Published : 21 Jun 2026, 10:22 PM
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক চলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা হুমকি দিয়েছেন।
লেবাননের হিজবুল্লাহকে “ঝামেলা সৃষ্টি করা” থেকে ইরান বিরত না রাখলে ফের দেশটিতে হামলা শুরু করার এই হুমকি দেন তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে যে প্রথমিক সমঝোতা চুক্তি সই করেছে তাতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করা, লেবানন সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিও খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
কিন্তু চুক্তির পরও লেবাননে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকায় ইরান শনিবার ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার স্থানীয় সময় সকালে সুইজারল্যান্ডের বারগেনস্টকে বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান।
মধ্যস্থতাকারী হিসাবে আলোচনায় যোগ দিয়েছে পাকিস্তান এবং কাতারও। বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই সমাজমাধ্যম পোস্টে লেবানন নিয়ে তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইসমাইল বাঘাই।
লেবাননে সংঘাত চলতে থাকায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতেই ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের বিপুল আর্থিক মদদপুষ্ট ছায়াগোষ্ঠীদেরকে অবিলম্বে ঝামেলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
“তারা যদি তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহের মতোই ইরানে আবার খুবই কঠোর আঘাত হানব। এবার আঘাত হবে আরও শক্তিশালী।”
তবে ইরান লেবাননে লড়াই বন্ধের দাবিতে অনড় রয়েছে। তারা বলছে, লেবাননে লড়াই না থামা এবং জব্দ সম্পদ ছাড় না পাওয়া পর্যন্ত ইরান পরবর্তী দফা শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করবে না।
শনিবার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায় কর্তৃপক্ষ। তবে রোববার সকালে বড় ধরনের কোনও সহিংসতার খবর আসেনি।
ওদিকে, সুইজারল্যান্ডের শান্তি আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স লেবাননে সংঘাতের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা দূর করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকদিনে লেবাননে লড়াই বন্ধের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে আশা প্রকাশ করে ভ্যান্স বলেন, “এখনও কিছু কাজ করা বাকি আছে, তবে আমরা সেটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।”