Published : 05 May 2026, 10:05 PM
গানের জগতে খ্যাতির আলো ছড়িয়ে দুই বাংলার মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা অঞ্জন দত্ত অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তবে সময়ের বাস্তবতায় বুঝে যান, বাণিজ্যিক ধারার বাংলা সিনেমা তার জন্য নয়, সেই উপলব্ধিই তাকে নিয়ে আসে পরিচালনার পথে।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানিয়েছেন অঞ্জন দত্ত। পাশাপাশি তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা, নিজের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন।
অঞ্জন দত্ত বলেন, "শুরুতে অভিনেতা হতে এসেছিলাম। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বাদল সরকারের কাছে অভিনয় শিখেছিলাম। ভেবেছিলাম, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে।
“কিন্তু আশির দশকের শেষে আমি যে সময়ে এসেছি, তখন বুঝেছিলাম, বাণিজ্যিক ঘরানার বাংলা সিনেমা আমার জন্য নয়। তখন যে সব সিনেমা তৈরি হত, সেগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারি না। দেখতেও যাই না।”
তার প্রশ্ন, “‘বেদের মেয়ে জোৎস্না’, ‘বাবা কেন চাকর’ এই ধরনের সিনেমা দেখব কেন? বুঝেছিলাম, আমার দ্বারা হবে না, তার পরে আমি পরিচালনায় আসি।"
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি পরামর্শের কথা স্মরণ করে অঞ্জন বলেন, "আমি ভালো অভিনেতা নই, ভালো অভিনেতা কী করে হব? যখন আমি বলতাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের পরেই আমার নাম হবে, তখন অনেকই হাসত।
“আমাকে একবার সৌমিত্রদা বলেছিলেন, 'অঞ্জন, তুই বোঝার চেষ্টা কর। আমি যখন অভিনয় করতে এসেছি, তখন কতজন ভাল পরিচালক ছিলেন। তপন সিংহ, অজয় কর, অসিত সেন, মৃণাল সেন কত বড় বড় পরিচালক। তুই কাকে পেয়েছিস? গোটা তিনেক ভালো পরিচালককে। কী করে করবি? তা হলে তো তোকে লিপস্টিক মেখে দৌড়োদৌড়ি করতে হয়। ভালো অভিনেতা হয়ে কি করবি সেটা?’ এই কথাটা কানে বাজে আমার।"
বাংলা সিনেমার ব্যবসা নিয়ে অঞ্জন দত্তের ভাষ্য, "প্রচুর গরমিল আছে। আগের দিনই দেখলাম লিখেছে ‘অলমোস্ট হাউসফুল’। এটা আবার কী? ‘সাকসেস পার্টি’ হচ্ছে। কীসের সাকসেস, কেউ জানে না। শুটিং করছি, তার মাঝে পোস্টারের ছবি তোলা হচ্ছে। এডিট হওয়ার আগে পোস্টারের ছবি উঠছে। অদ্ভুত লাগে। এই জন্য ছবির অবনমন হচ্ছে।"
অঞ্জন দত্ত এখন নিজের অর্থায়নে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, যা বাদল সরকারের শতবর্ষ উপলক্ষে তৈরি। এই চলচ্চিত্রে বাদল সরকার এবং অঞ্জন দত্ত দুই চরিত্রই দেখা যাবে। ছোট অঞ্জনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূরবশীল আচার্য।
অঞ্জন বলেন, "নিজের টাকায় সিনেমা বানিয়েছি। বাদল সরকারই আমাকে অভিনয় করতে শিখিয়েছিলেন। তখন আমার ১৯ বছর বয়স। এক বছর উনার কাছ থেকে শিখেছিলাম অভিনয়। তার উপরে একটি ছবি তৈরি করেছি। যেখানে বাদল সরকার আর অঞ্জন দত্তের চরিত্র দর্শক দেখবেন।
“ছোট অঞ্জনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্রীকান্ত আচার্যের ছেলে পূরবশীল আচার্য। নিজে তৈরি করেছি। লাভের আশা করছি না। যেটুকু বিনিয়োগ করেছি সেটুকু ফেরত পেলেই হবে। এই সিনেমার মাধ্যমেই বাদল সরকারকে আমার শ্রদ্ধা।"
আশির দশকের শুরুতে চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের মাধ্যমে সিনেমার দুনিয়ায় যাতায়াত শুরু করা অভিনেতা অঞ্জন দত্তের ঝুলিতে আছে ২৭টির বেশি সিনেমা।
অভিনয়ের বাইরে নব্বইয়ের শুরু থেকে টানা গানে ডুবে আছেন অঞ্জন। কেবল অ্যালবাম নয়, ঢাকা-কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে কনসার্ট করে চলেছেন।
গানের সঙ্গে ১৯৯৮ সাল থেকে সিনেমাও বানাচ্ছেন অঞ্জন। এছাড়া ওটিটিতেও তার পদার্পণ হয়েছে কয়েক বছর আগেই। পাশাপাশি পুরোদমে চলছে অভিনয়।
আরও পড়ুন:
আত্মজীবনীতে অঞ্জন চেষ্টা করেছেন 'সত্যি কথা লিখতে
সাড়ে চার দশকের ফিল্মি ক্যারিয়ার, বাণিজ্যিক সিনেমা মাত্র একটি