ডের ভূমিকাকে ‘হতাশাজনক এবং অন্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সিনেমায় ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকায় অভিনয় করা বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা।
তিনি এ সিনেমায় কেবল নাম ভূমিকাতেই অভিনয়ই করেননি, পরিচালনা এবং প্রযোজনার মত গুরু দায়িত্বও ছির তারই কাঁধে।
এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঙ্গনা বলেন, “এই দেশের আইন হল যে কেউ সেন্সরশিপ ছাড়াই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অকল্পনীয় সহিংসতা এবং যৌনতা দেখাতে পারে। কিন্তু সেন্সরশিপ কেবল আমাদের মত কিছু মানুষের জন্য।“
কঙ্গনা কয়েকদিন আগে একটি পডকাস্ট শোতে হাজির হয়ে সিনেমার সেন্সর নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এই সিনেমার ওপরেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
কঙ্গনা বলেন, “সেন্সর বোর্ড সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
সিনেমাটি মুক্তি দিতে প্রয়োজনে আদালতের শরাণাপন্ন হবেন বলেও জানিয়েছেন কঙ্গনা।
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী নিহত হয়েছিলেন তার শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে। সিনেমায় ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
এই অভিনেত্রীর ভাষ্য, এ সিনেমার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুছে ফেলার জন্য তার ওপরে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সেসবের মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা, অর্নাইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে বা পঞ্জাব দাঙ্গার প্রসঙ্গও আছে।
এর আগে কঙ্গনা অভিযোগ করেছিলেন, শিখ সম্প্রদায় থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্জাবের প্রভাবশালী শিখ নেতা ভিকি টমাস সিং সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন।
সেখানে এই শিখ নেতা বলেন, "ইতিহাস বদলানো যায় না। যদি তারা শিখদেরকে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে মনে রাখবেন, যার (ইন্দিরা গান্ধী) সিনেমা বানাচ্ছে, তার পরিণতি কী হয়েছিল। মনে রাখবেন সতবন্ত সিং এবং বিয়ন্ত সিং কে ছিলেন। আমরা আমাদের মাথা পেতে দিতে পারি আবার আমরা মাথা কেটেও নিতে পারি।"
কঙ্গনা শুরু থেকে বলে আসছেন, ‘ইমার্জেন্সি’ কোনো বায়োপিক না, এটি একটি রাজনৈতিক সিনেমা। সিনেমার পটভূমি গত শতকের সত্তরের দশক, ভারতে তখন ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে পরবর্তী ২১ মাস ভারতে জরুরি অবস্থা চলে। সিনেমায় সেই সময়ের রাজনৈতিক আবহ তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে বলে কঙ্গনার ভাষ্য।
২০২১ সালে ‘ইমার্জেন্সি’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন কঙ্গনা।এতে কঙ্গনা ছাড়াও অনুপম খের, মহিমা চৌধুরী, মিলিন্দ সোমান, শ্রেয়াস তালপাড়ে, বিষক নায়ার, সতীশ কৌশিকসহ একাধিক অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাবে।
বিজেপির কট্টর সমর্থক কঙ্গনা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেত্রী ইন্দিরাকে কোন রূপে দেখাতে চাইছেন, তা নিয়ে বেশ কৌতূহল রয়েছে সব মহলে।
তবে সিনেমা মুক্তিতে ছাড়পত্র না মেলায়, আপাতত সেই কৌতুহল মেটার কোনো সুযোগ নেই দর্শকদের সামনে।
আরও পড়ুন
কঙ্গনার প্রাণনাশের হুমকি, 'ইমার্জেন্সি'তে আছে কী!
'ইমার্জেন্সি'র ঝলক দেখিয়ে মুক্তির দিন জানালেন কঙ্গনা