Published : 03 Feb 2026, 03:12 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
মার্কিন কংগ্রেসকে অবমাননার অভিযোগে ক্লিনটন দম্পতিকে অভিযুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটির কয়েক দিন আগে এ ঘোষণা এল।
কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটির তলব সত্ত্বেও এর আগে ক্লিনটন দম্পতি সাড়া দেননি। এ নিয়ে কয়েকমাস ধরে অচলাবস্থা চলার পর অবশেষ কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হলেন তারা।
বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর বিল ক্লিনটনই হবেন প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেসের প্যানেলের সামনে সাক্ষ্য দেবেন।
সোমবার রাতে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ নিশ্চিত করেছেন যে, ক্লিনটন দম্পতি প্যানেলের সামনে উপস্থিত হবেন।
তবে তিনি হাউস ওভারসাইট কমিটির কঠোর সমালোচনা করে লিখেছেন, ক্লিনটন দম্পতি ‘সরল বিশ্বাসে’ আলোচনা করলেও কমিটি তা করেনি।
ইউরেনিয়া আরও বলেন, “তারা শপথ নিয়ে যা জানেন তা আগেই বলেছেন, কিন্তু আপনাদের তাতে কিছু যায় আসে না। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হবেন। তারা এমন একটি নজির স্থাপন করতে চান যা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে।”
বিল ক্লিনটন এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও তার যৌন অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানার কথা সবসময় অস্বীকার করে এসেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, দুই দশক আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ক্লিনটন দম্পতি এই সমনটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের হেনস্তা করার কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানের লগ অনুযায়ী, ২০০২ ও ২০০৩ সালে ক্লিনটন চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন। সম্প্রতি বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত কিছু ছবিতে তাকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বাগানবাড়ির পুলে সাঁতার কাটতে এবং হট টাবে শুয়ে থাকতেও দেখা গেছে।
হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, ক্লিনটন দম্পতিকে দেওয়া এই সমন দ্বিপক্ষীয় সমর্থনে অনুমোদিত হয়েছে আর ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন’। তিনি অভিযোগ করেন, ক্লিনটন দম্পতির আইনি দল মাসের পর মাস সময়ক্ষেপণ করে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ক্লিনটন দম্পতি কোমারকে লেখা এক চিঠিতে এই তদন্তকে ‘দলীয় রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, এপস্টেইন ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা বের করার বদলে ব্যক্তিগত ইমেজ ক্ষুণ্ণ করতেই এই অগ্রাধিকার স্থাপন করা হয়েছে।