Published : 22 Jun 2026, 11:05 PM
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে; অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২১ দিনে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা।
মাসের বাকি নয় দিনে এই ধারা বজায় থাকলে মাস শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। আর অর্থবছর শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সোমবার রেমিটেন্সের হালনাগাদ তথ্য দিয়েছেন। তাতে দেখা যায়, জুনের ২১ দিনে ২০৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের জুনের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাস ২১ দিনে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বছরের ২১ জুন) ৩ হাজার ৪৮৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আর পুরো অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
গত বছরের জুনের প্রথম ২১ দিনে এসেছিল ১৯০ কোটি (১.৯০ বিলিয়ন) ডলার। পুরো মাসে এসেছিল ২৮২ কোটি ২৫ লাখ (২.৮২ বিলিয়ন)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এ বছর মার্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।
এ নিয়ে টানা ৬ মাস তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। জুনে তিন বিলিয়ন ছাড়ালে টানা সাত মাস হবে।
গত ২৮ মে দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ওই উৎসব সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠানোয় মে মাসে বেশি রেমিটেন্স এসেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের ভাষ্য।
গত মার্চে যে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার এসেছিল, সেটা ছিল রোজার ঈদের কারণে।
আরিফ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অতীতে দেখা গেছে, ঈদের পর সাধারণত রেমিটেন্স প্রবাহ বেশ কমে যায়। কিন্তু এবার দুই ঈদের পরও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।
“তাই সব মিলিয়ে আমরা হিসাব করে দেখেছি, চলতি জুন মাসেও ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স আসবে। আর অর্থবছর শেষে রেমিটেন্স ৩৬ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌছবে।”
তিনি বলেন, আশঙ্কা করা হচ্ছিল ইরান যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে জুন মাসের ২১ দিনে ২৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিনে এসেছে ৯ কোটি ৯২ লাখ ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হজার ২২০ কোটি টাকা।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সংকটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে। রেমিটেন্সের উপর ভর করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।
সোমবার দিন শেষে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভে ছিল ৩১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।