Published : 10 Jul 2026, 08:19 AM
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন লিওনেল মেসি। একের পর এক ম্যাচে জাদুকরি পারফরম্যান্সে দলের জয়ে রাখছেন বড় ভূমিকা। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসেও আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে এভাবে পারফর্ম করতে দেখে খুবই খুশি স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল।
চলতি বিশ্বকাপের মাঝে ৩৯তম জন্মদিন পালন করেন মেসি। আসরে প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিনি উপহার দেন হ্যাটট্রিক, বিশ্বকাপে যা তার প্রথম হ্যাটট্রিক। দলের পরের চার ম্যাচেও জালের দেখা পান তিনি।
শেষ ষোলোয় মঙ্গলবার মিশরের বিপক্ষে শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও, পরে গোল করে ও করিয়ে দলের ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড। আট গোল করে এখন কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি।
বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’কে বলেন, “অবিশ্বাস্য। মেসি কে তা সবাই জানে, কিন্তু তিনি যে এত উঁচু মানের পারফরম্যান্স করবেন, তা কেউ আশা করেনি। তার জন্য আমি সত্যিই খুশি।”
মেসির কাঁধে ভর করেই ২০২২ সালে কাতারে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা। ওই আসর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। টানা ছয়টির বেশি ম্যাচে গোল নেই আর কারো। ২১ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি।
গত মৌসুমে বার্সেলোনায় মেসির আইকনিক ১০ নম্বর জার্সি পান ইয়ামাল। চলতি বিশ্বকাপে শৈশবের অন্য আদর্শদের খেলতে দেখেও তিনি উচ্ছ্বসিত।
“নেইমারের জন্য আমি খুশি, যদিও তিনি আর এখানে নেই, ক্রিশ্চিয়ানোর (রোনালদো) জন্যও খুশি। আমাদের মধ্যে যারা এখন খেলছি, তাদের সবার শৈশবকে তারাই গড়ে তুলেছেন।”
ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার (৮০)। গত রোববার শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে তার দলের হারের পর, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটে পড়ার পর থেকে এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি নেইমার। বিশ্বকাপে বদলি হিসেবে দুই ম্যাচে কিছু সময় খেলতে পারেন তিনি।
আর ইয়ামালের স্পেনই শেষ করে দেয় রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযান। গত সোমবার স্পেনের কাছে পর্তুগালের ১-০ গোলের হারটিই ছিল বিশ্বকাপে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর শেষ ম্যাচ।
রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই ফরোয়ার্ড ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড়। সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারে এই ট্রফিটিই শুধু তিনি জিততে পারেননি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোল (১৪৬) ও ম্যাচ খেলার (২৩৩) রেকর্ড পর্তুগিজ মহাতারকার।