Published : 18 Sep 2026, 08:32 PM
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার কারণে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই কমবেশি ভূগছে। হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরে অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিচ্ছে অনেক দেশেই।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পাকিস্তান জ্বালানি সাশ্রয়ে লকডাউনের মতো কঠোর কৃচ্ছ্র নীতি নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে পাকিস্তান সরকার বৃহস্পতিবার একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে।
এর মধ্যে বাজার, দোকান সব রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া, সরকারি যানবাহনের জন্য জ্বালানি বরাদ্দ কমানো, নতুন গড়ি কেনা বন্ধ করা, রেস্তোঁরা, ক্যাফে রাত ১১ টার মধ্যে বন্ধ করা, বিয়ের অনুষ্ঠান রাত ১০ টার মধ্যে শেষ করা এমনকি বিয়েবাড়িতে এক পদ খাবার রান্নার নির্দেশও দিয়েছে সরকার।
আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, জরুরি পরিষেবা দেওয়া যানের ক্ষেত্রে জ্বালানি বরাদ্দ বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত নয়।
পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’।
১৭ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশিকা জারি করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবেই কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। ব্যবসা এবং বাণিজ্য সংস্থাগুলোকে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, তার একটা তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, দোকান, বাজার, শপিং মল-সহ বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্র রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়ে বা এ ধরনের যে কোনও অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। রেস্তরাঁ, ক্যাফে বা এমন কোনও স্থান রাত ১১টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
তবে হোম ডেলিভারি পরিষেবাকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বাইরে আরও রাখা হয়েছে জরুরি কিছু পরিষেবা- যেমন হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ওষুধের দোকান,
মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রির দোকান, জ্বালানি এবং সিএনজি স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার স্টেশন, আইটি সংস্থা, কল সেন্টার, জিম-সহ কিছু স্থান।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বিয়ে বা এ ধরনের সব অনুষ্ঠানের মেনুতে খাদ্যতালিকা কাটছাঁট করতে হবে। কেবল একটি পদের খাবার পরিবেশন করা যাবে।
আপাতত সব ধরনের যানবাহন কেনা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সরঞ্জাম ছাড়া অন্য সব ধরনের দীর্ঘস্থায়ী পণ্য কেনার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকার সব ধরনের গাড়ি ক্রয়ের ওপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
পাকিস্তানের সরকারি কর্তাদের বাধ্যতামূলক সফর ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফরে তিন মাসের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছে সরকার।
তবে ‘বাধ্যতামূলক সফর’-এর ক্ষেত্রে সব মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, সংসদীয় এবং সরকারি কর্মকর্তারা ‘শুধুমাত্র ইকোনমি ক্লাসে’ ভ্রমণ করবেন।
বিদেশি প্রতিনিধি দল ছাড়া আর কোনও ক্ষেত্রে নৈশভোজের আয়োজন আপাতত বন্ধ রাখা এবং সেমিনার, সম্মেলনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিও নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছে সরকার।
গত মার্চে পাকিস্তান এ ধরনের কৃচ্ছ্র পদক্ষেপ নিয়েছিল ইরান যুদ্ধের প্রভাব কমাতে। সে সময় অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে জ্বালানির ব্যবহার কমাতে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শও দিয়েছিল সরকার।
গত জুনে সেই পদক্ষেপ তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর আবার অল্প সময়ের মধ্যেই জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর কৃচ্ছ্র পদক্ষেপ নিল পাকিস্তান সরকার।