Published : 01 Feb 2026, 10:50 PM
দ্বিতীয় একজন নারী এবার অভিযোগ তুলেছেন যে, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তাকে সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারীর আইনজীবী বিবিসি-কে একথা বলেছেন।
২০১০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের বাসভবন রয়্যাল লজ-এ এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। ওই নারী ব্রিটিশ নাগরিক নন এবং ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়।
ওই নারীর আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস বলেন, তার মক্কেল অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটানোর পর তাকে বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে তিনি চা-ও পান করেছিলেন।
আইনজীবী বলেন, “আমরা অন্তত এমন এক নারীর কথা বলছি, জেফরি এপস্টেইন যাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছে পাঠিয়েছিলেন। এমনকী প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর তিনি বাকিংহাম প্যালেস ঘুরে দেখার সুযোগও পেয়েছিলেন।”
বিবিসি নিউজ এই অভিযোগের বিষয়ে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের মন্তব্য জানতে চাইলেও তৎক্ষণাৎ কোনও জবাব পায়ানি।
সাধারণত বাকিংহাম প্যালেসে যারা অতিথি হিসাবে ঘুরতে যান, তাদের নাম লিপিবদ্ধ করার নিয়ম আছে। তবে ওই নারীর পরিচয় গোপন রেখে তার রাজপ্রাসাদে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা যাচাই করা বিবিসি-র পক্ষে সম্ভব হয়নি।
অ্যান্ড্রুর বাড়িতে রাত কাটানো নিয়ে ওই নারীর বর্ণনা এটিই প্রথম, যেখানে এপস্টেইনের মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হওয়া কেউ রাজকীয় বাসভবনে এ ধরনের যৌন সংসর্গের অভিযোগ তুললেন।
ব্র্যাড এডওয়ার্ডস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এপস্টেইনের কুকর্মের শিকার ২০০-র বেশি নারীর আইনজীবী হিসাবে কাজ করছেন। তিনি এর আগে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে-রও আইনজীবী ছিলেন।
জিউফ্রের অভিযোগ ছিল, ২০০১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাকে সাবেক এই প্রিন্সের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
জিউফ্রে দাবি করেছিলেন, ২০০১ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে তাকে আরও দুইবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছিল। একবার নিউ ইয়র্কে, আরেকবার ক্যারিবীয় অঞ্চলে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে।
ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌনকর্মে প্ররোচিত করার অভিযোগে ২০০৮ সালে জেফরি এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১০ সালের জুলাইয়ে তার কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়।
ফ্লোরিডা-ভিত্তিক আইনজীবী এডওয়ার্ডস বিবিসি-কে আরও জানান, তার মক্কেল অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের আগে তাদের মধ্যে বেশ কিছু বার্তা আদান-প্রদান ও যোগাযোগ হয়েছিল, সেখানেই তিনি অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটানোর কথা বলেছিলেন।
আইনজীবী এডওয়ার্ডস জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক এই ব্রিটিশ প্রিন্সের কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তার কথায়, অ্যান্ড্রু তার আইনজীবীদের কাছ থেকে 'বিচ্ছিন্ন' হয়ে পড়েছেন বলেই মনে হয়েছে।
এডওয়ার্ডস আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস গত বছর অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ড্রুর রাজকীয় পদবি, উপাধি ও সম্মান কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী জিউফ্রের মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মৃতিকথা প্রকাশের জেরে অ্যান্ড্রুর রাজকীয় পদবি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসর এস্টেটের স্থায়ী আবাস রয়্যাল লজ ছাড়তে হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বিবিসি-র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এপস্টেইনের বাণিজ্যিক ও নিজের ব্যক্তিগত বিমানে করে বেশ কয়েকজন নারীকে যুক্তরাজ্যে পাচার করেছিলেন। আইনজীবী এডওয়ার্ডস এখন অভিযোগকারী দ্বিতীয় নারীর পক্ষ থেকে সাবেক প্রিন্সের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা দায়েরের কথা বিবেচনা করছেন।
২০২১ সালে ভার্জিনিয়া জিউফ্রেও যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছিলেন। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
গত বছর জিউফ্রে আত্মহত্যা করেন। তবে অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই জিউফ্রের আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।