Published : 10 Aug 2025, 02:25 PM
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানিতে বাদীকে উপস্থিত হতে সমন জারি করেছে আদালত।
রোববার সকালে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ষষ্ঠ আদালতের বিচারক এস এম আলাউদ্দিন এ আদেশ দেন।
এর আগে ১ জুলাই এই মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে প্রধান আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
রোববার এই হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল।
সহকারী পিপি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে তদন্তে প্রাপ্ত একজন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। সে বিষয়ে আদালতে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করি। কিন্তু আদালত বাদির উপস্থিতিতে শুনানি চেয়েছেন।
“নিহত আইনজীবী আলিফের বাবা এই মামলার বাদী বয়সজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।”
পরে আদালত বাদীর উপস্থিতির জন্য সমন জারি করে আগামী ২৫ অগাস্টে তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ঠিক করেছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী পিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
আইনজীবী আলিফ হত্যার পর নগরীর কোতোয়ালী থানায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে।
অভিযোগপত্রে মামলায় এজাহারনামীয় ৩১ জন আসামির মধ্যে তিনজনকে অব্যাহতি দানের আবেদন করা হয়। এজাহারে থাকা বাকি ২৮ জনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যাদের নাম এসেছে এমন আরো ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে যে ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০জন গ্রেপ্তার আছে, বাকি ১৮ জন পলাতক।
সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন।
আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আসামি চন্দন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য ও রিপন দাশ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনজীবী আলিফ হত্যার অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি চিন্ময়
চিন্ময় দাসের জামিন স্থগিতের আবেদন, শুনানি রোববার
হাই কোর্টে চিন্ময় দাসের জামিন
চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় দাস গ্রেপ্তার