Published : 30 Jun 2026, 05:20 PM
কর বা রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া এবং বিভিন্ন সেবার বিপরীতে সরকারকে অর্থ পরিশোধের কাজটি বুধবার থেকে 'এ-চালান' বা অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে সারতে হবে।
মঙ্গলবাত সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে 'এ-চালান' বাধ্যতামূলক করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।
সরকারের রাজস্ব তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর বিভিন্ন দপ্তরে; বিশেষত কর অঞ্চল ও কাস্টম হাউজগুলোতে।
সেখানে দেখা যেত, অর্থবছরের শেষ দিকে এসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি রাজস্ব আদায় দেখাতে বা বাড়তি প্রবৃদ্ধি দেখাতে শুল্ক-কর বাবদ কর্মকর্তারা বাড়তি টাকা জমা নিত।
তাদের হিসাবে ওই টাকা দেখালেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসেব সংরক্ষণের সিস্টেম আইবাস বা টিএসএতে এই হিসাব আসত না।
এর ফলে প্রতিবছরই অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট তথ্য-উপাত্তে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের হিসাব এবং এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রকাশিত তথ্যে গড়মিল থাকত। এনবিআর দেখাত বেশি, আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে আসত কম।
এর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও বিশৃঙ্খলা ছিল; হিসাবের খাতায় অর্থ এলেও প্রকৃতপক্ষে তা না মেলায় সরকারি ব্যয় কঠিন ছিল।
তবে বিদায়ী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির রিটার্ন অনলাইনে বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং কর আদায়কারী বিভিন্ন সেবা অনলাইনে হওয়ায় এ-চালান ব্যবহার বেড়েছে।
তাছাড়া এনবিআর এখন সরকারি কোষাগারে জমার তথ্যই রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানে প্রকাশ করে। ফলে এনবিআরে এ-চালান ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা কর আদায় করেন, সেখানে এর ব্যবহার বাড়েনি।
নতুন এ উদ্যোগের ফল সরকার তার রাজস্ব জমার হিসাব তাৎক্ষণিক পাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।
একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।