Published : 22 Jun 2026, 10:42 PM
যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইরানের ওপর কয়েক-দশক পুরোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সোমবার দেশটিকে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করতে দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচলের বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২১ অগাস্ট পর্যন্ত একটি সাধারণ লাইসেন্সের আওতায় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি দিয়েছে।
লাইসেন্সে বলা হয়েছে, ইরানের তেল বিক্রি, সরবরাহ ও খালাসের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রেও তা আমদানি করা যাবে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত দেশটি থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক্সে এক পোস্টে বলেন, সুইজারল্যান্ডে চলমান শান্তি আলোচনায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, “এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই অর্থমন্ত্রণালয় ইরানের তেলের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমোদন দিয়ে ৬০ দিনের জন্য একটি অস্থায়ী সাধারণ লাইসেন্স প্রদান করেছে।”
লাইসেন্স অনুযায়ী, মার্কিন ডলার ভিত্তিক তহবিলের মাধ্যমে ইরানের কাছে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। তবে কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ক্রাইমিয়া এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর অনুমোদন দিতেও রাজি হয়েছিল ওয়াশিংটন।
রয়টার্স লিখেছে, ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে কূটনীতিক জিম্মি সংকটের পর প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের চোখে সন্ত্রাসী হিসাবে গণ্য কয়েকটি গোষ্ঠীকে ইরানের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে দেশটির ওপর আরও একাধিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলো ইরানের তেলের বড় ক্রেতা ছিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্কও ইরানের তেলের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ছিল।