Published : 15 Jul 2026, 06:07 PM
যুক্তরাজ্যের প্রাচীন এক রোমান দুর্গের মেঝের নিচে দীর্ঘ ১৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাপা পড়ে থাকা অক্ষত এক ভাস্কর্য উদ্ধার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।
বিরল এ আবিষ্কার রোমান ব্রিটেনের শেষ অধ্যায়ে সেখানে বসবাসকারী সৈন্য ও তাদের পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচুর্যের ইতিহাস বুঝতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
যুক্তরাজ্যের নর্থাম্বারল্যান্ডের প্রত্নতাত্ত্বিক খননস্থলে অক্ষত অবস্থায় প্রাচীন রোমান আমলের এ ভাস্কর্যটি ছিল।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, চতুর্থ শতকের সাবেক রোমান দুর্গ ‘ভিনডোলান্ডা’র এক সামরিক ভবনের মেঝের নিচে দীর্ঘ ১৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাপা পড়ে ছিল এ ভাস্কর্যটি। রোমানদের বিশ্বাস অনুসারে এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক ‘রক্ষাকর্তা বা অভিভাবক আত্মা’কে।
বর্তমানে ভাস্কর্যটির সংরক্ষণ ও বিস্তারিত গবেষণার কাজ চলছে, যা শেষ হলে হেক্সামের স্থানীয় জাদুঘরে এটি জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত হবে।
খননকাজের পরিচালক ড. অ্যান্ড্রু বার্লি বলেছেন, “প্রত্নতাত্ত্বিক হিসেবে এই ধরনের মুহূর্তগুলো আমাদের জীবনে একেবারে বিরল। এ ঐতিহাসিক স্থানটির গল্পের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ উন্মোচন ও সংরক্ষণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
ড. বার্লি বলেছেন, প্রাথমিক অবস্থায় ভাস্কর্যটি কার বা কিসের তা তিনি বুঝতে পারেননি। পরবর্তীতে ‘হ্যাড্রিয়ান্স ওয়াল’ গবেষকরা এটিকে রোমানদের ‘রক্ষাকর্তা আত্মা’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
‘ভিনডোলান্ডা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর তথ্য অনুসারে, ভাস্কর্যটির এক হাতে রয়েছে ‘কর্নুকোপিয়া’ বা খাবার উপচে পড়া একটি শিংয়ের প্রতীক, যা প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির প্রতীক। অন্য হাতে রয়েছে ‘প্যালেরা’ বা অগভীর পাত্র, যা রোমানদের ধর্মীয় আচার বা উৎসর্গের কাজে ব্যবহৃত হত।
ভিনডোলান্ডা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট বলেছে, উদ্ধার হওয়া পাথর খোদাই করা এ ভাস্কর্যটি স্থানীয়ভাবেই তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এটা হয়ত ভিনডোলান্ডারই কোনো রাজমিস্ত্রি বা পার্শ্ববর্তী কাউন্টি ডারহামের ‘ল্যানচেস্টার’ রোমান দুর্গের কোনো আঞ্চলিক ভাস্কর্য কর্মশালার শিল্পীর হাতে তৈরি।
পাথরে খোদাই করা এ ধরনের প্রাচীন নিদর্শন টিকে থাকার ঘটনা ‘তুলনামূলকভাবে বিরল’। ফলে রোমান ব্রিটেনের শেষ শতাব্দীগুলোতে এই দুর্গে বসবাসকারী সৈন্য ও তাদের বিভিন্ন পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাস কেমন ছিল, তা বুঝতে এ আবিষ্কার গবেষকদের ‘নতুন ধারণা’ দিচ্ছে।
প্রত্নতাত্ত্বিক দলের প্রধান ড. বার্লি বলেছেন, “ভাস্কর্যটি উন্মোচনের মুহূর্তটি এমন ছিল, যেন মনে হচ্ছিল খোদ ভিনডোলান্ডা নিজেই আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে নীরবে বলছে, ‘তোমরা যে কাজটি করছ, তাতে আমাদের সম্মতি আছে’।”