Published : 05 Feb 2026, 10:26 AM
কমেডিয়ান ও সঞ্চালক ট্রেভর নোয়ার ওপর দারুণ চটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
কদিন আগে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আসরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে একটি রসিকতা করেন নোয়া, যা সহজভাবে নিতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সে কারণে ক্ষেপে গিয়ে নোয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
গেল ১ ফেব্রুয়ারি সংগীতের সবচেয়ে বড় পুরস্কার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬৮তম আসরে সঞ্চালনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে নিয়ে কথা বলেন নোয়া।
তিনি বলেন, “সং অব দ্য ইয়ার পুরস্কারটি প্রতিটি শিল্পীর কাছে ততটাই কাঙ্ক্ষিত, যতটা ট্রাম্পের কাছে গ্রিনল্যান্ড। এটার কারণও আছে; এপস্টেইন আইল্যান্ড এখন আর নেই, বিল ক্লিনটনের (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ট্রাম্পের নতুন একটা দ্বীপ দরকার।”
নোয়ার এই রসিকতা ট্রাম্প হালকা ভাবে নেননি। তার বিরুদ্ধে ‘আইনি পদক্ষেপ নেবেন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “নোয়া আমার সম্পর্কে ভুল কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ডনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিনটন এপস্টেইন আইল্যান্ডে সময় কাটিয়েছেন’, ভুল!!!
“বিলের হয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কিন্তু আমি কখনও এপস্টেইন আইল্যান্ড, বা এর কাছাকাছিও যাইনি। আজকে রাতের (গ্র্যামির আসর) অপমানসূচক ও ভুল বক্তব্যের আগে পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে সেখানে যাওয়ার অভিযোগও কেউ করেনি, এমনকি ‘ফেইক নিউজ মিডিয়াও’ এ অভিযোগ করেনি।”
এই সঞ্চালককে নিয়ে পোস্টের শেষভাগে ট্রাম্প বলেন, “নোয়া পুরোপুরি একজন হেরে যাওয়া মানুষ। তার তথ্য সঠিকভাবে ও দ্রুত যাচাই করা উচিত।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “প্রস্তুত থাক নোয়া, তোমার সঙ্গে কোনো একটি মজা আমি করব।”
সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়া ট্রাম্পের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। গেল কয়েক বছরে ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

‘এপস্টেইন ফাইলস’ ও ট্রাম্প
‘এপস্টেইন ফাইলস’ যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কেলেঙ্কারির গোপন নথির সম্ভার। ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল।
অবশেষে গেল ৩০ জানুয়ারি মার্কিন সরকার ‘এপস্টেইন ফাইলসের’ যে অংশ প্রকাশ করেছে, তাতে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার পাশাপাশি আছে এক লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও।
এই ফাইলে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান সব ব্যক্তির নাম উঠে আসছে। যৌন অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর মারা যাওয়া জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে খাতির থাকা বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালীদের তালিকা সময়ের সাথে সাথে কেবলই লম্বা হচ্ছে।
রিচার্ড ব্র্যানসন, সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, মাইকেল জ্যাকসন, ইলন মাস্ক ও বিল গেটসের মত ধনকুবের, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিকের নাম এসেছে ওই তালিকায়।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ আছে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, এপস্টেইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েও চালানো হত যৌন সম্পর্কের কাজ।এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা সেখানে যেতেন।
এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত ইমেইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কথা বহুবার বলেছেন। গেল নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশ করা নতুন ইমেইলে সেসব তথ্য বেরিয়ে আসে।
এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশন সেন্টারের ফোন নম্বরে অভিযোগ করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, সেখানে যাদের নাম এসেছে, তার মধ্যেও ট্রাম্পের নাম আছে বলে এফবিআইয়েরই গত বছরের তালিকায় দেখা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এর আগে বলা হয়েছিল, ১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। ১৯৯০ এর দশকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের যাত্রী তালিকায় একাধিকবার ট্রাম্পের নাম দেখা গেছে।
এমনকি, ট্রাম্প ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যর নামও পাওয়া যায় এপস্টেইনের ‘কনট্যাক্ট বুক’-এ; যেখানে ছিল আরও শত শত নাম।
এসব তথ্যের বেশিরভাগই এপস্টেইনের সাবেক সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা চলাকালে প্রকাশিত হয়। শিশু পাচার ও অন্যান্য অপরাধে ম্যাক্সওয়েলের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
ম্যাক্সওয়েলের বিচার চলাকালে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের পাইলট আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প একাধিকবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছেন।
এছাড়া এপস্টেইন এস্টেট থেকে গেল বছরের শেষ নাগাদ নতুন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে হাউজ ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাটরা। এসব ছবিতে ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বিল গেটস ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউজের প্রধান কৌশলবিদ হিসাবে কাজ করা স্টিভ ব্যাননসহ অনেক নামিদামী মানুষকে দেখা গেছে।
আরেকটি ছবিতে ট্রাম্পকে ছয় নারীর সঙ্গে দেখা যায়। তবে নারীদের মুখগুলো মুছে দিয়েছে হাউজ ওভারসাইট কমিটি। ছবিগুলো কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছিল বা কে সেগুলো তুলেছিল তা স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। তিনি বলছেন, প্রয়াত বিনিয়োগকারী এপস্টেইনের সঙ্গে তিনি কয়েক দশক আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং এপস্টেইনের হাতে নির্যাতিতরা তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো অভিযোগ করেননি।
যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ অগাস্টে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৬৬।
যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় বিচারকাজ চলা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন:
এপস্টেইনের নতুন ইমেইল প্রকাশ, ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য
এপস্টেইন এস্টেট থেকে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ট্রাম্প-ব্যানন-ক্লিনটন
এপস্টেইন নথিতে কোন কোন রথী-মহারথীর নাম এসেছে?
এপস্টেইনের দ্বীপ ও কুবরিকের 'আইজ ওয়াইড শাট'
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটাতে আরেক নারীকে রাজপ্রাসাদে পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন
এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি ক্লিনটন দম্পতি
এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লক্ষাধিক নথি খুঁজে পেলেন মার্কিন কর্মকর্তারা
এপস্টেইন এস্টেট থেকে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ট্রাম্প-ব্যানন-ক্লিনটন
বিল গেটস 'রুশ মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন'