Published : 20 Jun 2026, 10:56 PM
লেবাননে ইসরায়েলের টানা হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে, এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যেই অভিযোগ করেছে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী সদ্য খুলে দেওয়া হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরান বলেছে, “এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে, শত্রুপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার পালনে বাধ্য করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলের টানা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও আরও ১২ জন আহত হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, কাফর রেমান গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক লেবাননি সেনা নিহত হয়েছে।
এনএনএ আরও জানিয়েছে, টায়ার জেলার বারাশি গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের বাবা, মা ও তাদের দুই সন্তান নিহত হয়েছে।
সিডন জেলার কানারিত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও আরও ১৩ জন আহত হয়েছে।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এ হামলার ঘটনাগুলো ঘটে।
Article 1 of the MoU explicitly states that ending the war in Lebanon is an integral part of the broader ceasefire arrangement across all fronts.
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহ ৫০টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তারা হিজবুল্লাহর আস্তানায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, লেবাননে ইসরায়েলের এ চলমান সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন। গত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে লেবানন কার্যত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে।
ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকলে তা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ওই চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে লেবাননসহ সব রণেক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এ চুক্তিকে আরও মজবুত করতে এবং প্রাথমিক আলোচনা সারতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডানাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশানার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স শনিবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন।
ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, রোববারই দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হতে পারে। কিন্তু লেবাননে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকায় ইরানিরা সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে যোগ দেবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজ শনিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে লেবাননে তাদের ‘হামলা বন্ধ রাখার’ নির্দেশনা দিয়েছেন।
নেটওয়ার্কটি বলেছে, ‘(ইসরায়েলের) রাজনৈতিক শীর্ষ পর্যায় ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয়ের পর’ এই নিদের্শনাটি এসেছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করা হবে না।
সর্বশেষ হামলা নিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর এক ইসরায়েলি মুখপাত্র বলেছিলেন, তাদের বাহিনী ‘তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করার কাজ অব্যাহত রাখবে’।
ইরান সমর্থিত লেবাননের শিয়া মুসলিম রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের নেতানিয়াহুর ওপর নিজের দেশে চাপ রয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তারাও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবে।
হোয়াইট হাউস চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে লেবাননে ইসরায়েল সরকারের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেছিল, এর ফলে শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
হিজবুল্লাহ গত মার্চের শুরুতে যখন ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালালে তার পাল্টায় লেবাননজুড়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েল। নিজেদের উত্তর সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হটিয়ে দেওয়ার উদ্দেশে ইসরায়েল বর্তমানে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রেখেছে।
ইসরায়েলের টানা হামলার কারণে লেবাননে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত, প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে আর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বহু এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।