Published : 23 Jul 2026, 11:03 PM
ইরান চলতি মাসে রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)- এর কমান্ডার ও সামরিক উপদেষ্টাসহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ ইয়েমেনে হুতিদের কাছে পাঠিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার কর্মকর্তা এ খবর জানিয়েছেন।
পশ্চিএম এশিয়ায় উত্তেজনার মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র পথের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা হুতিদের সক্ষমতা বাড়াতে ইরান এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ওই চার কর্মকর্তার মধ্যে আছেন দুই ইরানি কর্মকর্তা, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এবং আঞ্চলিক এক নিরপত্তামন্ত্রী। তারা বলেছেন, গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে ইয়েমেনে একটি ফ্লাইটে আইআরজিসি কর্মকর্তা ও সামরিক যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এমন খবর প্রকাশ করা হয়নি। দুই ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ১০ থেকে ১২ জন আইআরজিসি কর্মকর্তাকে মাহান এয়ার ফ্লাইটে করে ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছে, এর মধ্যে ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররাও আছেন।
ফ্লাইটটি মূলত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায় যাওয়ার কথা থাকলেও সেখানকার বিমানবন্দরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের হামলার কারণে ফ্লাইটের যাত্রপথ পরিবর্তন করে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী হোদেইদাহ-তে অবতরণ করানো হয়।
এক কর্মকর্তা জানান, “হুতিদের অভিযানে সহায়তা করা এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ইরানের আইআরজিসি’র কমান্ডাররা সেখানে গেছেন।” তিনি আরও জানান, হুতিদের কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থায়নের জন্য ফ্লাইটে করে সোনাও পাঠিয়েছে ইরান।
এই সাহায্য-সহযোগিতা হুতিদের হাত শক্তিশালী করতে ইরানের চেষ্টার নতুন প্রমাণ।
ইরান সমর্থিত এই হুতি গোষ্ঠী একদশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের মধ্যে আছে। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুতিদেরকে ইরানের সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তেহরান বারবারই ইয়েমেনের হুতিদেরকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।
ইরানের সাহায্য পাঠানোর বিষয়ে মন্তব্যের বিষয়ে হুতি কর্মকর্তারাও তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া দেননি। হুতিরাও এর আগে ইরানের ছায়াগোষ্ঠী হিসাবে কাজ করার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, তারা নিজেরাই অস্ত্র উন্নয়ন করে।