Published : 17 Jul 2026, 02:15 AM
জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার তখন তিন রান। ৯৯ রান নিয়ে নন স্ট্রাইকে জো রুট। প্রাসিধ কৃষ্ণার শর্ট বল পুল করে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন গাস অ্যাটকিনসন। সেঞ্চুরি আর পাওয়া হলো না রুটের। তবে অ্যাটকিনসনের দিকে দৌড়ে যাওয়ার সময় তাকেই দেখা গেল বেশি উচ্ছ্বসিত। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের অসাধারণ ইনিংসে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড।
ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের জয় ৪ উইকেটে।
কার্ডিফে বৃহস্পতিবার ভিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের ফিফটির পরও ভারত অলআউট হয় ২৩৩ রানে।
ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না উইকেট। রান তাড়ায় প্রথম চার ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। একপর্যায়ে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১২৫।
কার্ডিফে ওয়ানডেতে তিনশর কম রানের পুঁজি নিয়ে কেউ জিততে পারেনি। শুবমান গিলের দল জাগায় সেই সম্ভাবনা। কিন্তু, ভারত ও তাদের অভাবনীয় জয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে যান রুট। স্বাগতিকরা লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩৫ বল বাকি থাকতে।
ওয়ানডেতে টানা পঞ্চম ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ৯ চারে ১৩৩ বলে ৯৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান রুট। এই সংস্করণে ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান তিনি, সব দেশ মিলিয়ে ১৭তম।
ওই ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন ইংল্যান্ডের টেস্ট ও ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান রুট।
সবশেষ পাঁচ ওয়ানডে ইনিংসে তার রান ৬১, ৭৫, ১০১*, ৭৬* ও ৯৯*।
ইনিংসের প্রথম বলেই বেন ডাকেটের বিদায়ের পর ইনিংস পুনর্গঠনের দায়িত্ব পড়ে রুটের কাঁধে। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডাকেট। চতুর্থ ওভারে প্রাসিধের বলে একইভাবে আউট হন জ্যাকব বেথেল।
জোড়া ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়েন রুট ও হ্যারি ব্রুক। কিন্তু কিপারের ওপর দিয়ে র্যাম্প শট খেলতে গিয়ে ১৬ রান করে আউট হন অধিনায়ক।
ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি স্যাম কারান ও জস বাটলারও। ২৬তম ওভারে ১২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
তবে রুট ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ষষ্ঠ উইকেটে উইল জ্যাকসের সঙ্গে ইনিংস সেরা ৭২ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
৪৪ বলে ৩০ রান করে ফেরেন জ্যাকস। তখনও জয় থেকে ৩৭ রান দূরে ইংল্যান্ড। অ্যাটকিনসনকে নিয়ে বাকিটা সারেন রুট। তিন চার ও এক ছক্কায় ১৬ বলে ২৩ রান করেন অ্যাটকিনসন।
এর আগে কোহলি ও শ্রেয়াসের পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে আড়াইশ ছাড়ানো সংগ্রহে দৃষ্টি রাখছিল ভারত। ৩২তম ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৮ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল তারা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বোলাররা দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫৫ রানে তুলে নেন ভারতের শেষ ৭ উইকেট। সফরকারীরা গুটিয়ে যায় ছয় ওভার বাকি থাকতেই।
সোফিয়া গার্ডেন্সে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ধুঁকতে দেখা যায় রোহিত শার্মাকে। প্রথম ম্যাচে ৮০ রান করে ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়া গিল এবার ৩০ বলে করেন ৩১ রান। থামে ৪৪ রানের শুরুর জুটি।
রোহিতের ৪৭ বলে ২৬ রানের নড়বড়ে ইনিংস শেষ হয় দলের স্কোর একশ পেরিয়ে। সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পেয়ে টিকতে পারেননি ইশান কিষান।
সেখান থেকে দলকে টানেন কোহলি ও শ্রেয়াস। ৫০ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পথে কুমার সাঙ্গাকারাকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষের মাঠে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড নিজের করে নেন কোহলি। কিন্তু জফ্রা আর্চারের বল তার ব্যাটের কানায় লেগে ডিপ থার্ড ম্যানে ক্যাচটি যেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
কোহলির উইকেটটি ইংল্যান্ডের পেসারদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে। পরের ওভারেই সাকিব মাহমুদ ফিরিয়ে দেন ওয়াশিংটন সুন্দারকে। আর্চার পরপর দুই বলে বিদায় করেন আকসার প্যাটেল ও শিভাম দুবেকে।
২১০ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর শ্রেয়াস ও বুমরাহর ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও, চার বলের মধ্যে শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন অ্যাটকিনসন।
পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৭১ বলে ৬৬ রান করেন শ্রেয়াস। বুমরাহ তিন চার ও এক ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।
ইংল্যান্ডের পেসাররা মিলে নেন ৯ উইকেট। অ্যাটকিনসন ও আর্চারের শিকার তিনটি করে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে জয়ের পর ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা। আগামী রোববার লর্ডসে হবে সিরিজের ফয়সালা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৪৪ ওভারে ২৩৩ (রোহিত ২৬, গিল ৩১, কোহলি ৬৫, কিষান ১, শ্রেয়াস ৬৬, ওয়াশিংটন ২, আকসার ১, দুবে ০, বুমরাহ ২০*, প্রাসিধ ০; আর্চার ১০-০-৪৭-৩, সাকিব ৯-১-৫২-২, অ্যাটকিনসন ৯-১-৫০-৩, রাশিদ ৫-০-৩৪-০, কারান ৬-১-২৩-১, জ্যাকস ৫-০-২১-১)
ইংল্যান্ড: ৪৪.১ ওভারে ২৩৫/৬ (ডাকেট ০, বেথেল ৪, রুট ৯৯*, ব্রুক ১৬, কারান ২৬, বাটলার ১৭, জ্যাকস ৩০, অ্যাটকিনসন ২৩*; বুমরাহ ১০-০-৪৫-১, প্রাসিধ ৯.১-১-৫২-১, গুরনুর ১০-০-৬৭-২, দুবে ৬-০-৩২-১, আকসার ৯-১-৩৫-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: জো রুট