Published : 15 Jul 2026, 07:47 PM
‘অহংকারী মনোভাব’ বাদ দিয়ে আন্দোলনকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
এ সময় তিনি মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের সামনে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপের নিন্দা জানান।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আর একটি শিক্ষার্থীর গায়েও যেন লাঠি বা বুটের আঘাত না পড়ে। কাউকে যেন গ্রেপ্তার না করা হয়। সরকারের উচিত অহংকারী মনোভাব ও গোয়ার্তুমি বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা। তা না হলে এই শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে এনে এনসিপি নেতা বলেন, “কতটুকু কষ্টে থাকলে পরীক্ষার হল ছেড়ে একজন শিক্ষার্থী রাজপথে চলে যায়! ২০১৮ বা ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল কর্মসংস্থানের জন্য আর এখনকার আন্দোলন শিক্ষা সংস্কারের জন্য।
“একে নিছক ছোটখাটো আন্দোলন হিসেবে না দেখে শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যর্থতা থাকলে তাকে পদত্যাগ করিয়ে ছাত্রসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
বুধবার দুপুরে বগুড়ার নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রাতুল, শহীদ সিয়াম শুভ ও শহীদ শিমুলের কবর জিয়ারত শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বুধবার দুপুরে বগুড়ার নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্থানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রাতুল, শহীদ সিয়াম শুভ ও শহীদ শিমুলের কবর জিয়ারত করেন এনসিপি নেতারা।
কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং এনসিপি উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সেই ধরনের কূটনীতির সক্ষমতা হারিয়েছে, যার কারণে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারছে না। আমরা অতীতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফেরত দিয়েছি। তাহলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ভারত কেন ফেরত দিচ্ছে না?
“সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করার কারণেই শেখ হাসিনাকে আনতে পারছে না এবং এই জায়গায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। ইনশাআল্লাহ, আমরা ক্ষমতায় আরোহন করে শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে এনে বিচার করব।”
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, “যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, জনগণের ভোটে নয়, জোর করে হয়েছেন। উনি জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে পড়েছেন এবং আওয়ামী লীগের বিচারের প্রশ্নে শিথিলতা প্রদর্শন করছেন। শহীদ জিয়ার ছেলে হিসেবে তার আদর্শ থেকেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিচ্যুত হয়েছেন।”
এ সময় সারজিস আলমও বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “আমরা বর্তমান বিএনপি সরকারকে দেখছি সংসদে দাঁড়িয়ে তারা গণভোটের রায়ের বিপক্ষে কথা বলছে, জুলাই সনদের বিপক্ষে কথা বলছে। অথচ তাদের নিজেদের ৩১ দফাতেই সংবিধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের সংস্কারের কথা ছিল। এখন তারা সংসদে দাঁড়িয়ে কিসের সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে প্রশ্ন তুলছে। আমরা মনে করি, এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে, আমার শহীদ ভাইদের ত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি ও প্রতারণা।”
রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে সারজিস আলম বলেন, “এই ধরনের প্রতারণা করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ কোনোদিন প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবে না। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিল। তারা যেন ইনসাফের পক্ষে থাকে। তারা যদি বিচ্যুত হয়, তবে আমরা আমাদের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।”
বগুড়াকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাটি বর্ণনা করে সারজিস আলম বলেন, জুলাই আন্দোলনে বগুড়ায় ১৭ জন শহীদ হয়েছেন। এখানকার মানুষ বছরের পর বছর শোষণের শিকার।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দেখছি ক্ষমতাসীনদের অনেকের প্রশ্রয়ে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের খুনি ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা মুক্ত আছেন, জামিন পাচ্ছে। পাবনায় প্রকাশ্যে গুলি করে আমাদের দুই ভাইকে হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান কীভাবে ঘুরে বেড়ায়?”