Published : 22 Jul 2026, 09:32 PM
তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে জাপানের রাজধানী টোকিওতে পুরুষ কর্মীদের অফিসে হাফপ্যান্ট পরায় উৎসাহ দিচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কেউ এ নিয়মকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ একে নারীদের জন্য ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিচ্ছেন। আবার কিছু নারী বলছেন, বিষয়টি তাদের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ, তাদেরকে পুরুষদের পায়ের লোম দেখতে হচ্ছে।
টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের প্রচলিত স্যুট-টাইয়ের বদলে টি-শার্ট, কেডস ও শর্টস বা হাফপ্যান্টের মতো আরামদায়ক পোশাক পরার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।
টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে গত এপ্রিলে ‘টোকিও কুল বিজ’ নামের এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং স্বস্তি নিশ্চিত করা। তার সেই উদ্যোগই এখন জাপানে ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মকালীন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
তবে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের হাফপ্যান্ট পরার নিয়মটি চার মাসের মাথায় এসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক কর্মী মনে করছেন, প্রচণ্ড গরমে আরামদায়ক পোশাক পরার সুযোগ তাদের কাজের পরিবেশকে সহজ করবে।
তবে অন্যদের অভিযোগ, এই নিয়ম নারীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োজ্য নয় এবং এটি বৈষম্যমূলক। কারণ, নারীদেরকে অফিসে এখনও পেশাদার পোশাক বা পা ঢেকে রাখতে টাইটস পরতে হয় কিংবা তাদের ক্ষেত্রে সেরকম পোশাক পরারই প্রত্যাশা থাকে।
এ বিষয়টি ছাড়াও অফিসের কিছু নারী কর্মী পুরুষদের হাফপ্যান্ট পরা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা পুরুষদের খালি পায়ের লোম দেখতে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন।
তাদের মতে, হাফপ্যান্ট পরা পুরুষ সহকর্মীদের পায়ের লোম দেখা বিরক্তিকর। অনলাইনে এ ধরনের অভিজ্ঞতাকে অনেকে ‘সুনেহারা’ (লেগ হেয়ার হ্যারেসমেন্ট) নামে উল্লেখ করছেন।
টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তা নোবোরু ওয়াতানাবে বিবিসি-কে বলেন, “তীব্র গরমে মানুষকে আরও বেশি পোশাকের বিকল্প দিতে চাই আমরা। কাউকে নির্দিষ্ট কোনও পোশাক পরতে বাধ্য করতে চাই না। যতক্ষণ পোশাক অন্য কারও জন্য অস্বস্তিকর না হয় ততক্ষণ কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”
গত জুনে গরিলা ক্লিনিক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ গ্রীষ্মকালে অফিসে হাফপ্যান্ট পরার বিপক্ষে মত দিয়েছে। আর পক্ষে মত দিয়েছে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।
যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের আপত্তির প্রধান কারণ ছিল শরীরের গঠন ও শরীরের লোম নিয়ে। জরিপে নারী অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল। তাদের মধ্যে পুরুষ সহকর্মীদের খালি পা দেখা নিয়ে আপত্তির হার বেশি দেখা গেছে।
জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে ক্যাজুয়াল পোশাক পরার প্রবণতা বেড়েছে।
তবে এবছর টোকিও সরকারের নতুন ওই উদ্যোগের কারণে পুরুষদের শর্টস পরা আরও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। যদিও পুরুষদের অনেকেই এখন নিজেদের পায়ের লোম নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছেন।
গরিলা ক্লিনিকের পরিচালক আকিফুমি ফুনাতসু বলেন, হাফপ্যান্ট পরার কারণে কেবল সৌন্দর্যগত দিক নয় বরং সামাজিক শিষ্টাচারের বিষয় হিসেবেও অনেকে এখন লোম তোলার জন্য ক্লিনিকে যাচ্ছে।
২০০৫ সালে জাপানের পরিবেশমন্ত্রী থাকাকালে ইউরিকো কোইকে প্রথম গ্রীষ্মকালীন পোশাকে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। তখন তিনি ‘কুল বিজ’ নামের জাতীয় জ্বালানি সাশ্রয়ী কর্মসূচি চালু করেন, যেখানে অফিস কর্মীদের টাই ও জ্যাকেট বাদ দিয়ে হাফ হাতা শার্ট পরতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমিও তখন প্রকাশ্যে টাই ও জ্যাকেট ছাড়া উপস্থিত হয়ে এ উদ্যোগের প্রচারে ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে ২০১১ সালের মার্চে তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামির পর জ্বালানি ব্যবহার কমাতে ‘সুপার কুল বিজ’ চালু করা হয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো জাপানেও সম্প্রতি কয়েক মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে। তার ওপর পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার কারণে বেড়েছে জ্বালানির দাম।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা মঙ্গলবারেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিন বোঝাতে ‘কোকুশো-বি’ (প্রচণ্ড গরম দিন) শব্দটি ব্যবহার করে জনগণকে সতর্ক করছে।