০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকার দুই মঞ্চে সন্ধ্যায় দুই নাটক

'রঙমহাল' নাটকের প্রথম প্রদর্শনী হয় গেল ডিসেম্বরে।

ঢাকার দুই মঞ্চে সন্ধ্যায় দুই নাটক
'রঙমহাল' ও 'লাইলী মজনু' নাটকের দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2026, 11:13 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাটক 'রঙমহাল' ও 'লাইলী মজনুর’ প্রদর্শনী হবে বৃহস্পতিবার।  

শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন এবং এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় নাটক দুটি মঞ্চে আসছে। 

ঢাকা থিয়েটারের ৫৪তম প্রযোজনা নাটক 'রঙমহাল' দেখা যাবে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে। নির্দেশনা দিয়েছেন অভিনেতা ফারুক আহমেদ। গেল বছরের ডিসেম্বরে নাটকটির প্রথম প্রদর্শনী হয়।  

নাটকটি লিখেছেন রুবাইয়াৎ আহমেদ। এতে অভিনয় করছেন নাসরিন নাহার, মিলু চৌধুরি, ফারজানা চুমকি, বদরুজ্জামান বাদল, মোস্তফা রতন, হাবিবা আজিজ হ‍্যপী ও অনিক ইসলাম সহ একদল নতুন ও নবীন অভিনেতা। 

নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, ঘটনাচক্রে অন্ধ রজব ও খুশবুর বিয়ে হয়। ভিক্ষা করে তাদের সংসার চললেও দুজনেই বিশ্বাস করে, তাদের সঙ্গী পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ। এক সাধুর আশীর্বাদে রজব দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলে বদলে যায় তার জীবন। বাস্তবের চেহারা দেখে সে খুশবুকে প্রত্যাখ্যান করে, ব্যবসা করে ধনী হয় এবং এক যাত্রাদলের নায়িকার প্রেমে পড়ে। 

ভালোবাসা, মোহ, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনী। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় 'লাইলী মজনু' নাটকটি দেখা যাবে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। 

মধ্যযুগীয় কবি দৌলত উজির বাহরাম খানের অমর কাব্য অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকের নাট্যরূপ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান। 

নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষ ষষ্ঠ সেমিস্টারের একঝাঁক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী।

নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আরবের নজদ অঞ্চলের যুবক কয়েস ও রূপসী লাইলির গভীর প্রেমকে ঘিরে। শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে জন্ম নেয় অকৃত্রিম ভালোবাসা। কিন্তু সামাজিক কঠোর বাধা, পারিবারিক তথাকথিত মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে দুই পরিবারের তীব্র বিরোধিতায় তাদের মিলন অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

একপর্যায়ে লাইলিকে গৃহবন্দি করা হলে বিরহের তীব্রতায় উন্মাদ হয়ে পড়ে কয়েস। তার এ রাজপথের উন্মাদনার কারণেই মানুষ তাকে ‘মজনু’ বা পাগল নামে ডাকতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্যত্র লাইলির বিয়ে হয়ে গেলেও হৃদয়ে সে আজীবন মজনুর প্রেমকেই ধারণ করে। দীর্ঘ বিরহ, বেদনা ও মানসিক যন্ত্রণার শেষে লাইলির মৃত্যু হলে, প্রিয়তমার বিয়োগ সইতে না পেরে মজনুও তার কবরের পাশে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

নাটকটিন একই মঞ্চে শুক্রবার ও দুইটি প্রদর্শনী রয়েছে। বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেখা যাবে লাইলী মজনু।