Published : 14 Jan 2026, 06:39 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) এবং বিশেষ দায়রা আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দেন।
এদিকে শুনানি চলাকালে আসামিদের স্বজনরা আদালত ভবনের নিচে তাদের পক্ষে আইনজীবী না থাকায় বিক্ষোভ দেখান।
এদিন এ মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ছাড়া গ্রেপ্তার বাকি ২২ আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারি পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মামলার প্রথম তারিখ হিসেবে বুধবার আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে। পরে বিচারক সব আসামির উপস্থিতিতে ওই দিন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করে দেন।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি আলিফ হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠায় মহানগর দায়রা জজ।
বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন ২০০৩ এর ৮ ধারা অনুসারে কোনো জেলা জজ বা দায়রা জজ শুনানির জন্য প্রস্তুত কোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন। এই ধারা অনুসারে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পাশাপাশি পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।
বুধবার শুনানিতে মামলার কয়েকজন আসামি আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এসময় তারা নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ এবং তাদের নিরাপত্তা চান আদালতের কাছে।
বিচারক আসামিদের আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে আইনানুগ সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আইনজীবী চেয়ে বিক্ষোভ
আদালত ভবনের নিচে আসামিদের স্বজনদের বিক্ষোভ দেখানোর পর এ বিষয়ে চট্টগ্র্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আসামি পক্ষে দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের পক্ষে আইনজীবী আসছে না। বিজ্ঞ আদালত আসামিদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা যদি আইনজীবী দেয় তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে।
“এবং তারা যদি আইনজীবী দিতে ব্যর্থ হয়, বিজ্ঞ আদালত নিজেই রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করে দেবেন। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আসামি পক্ষকে সকল সুযোগ দেওয়া হবে। আমরা চাই এই মামলার সুষ্ঠু এবং ন্যায় বিচার হোক। এটা আমাদের দাবি।”
তিনি বলেন, “তারা বলছে, আমাদের ছেলেরা নির্দোষ। কোনো আইনজীবী দাঁড়াচ্ছে না। আমি বলেছি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে আপনারা যাকেই নিয়োগ দিতে চান তাকেই নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ করে দেব।
“এবং তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না।”
চিন্ময় দাশকে কেন আনা হয়নি
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী বুধবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকলেও তাকে এদিন শুনানির সময় আনা হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ সদস্য না পাওয়ার কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে আনা হয়নি কারণ ওনার অনুসারী অনেক। তারা উপস্থিত হলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই।
“আজ ভার্চুয়ালি হাজিরা দিয়েছেন। আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে।”
আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখানও পলাতক।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
আরও পড়ুন
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য গেল জজ আদালতে
আলিফ হত্যা: চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ
আইনজীবী আলিফ হত্যার অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি চিন্ময়
চিন্ময়ের পক্ষে 'বাইরে থেকে' আইনজীবী আনা যাবে: আইনজীবী সমিতি
শুনানিতে চিন্ময়ের আইনজীবীকে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ সনাতনী জাগরণ