Published : 12 Nov 2025, 09:12 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত ইমেইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কথা বহুবার উল্লেখ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশ করা নতুন ইমেইলে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।
এতে দেখা গেছে, এপস্টেইনের কাছ থেকে পাঠানো ইমেইল এবং তার কাছে আসা ইমেইলে ট্রাম্পকে নিয়ে কথপোকথন হয়েছে।
এমনই একটি ইমেইল চালাচালি হয়েছিল এপস্টেইনের এক সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ২০১১ সালের এপ্রিলে। ইমেইলটি এপস্টেইন লিখেছিলেন ম্যাক্সওয়েলকে।
সেই ইমেইলে এপস্টিন তার বাড়িতে যৌন পাচারের শিকার এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানোর কথা লিখেছিলেন। ট্রাম্পকে ‘ঘেউ ঘেউ না করা কুকুর’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্পকে নিয়ে বই লেখা মাইকেল উলফের সঙ্গে এপস্টিনের ইমেইল চালাচালিতেও ট্রাম্প নিয়ে কথা হয়েছিল। তখন কথা হয় ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে।
আবার ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে উলফকে লেখা ইমেইলে এপস্টেইন অভিযোগ করে বলেছিলেন, “ট্রাম্প কমবয়সী মেয়েদের সম্পর্কে জানতেন”, যে মেয়েদেরকে যৌন পাচারের শিকার বানানোর জন্য খোদ এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।
বুধবার কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ওভারসাইট কমিটিতে ডেমোক্র্যাটরা এপস্টেইনের এই তিন চিঠি চালাচালির ঘটনা প্রকাশ করেন।
জেফরি এপস্টেইনের এস্টেট এর কাছ থেকে বুধবার সকালে এই ইমেইল কমিটিকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে আসা এই ইমেইলগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বরাবরই এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে ভুল কোনওকিছু করার কথা অস্বীকার করে এসেছেন।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ধাপ্পাবাজি।
বুধবার প্রকাশিত ইমেইল নিয়ে ট্রাম্প সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছে, এসব ইমেইল প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এর আগে বলা হয়েছিল, ১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে ট্রাম্প ও এপস্টিনের বন্ধুত্ব ছিল। ১৯৯০ এর দশকে এপস্টিনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের যাত্রী তালিকায় একাধিকবার ট্রাম্পের নাম দেখা গেছে।
এমনকি, ট্রাম্প ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যর নামও পাওয়া যায় এপস্টিনের ‘কনট্যাক্ট বুক’-এ; যেখানে ছিল আরও শত শত নাম।
এসব তথ্যের বেশিরভাগই এপস্টিনের সাবেক সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা চলাকালে প্রকাশিত হয়েছিল। শিশু যৌন পাচার ও অন্যান্য অপরাধে ম্যাক্সওয়েলের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
ম্যাক্সওয়েলের বিচার চলাকালে এপস্টিনের দীর্ঘদিনের পাইলট আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প একাধিকবার এপস্টিনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছেন। তবে ট্রাম্প বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের রক্ষায় এপস্টিন-সম্পর্কিত কেলেঙ্কারির তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ আছে, যা তার রাজনৈতিক ভিত্তির মধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ আন্দোলনের অনেক সমর্থক এখনও বিশ্বাস করে এপস্টিন-সম্পর্কিত তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ ছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টেইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে চলত অবৈধ সম্পর্ক। নাবালিকা, এমনকি শিশুদের দিয়েই চালানো হতো যৌন সম্পর্কের কাজ।
এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিথিরা সেখানে যেতেন। এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পসহ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, স্টিফেন হকিং থেকে মাইকেল জ্যাকসন পর্যন্ত বিশ্বের প্রভাবশালী সব ব্যক্তির নাম আছে বলেও শোনা গিয়েছিল।
শিশু–কিশোরীদের পাচার এবং জোর করে যৌনদাসীর কাজ করানোর অভিযোগে কারাগারে ছিলেন এপস্টেইন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত্যু আত্মহত্যা না খুন তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে পরবর্তীতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।