Published : 20 Jun 2026, 02:50 PM
‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম নগরীর এক ব্যবসায়ী ফেইসবুকে লাইভে এসে বিষপান করে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেছেন।
ওই ব্যক্তির নাম সুমন ঘোষ (৪৮)। কোতোয়ালী থানার বক্সির হাট এলাকায় ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি মসলার দোকান চালান তিনি।
তার অভিযোগ ‘বিএনপি নামধারী’ স্থানীয় বাসিন্দা তিন ভাই তার কাছে ‘চাঁদা দাবি’ করে আসছিলেন।
লাইভে এসে ওই তিন ভাইয়ের নামও বলেন সুমন ঘোষ। তারপর একটি বোতল দেখিয়ে তাতে ‘বিষ আছে’ জানিয়ে সেটিতে থাকা সাদা রঙের তরল তাকে পান করতে দেখা যায়।
এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে। পরে সুমন ঘোষকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে তার ফেসবুক লাইভটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সুমন ঘোষ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, দোকান ভাড়া নিয়ে মানসিক নির্যাতনের কারণে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বিষ পান করেন।”
বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সুমন ঘোষ বলেন, “বিগত সরকার যাওয়ার পর তিন চাঁদাবাজ পিতাম্বর শাহর গলির শমসের আলী, শাহাদাত আলী ও আইয়ুব আলী আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। যখন আমি চাঁদা দিতে অপরাগতা জানাই তখন তারা আমাকে ‘আওয়ামী লীগ’ বলে পাঁচ মাস জেল খাটায়।
“৫ মাস জেলে থাকা অবস্থায় আমার বউকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ওরা আমার দোকানের নামে স্ট্যাম্প করে। আমি জেল থেকে আসার পরে যখন এটা শুনি তিন চাঁদাবাজের মুখে। যে, তোমার বউকে আমরা এই দোকানখানি ভাড়া দিয়েছি।”
লাইভে সুমন ঘোষ বলেন, “দোকান হচ্ছে আমার। আমার বাবা নিয়েছিল দোকান। আমার জমিদারের নাম হচ্ছে নূরনাহার বেগম। তারা রহমতগঞ্জ থাকে। আমি তাদের থেকে ভাড়া নিই ১৯৯৬ ইংরেজিতে। আর এখন ২০২৬ সাল।
“তো আমি যখন বললাম আপনাদেরকে কেন আমি চাঁদা দিব ভাড়ার নামে। আমার তো জমিদার আছে। আমি জমিদারকে ভাড়া দিব। আপনাদেরকে কেন দিব। তারা বলেন- না না, এটা চাঁদা হিসাব করেই তুমি দিবা। আমি এদের মানসিক টেনশনে আর কিছুই বুঝতে পারছি না। লাস্ট তারা আমাকে বলল, তুমি কোথাও চলে যাও। তোমার ছেলে, তোমার বৌ এরা আমাদেরকে ভাড়া দিবে।”
সুমন ঘোষ ফেসবুক লাইভে বলেন, “তারা আমাকে বলেন, ‘আগেও তুমি জেলে থাকা অবস্থায় আমাদেরকে দুইবার ভাড়া দিয়েছে। দুই মাসের। তুমি কোথাও চলে যাও। বাকিটা আমরা বুঝব।’ আমি কোথায় যাব?
“আমি ৩২ বছর ধরে বক্সির হাট রোডের মুখে ব্যবসা করছি। কারো সাথে আমার কোন ঝগড়া নেই। কারো সাথে আমার মারামারি নেই। আমি কোথায় যাব? এদের এই মানসিক টেনশনে আমি আত্মহত্যা করছি। আমার আত্মহত্যা মৃত্যুর জন্য এরা তিন ভাই দায়ী।”
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ওই দোকানের মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের তার লাইভটি শেয়ার করার অনুরোধ জানিয়ে সুমন ঘোষ বলেন, “পারলে আমার নিউজটা বেশি বেশি করে শেয়ার করবেন যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার কাছে আমার এই ভিডিওটা যায়। যাতে বিএনপি নামধারী চাঁদাবাজদের কঠিন শাস্তি হয়। আমি এটাই চাই।
“আমার মৃত্যুর আগে আমার এটাই ইচ্ছা। জানি না ওদের শাস্তি হবে কিনা। আমি পরকালে চলে যাব। আমার ছেলে ও বউয়ের জন্য খুব কষ্ট লাগছে। আমার মেয়েটার পরীক্ষা। সে নোয়াখালীতে অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছে। পারলে আপনারা এটা শেয়ার করবেন বেশি বেশি করে।”
এরপর তিনি হাতে থাকা হলুদ রঙের একটি বোতলে বিষ আছে জানিয়ে তা পান করেন।
এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার রাতে কোতোয়ালী থানার ওসি আবু জায়েদ নাজমুন নূর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনার কাছ থেকে শুনলাম। আরো একজন আমাকে এরকম একটি ঘটনার কথা বলেছে। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।”
পরে শনিবার দুপুরে একাধিকবার ফোন করা হলেও ওসি আবু জায়েদ নাজমুন নূর সাড়া দেননি।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. নাজিমুর রহমান বলেন, “যে ব্যক্তি লাইভে এসে সুইসাইডের চেষ্টা করেছেন, তিনি কি চাঁদা দাবির বিষয়ে থানায় আগে কোনো অভিযোগ করেছেন? বা আমাদের কিছু জানিয়েছেন? জানাননি।
“কারো কাছে কেউ চাঁদা চাইলে, আগে আইনের কাছে তার প্রতিকার চাইতে হয়। দোকানের মালিকানা নিয়ে বা কারো সাথে দোকান নিয়ে বা আর্থিক লেনদেন নিয়েও সমস্যা থাকতে পারে।”