Published : 22 Jun 2026, 11:03 PM
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত চন্দ্রাবতী, কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি রফিক আজাদ স্মরণে সেমিনার করেছে বাংলা একাডেমি।
সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চার পর্বে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘সেমিনার সিরিজ ২০২৫-২৬’ এর সূচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সচিব কানিজ মওলা বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের গুণীজনদের স্মরণের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে।

সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক ও গবেষক ড. উৎপল তালুকদার।
কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীমের আলোচনায় এবং অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই পর্বে বক্তারা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প-উপন্যাসে জীবনের বিভিন্ন ‘গভীর উন্মোচন’ এর নানা দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে সব শ্রেণির সংসারের নেপথ্যে থাকা শ্রেণিগত প্রপঞ্চ এবং দাম্পত্যজীবনের রূপায়ণে মানিক যেভাবে অভূতপূর্ব নিজস্বতার স্বাক্ষর রেখেছেন তার প্রশংসা করা হয়।
বিকালে তৃতীয় পর্বে ‘রফিক আজাদের কবিতা : চৈতন্যের কোলাজ’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও সমালোচক চঞ্চল আশরাফ।
কবি হিজল জোবায়েরের আলোচনা এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, রফিক আজাদ তার কবিতার ক্যানভাসে বিদ্রোহ ও প্রেমকে ফুটিয়ে তুলেছেন। পরিবেশ-প্রকৃতির সুরক্ষা, সুষম জীবন ও যুদ্ধের বদলে শান্তির পক্ষে তার ভাষা, বিষয় ও শৈলী বাংলা কবিতায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সন্ধ্যায় শেষ পর্বে ‘চন্দ্রাবতীর গীতিকায় রমনীয় স্বৈরিতা আর নারী-অস্তিত্বের শাঁস’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক অধ্যাপক সুষ্মিতা চক্রবর্তী।
চলচ্চিত্র নির্মাতা এন. রাশেদ চৌধুরীর আলোচনা ও ড. ইউসুফ হাসান অর্কের সভাপতিত্বে এই পর্বে বক্তারা বলেন, সমসাময়িক বৈরিতা উপেক্ষা করে চন্দ্রাবতী তার কালজয়ী সৃষ্টিতে নারীর বৈজয়ন্তী ঘোষণা করেছিলেন। চন্দ্রাবতীকে নিয়ে এখনও বিস্তৃত গবেষণার অবকাশ রয়েছে।