Published : 25 Aug 2025, 01:06 PM
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত।
সোমবার সকালে শুনানি নিয়ে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম আলাউদ্দীন।
শুনানিতে মামলার বাদী, নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুনানি শেষে আদালত পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে।”
আসামি সুকান্ত দ্ত্তকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়ে শুনানিতে আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “সুকান্ত দত্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, মাদক, চুরি, ডাকাতিসহ ৮টি মামলার আসামি। ঘটনার সাথে সুকান্ত দত্তের সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
“ঘটনার পর মূল হত্যাকারীদের সাথে সুকান্ত দত্তের ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাই তাকে আসামি হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত রাখার আবেদন করছি।”
সঠিক নাম ও ঠিকানা না পাওয়ায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সুকান্ত দত্তকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত সুকান্ত দত্তকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ দেন বলে জানান আইনজাবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।

অভিযোগপত্র গ্রহণ প্রশ্নে এর আগে গত ১০ অগাস্ট শুনানির দিন থাকলেও সেদিন মামলার বাদী হাজির ছিলেন না। বাদীর উপস্থিতির জন্য সেদিন সমন জারি করে শুনানির নতুন তারিখ ২৫ অগাস্ট ঠিক করেছিল আদালত।
আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি করেছিলেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।
অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত ৩১ আসামির মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করা হয়। পাশাপাশি তদন্তে আসা আরো ১০ জনকে আসামি করা হয়।
সোমবার যে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৯ জন পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ১ জুলাই বলেছিলেন, “সেদিন (ঘটনার দিন) বিজ্ঞ আদালতে চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
“হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।”

গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আসামি চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য ও রিপন দাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও খবর-
আলিফ হত্যা: অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানিতে উপস্থিতি হতে বাদীকে সমন
আইনজীবী আলিফ হত্যার অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি চিন্ময়
চিন্ময় দাসের জামিন স্থগিতের আবেদন, শুনানি রোববার
হাই কোর্টে চিন্ময় দাসের জামিন
চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা