১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হিন্দু ব্যবসায়ীকে ‘পুড়িয়ে মারার’ হুমকি বিএনপি নেতার

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর করা অভিযোগের তদন্তে গিয়ে বিএনপি নেতাকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

হিন্দু ব্যবসায়ীকে ‘পুড়িয়ে মারার’ হুমকি বিএনপি নেতার

বিএনপি নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজী।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

Published : 18 Sep 2026, 08:53 PM

Updated : 18 Sep 2026, 09:11 PM

“দাদু, আমার একটা শখ জাগছে, আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু, এ ক্ষেত্রে আপনারে বাইছা নিছি, আপনার মন্তব্য কী?” এমনটা বলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

হুমকি দেওয়ার এক মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় হুমকি পাওয়া ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বৃহস্পতিবার ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম।

৫২ বছর বয়সি গোবিন্দ মণ্ডলের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার ও মাছের ঘেরের ব্যবসাও রয়েছে তারা।

Image

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন গোবিন্দ মণ্ডল।

জিডিতে নাম আসা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজী (৬০) বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য। তার বাড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে।

ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের করা জিডির বিষয়ে আদালতের আদেশ পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই ব্যবসায়ী জিডি করার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি ফরিদ গাজী চেক প্রতারণা মামলার আসামি।”

পরে ফরিদ গাজীকে চেক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি।

জিডিতে বলা হয়, ইউপি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে গোবিন্দকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বিএনপি নেতা তাকে ‘পুড়িয়ে হত্যার’ হুমকি দেন।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের অডিও কল রেকর্ডে একজনকে বলতে শোনা যায়, “দাদু, আমার নাম ফরিদ উদ্দিন গাজী। আমার বাবার বাবার নাম শামসুল আলম গাজী।

“আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা নমো পুড়মু (পোড়াব), এ ক্ষেত্রে আপনারে বাইছা নিছি, এতে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে? যদিও আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।”

জবাবে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, “না, না, না, নাই।” এরপর অপর প্রান্তে আবার বলতে শোনা যায়, “তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?”

জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, “আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।”

সঙ্গে সঙ্গে অন্য প্রান্তে বলতে শোনা যায়, “আপনাগো তো মরার পর পোড়ে, আমি আপনারে মরার আগেই পুড়তে চাই।”

ব্যবসায়ী বলেন, “এইটা আপনার শখ।” জবাবে অন্যজন বলেন, “এইটা আমার স্বভাব না, স্বভাব হইলে তো ‘হরিবোল’ কইয়া সবাই লুটাইয়া পড়তো।”

এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?” জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, “এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।”

এরপর অপর প্রান্তে বলতে শোনা যায়, “তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?” জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, “আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।”

ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র বলছেন, ফোনালাপের অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি বিএনপি নেতা ফরিদ গাজী।

“আমি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরে এবং এর আগেও তিনি আমাকে মোবাইলে হুমকি দিয়েছিলেন। তখন ৫০ লাখ টাকা চাঁদাও দাবিও করেছিলেন। তখনকার কথা রেকর্ড করতে পারিনি।”

গোবিন্দ বলেন, “ফরিদ একজন সন্ত্রাসী। এ জন্য আমি শঙ্কিত। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছি।”

এ ঘটনায় ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

তিনি বলেন, “ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা কমিটিকে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। উপজেলা কমিটির সুপারিশ সাপেক্ষে জড়িত ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”