Published : 18 Feb 2026, 05:28 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী, তার বাবা জামাল উদ্দিনের জেরা চলছে।
বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে মামলার তিন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা জামাল উদ্দিনকে জেরা করেন।
তবে মামলার প্রধান আসামি সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর পক্ষে জেরা করা হয়নি। তার আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আজও বাদীর জেরা হয়েছে। তিনজন আসামির পক্ষে জেরা করা হয়েছে। আগামী ৯ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।"
চিন্ময় দাশের আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এই মামলার অভিযোগ থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অব্যাহতি চেয়ে আমরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেছি। আবেদনটি শুনানির জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে হাই কোর্টের কার্য তালিকায় আছে।
"তাই আমরা আজ শুনানিতে সময় প্রার্থনা করেছি, জেরা করিনি। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।"
বুধবারের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন এই হত্যা মমামলার বাদী। এরআগে গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে তার সাক্ষ্য শেষ হয়।
সেদিন আসামি অজয় দাশের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত একজন আইনজীবী বাদীকে জেরা করেন।
অন্য আসামিদের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর পক্ষে তার আইনজীবী সময় প্রার্থনা করেছিলেন। শুনানি শেষে সেদিন আদালত ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে গত ১৯ জানুয়ারি এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়।
সেদিন আলিফ হত্যা মামলায় বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করে দেন বিচারক।
রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময়ের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের আদালত। ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে।
ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই ছিলেন নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
ঘটনার সময় পুলিশ হেফজতে থাকা চিন্ময়কে কেন প্রধান আসামি করা হল, সেই ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
“হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে’ সেদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
গতবছর ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।
পুরনো খবর
আলিফ হত্যা: চিন্ময়সহ সব আসামির বিচার শুরুর আদেশ
আলিফ হত্যা: অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ আসামিরা আদালতে
আলিফ হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানিতে যা যা হলো
আলিফ হত্যার অভিযোগ গঠনের শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রাম আদালতে বাড়তি নির