Published : 18 Sep 2026, 08:29 PM
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা বলেছে নয়া দিল্লি।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ি বলেন, “আমার প্রশ্ন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। যৌথ নদী কমিশনের কোনো আলোচনা বা আলোচনার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার খবর এখনো দেখিনি। চুক্তি নবায়নের বিষয়টি অনুমোদন করতে হবে এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের তাতে সই লাগবে। চুক্তির বর্তমান পরিস্থিতি কী?”
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “পানিসংক্রান্ত বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনার জন্য আমাদের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত থাকবে।”
গঙ্গার পানি বণ্টনে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে। সমঝোতা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ফারাক্কা থেকে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন করা হয়ে থাকে।
৪০ বছরের গড় মাত্রা অনুযায়ী ভারত পানির ভাগ পায়। যেকোনো সংকটের সময় বাংলাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি সরবরাহ করার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়।
৩০ বছরের এ পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে।
চুক্তিটি যেন নবায়ন করা না হয়, সেই দাবি তুলেছে বিহারের ক্ষমতাসীন দল জেডি(ইউ)-এর রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা।
এছাড়া বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার বলছেন, “গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিতে বিহারের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছিল।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবার চুক্তি নবায়নের সময় বিহারের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে চুক্তিটি ভারত নবায়ন করবে বলে আশাবাদী ঢাকা।
গত ৯ জুলাই এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হচ্ছে, সে আলোচনায় আমি বিশ্বাস করি, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্বটা এবং গঙ্গার পানির গুরুত্বটা ভারত বুঝতে পারে এবং সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটাকে যেন কোনো রকমভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখেই ভারত সিদ্ধান্ত নিবে।”
গত ১১ সেপ্টম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সময় করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সরকার পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনার ফল ‘অনতিবিলম্বে’ পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার জয়সওয়ালের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি তোলেন এএনআইয়ের সাংবাদিক আয়ুষী।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জানিয়েছে যে, তারা আগের সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সই হওয়া শতাধিক চুক্তি ও সমঝোতা পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে ভারতের মন্তব্য কী? বাংলাদেশ কি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে কোনো চুক্তি বা বিধান পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে?”
ওই সাংবাদিক বলেন, “এর মধ্যে কিছু চুক্তি চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকা কি এ বিষয়ে ভারতের কাছে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে?”
জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমরাও সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কিছু খবর দেখেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার তরফে আমাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি।
“অবশ্যই, ভারত তার স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”