Published : 04 Feb 2026, 03:59 PM
বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলেছে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নতুন নথিপত্র। যেখানে উঠে আসছে সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসসহ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান সব ব্যক্তির নাম।
সেই তালিকায় এসেছে পপ সম্রাট মাইকেল জ্যকসনের নামও।
বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের ছবিও প্রকাশ করেছে। সেই ছবি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
নথিতে জ্যাকসন সংক্রান্ত একটি জবানবন্দির তথ্য এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে মাইকেল জ্যাকসন পাম বিচে এপস্টেইনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন কী না, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী জোহানা সজোবার্গ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সে সময় জেফরির আইনজীবী সিগ্রিড ম্যাককলি তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি যখন জেফরি এপস্টেইনের বাড়িতে ছিলে, সে সময় বিখ্যাত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছিল?”
জোহানা সজোবার্গ বলেন, “মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।”
আইনজীবী ম্যাককলির প্রশ্ন ছিল, “ওহ, সত্যি? সেটা কোথায়?”
জোহানা সজোবার্গ বলেন, “পাম বিচের বাড়িতে, পাম বিচে জেফরির বাড়িতে।”
আইনজীবীর প্রশ্ন, “আপনি তাকে মাসাজ করেছিলেন?”
জোহানা সজোবার্গ বলেন, ‘না’।
এপস্টেইন ফাইলস যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত কেলেঙ্কারির এক গোপন নথি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসব নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল। পরে সেই ফাইলের একটি অংশ প্রকাশ্যে এনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ আছে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টেইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েও চালানো হত যৌন সম্পর্কের কাজ। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিখ্যাত ও ক্ষমতাধর অতিথিরা সেখানে যেতেন।
এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট আরও ১০ লাখের বেশি নথি খুঁজে পাওয়ার কথা মার্কিন কর্মকর্তারা জানান গেল বছরের শেষের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং নিউ ইয়র্কের ফেডারেল কৌসুঁলিরা বিচার বিভাগকে এসব নথি খুঁজে পাওয়ার কথা জানান।
যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ অগাস্টে নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৬৬।
যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় বিচারকাজ চলা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
পুরনো খবর-
এপস্টেইনের দ্বীপ ও কুবরিকের 'আইজ ওয়াইড শাট
সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে রাত কাটাতে আরেক নারীকে রাজপ্রাসাদে পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন
এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি ক্লিনটন দম্পতি
এপস্টেইন মামলার আরও ১০ লক্ষাধিক নথি খুঁজে পেলেন মার্কিন কর্মকর্তারা
এপস্টেইন এস্টেট থেকে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ট্রাম্প-ব্যানন-ক্লিনটন
বিল গেটস 'রুশ মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্কের পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন'